লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা! (পর্ব ১)

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা, বহিরাগত দালালদের একচেটিয়া দৌরাত্ম্য, ওষধ রিপ্রেজেনটেটিভদের ভিড় এবং হাসপাতালের আশেপাশের ফার্মেসী গুলোর গলাকাটা ব্যবসায় চলছে (১০০ শয্যা বিশিষ্ট) লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের কার্যক্রম। এছাড়াও হাসপাতালটিকে ঘিরে ইভটিজিং, মাদকাসক্তদের আড্ডাখানা ও বখাটেদের উৎপাত দিনদিন বাড়ছে। অভিযোগ রয়েছে, এই হাসপাতালে আশপাশে ব্যাঙের ছাতার মতো নানা নামে গড়ে উঠেছে অসংখ্য ক্লিনিক ও প্যাথলজি।  ওইসব প্যাথলজি ও ক্লিনিকে অনেক সরকারি চিকিৎসক কন্ট্রাকে রোগীদের অপারেশনসহ চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন।  তারা সরকারি হাসপাতালে নির্ধারিত সময়েও মনোযোগ সহকারে রোগী দেখার সময় পান না।  অথচ সমস্ত অনিয়ম ও কার্যক্রম চলছে প্রকাশ্যে এবং হাসপাতল কর্তৃপক্ষের সামনে।  কিন্তু অজ্ঞাত কারনে ‘দেখেও না দেখার ভান করে বিষয়গুলো এড়িয়ে দিনপার করছেন হাসপাতালটির উর্দ্ধতন কর্মকর্তারা।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে পরীক্ষাগারের (ল্যাবে) আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নতমানের উপকরণ অর্থাৎ মেডিসিন এবং দক্ষ চিকিৎসক ও টেকনিশিয়ানের যথেষ্ট অভাব রয়েছে।  পুরনো যন্ত্রপাতি আর মেডিসিন ব্যবহার করেই রোগীদের নানা জটিল রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে এই হাসপাতালে।  শুধু তাই নয়, রোগীর স্বজনদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে নার্স ও আয়ারা হাতিয়ে নিচ্ছে টাকা।  এতেই হাসপাতলটির চিকিৎসা সেবার বেহাল দশা হয়ে পড়ছে।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী আফজাল হোসেন, রফিকুল ইসলাম, আলেয়া বেগম শীর্ষ সংবাদকে জানান, হাসপাতালটির নার্স ও কর্মচারীদের দুর্ব্যবহারে রোগীরা অতিষ্ঠ।   এখানে ভালো মানের কোন যন্ত্রপাতি না থাকায় বিভিন্ন প্যাথলজি ও ক্লিনিকে গিয়ে টেষ্ট করাতে হয়।  এছাড়াও সদর হাসপাতালে কর্মরত একটি চক্র বিভিন্ন ক্লিনিকে রোগী ভাগিয়ে নিতে তৎপর থাকেন সবসময়।

লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডাক্তার আনোয়ার হোসেন শীর্ষ সংবাদকে বলেন, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নতমানের উপকরণের জন্য উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।  হাসপাতলটির রোগীদের  চিকিৎসা সেবা দিতে আমরা সর্বাত্মক কাজ করে যাচ্ছি।

….চলবে