লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালকে ঘিরে ফার্মেসিগুলোতে গলাকাটা ব্যবসা (পর্ব ২)

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আশেপাশে প্রায় ৫০টি ফার্মেসি রয়েছে। এরমধ্যে বেশিরভাগ ফার্মেসির বিরুদ্ধে রয়েছে অতিরিক্ত দামে ওষধ বিক্রয়ের অভিযোগ। তবে হাসপাতাল ঘেঁষে গড়ে উঠা কয়েকটি ফার্মেসি রীতিমত কসাইখানায় পরিণত হয়েছে। সদর হাসপাতালে কোন রোগী আসলেই স্বজনদের সাথে আপন সেজে দফারফা করে ওষধ দিতে থাকে ফার্মেসির মালিক, কর্মচারী কিংবা দালালরা। এরপর রোগী সুস্থ্য হওয়ার একপর্যায়ে স্বজনদের কাছে ওষধ বিক্রয় বাবদ মোটা অংকের টাকা দাবী করে তারা। রোগীর স্বজনরা ওষধের দামের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা দিতে অপারগতা জানালেই চেনা মুখগুলো হয়ে পড়ে অচেনা। মধুর আচরণ ছেড়ে ভংকর রুপ নেই ফার্মেসি মালিকরা। অনেক সময় চাহিদামত বকেয়া টাকা না পেলে রোগী কিংবা স্বজনদের আটক রাখার অভিযোগ রয়েছে ফার্মেসি মালিকদের বিরুদ্ধে। এছাড়াও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষধ রাখা, ফার্মাসিস্ট না থাকা, ওষধের রশিদ না দেয়া ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ রয়েছে একাধিক ফার্মেসির মালিকের বিরুদ্ধে। তবে সবকিছু জেনেশুনেই অজ্ঞাত কারনে নিরব রয়েছে লক্ষ্মীপুর ওষধ প্রশাসন

সরেজমিনে দেখা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল ঘেঁষে ড্রাগ লাইসেন্স ছাড়াই গড়ে উঠেছে কয়েকটি ফার্মেসি। এছাড়াও /৪টি ফার্মেসিতে ড্রাগ লাইসেন্স থাকলেও ফার্মাসিস্ট ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে সেগুলো। আইন অনুযায়ী ড্রাগ লাইসেন্স প্রাপ্ত সকল ফার্মেসিতে ফার্মাসিস্ট থাকা বাধ্যতামুলক। কিন্তু এসব ফার্মেসিগুলোতে ফার্মাসিস্ট ছাড়া দালালদের মাধ্যমে ওষধ বিক্রয় করে ব্যবসা পরিচালনা করছে ফার্মেসি মালিকরা

আরো পড়ুন:– লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা! (পর্ব )

লক্ষ্মীপুর ওষধ প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আশেপাশে একটি বড় ধরনের সিন্ডিকেট রয়েছে। কিছুদিন আগে হাসপাতাল ঘেঁষে গড়ে উঠা একটি ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখার অভিযোগে ফার্মেসিটি সম্প্রতি সিলগালা করে ওষধ প্রশাসন। পরে ফার্মেসি মালিকদের একটি সংগঠনের হস্তক্ষেপে সেটি খুলে দেয়া হয়

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়া রোগী মো. সবুজ শীর্ষ সংবাদকে জানায়, সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে হাসপাতালের গেইটে পৌঁছলে জিল্লাল নামের এক যুবক আমার স্ত্রীর কাছে এসে আমাকে হাসপাতালে ভর্তি, সীট নেয়া, ওষধ এনে দেয়াসহ সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেয়। তাৎক্ষণিক আমাদের কোন আত্মীয়স্বজন না থাকায় জিল্লাল আমাদের আপন হয়ে উঠে এবং আমাকে সহযোগিতা করে। কয়েক ঘন্টা পর মাথার সিটিস্ক্যান করাতে আমাকে নোয়াখালীর একটি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। দুইদিন পর জিল্লাল আমার স্ত্রীকে ডেকে চিকিৎসা খরচ বাবদ ১১ হাজার টাকা দাবী করে। একপর্যায়ে টাকা দিতে অপারগতা জানালে জিল্লল ক্ষিপ্ত হয়ে আমার স্ত্রীকে আটক করার চেষ্টা করে। পরে অসহায় হয়ে সমঝোতার মাধ্যমে জিল্লালকে টাকা দিয়ে আমরা রক্ষা পায়

লক্ষ্মীপুর ওষধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক (ভারপ্রাপ্ত) মো. ফজলুল হক শীর্ষ সংবাদকে জানান, ওষধ বিক্রয়ে রশিদ দেয়া বাধ্যতামূলক। ড্রাগ লাইসেন্স ফার্মাসিস্ট ছাড়া কোন ফার্মেসি পরিচালনা করা সম্পূর্ণ অবৈধ। এছাড়াও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হবে বলে জানায় তিনি। তবে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আশেপাশের ড্রাগ লাইসেন্স প্রাপ্ত কোন ফার্মেসির তালিকা কিংবা তথ্য দিতে রাজি নয় কর্মকর্তা

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আনোয়ার হোসেন শীর্ষ সংবাদকে জানান, রোগীদের বেশিরভাগ ওষধই আমাদের হাসপাতাল থেকে বিনামূল্যে দেওয়া হয়। এছাড়াও হাসপাতালের আশেপাশে কোন ফার্মেসির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত ওষধের দাম, রশিদ ছাড়া ওষধ বিক্রয়সহ যেকোন অভিযোগ পেলে তদন্তপূর্বক আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে

স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. জাহিদ মালেক বলেন, এখন থেকে ফার্মেসিগুলোতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখতে দেয়া হবে না। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন তিনি

….চলবে