নেকড়ে ও ভেড়ার গল্প

একদিন বনে ঘুরতে ঘুরতে এক নেকড়ে একটা দলছুট ভেড়াকে একলা পেয়ে গেল৷ নেকড়ের ইচ্ছে হল ওর প্রতি বেশ মহত্ত্ব দেখাবে। ভেড়াটার উপর কোন হামলা না চালিয়ে  বরং কিছু যুক্তি-তক্ক দিয়ে সেটাকে বুঝিয়ে দেওয়া যাক যে ভেড়াটাকে খাওয়ার ব্যাপারটা নেকড়ের হক এর মধ্যেই পড়ে!

সে ভেড়াটাকে বলল, “এই যে মশাই,  গেল বছর, আপনি আমাকে বিস্তর অপমান করেছিলেন।”

ভেড়াটা ভ্যাঁ করে কেঁদে ফেলল, “কিন্তু, আমার তো গত বছর জন্মই হয়নি!” নেকড়েটা তখন বলে, “হতে পারে! কিন্তু আমার মাঠের ঘাস খাও তুমি।”

“না হুজুর!” ভেড়া উত্তর দেয়, “ঘাস খেতে  কেমন তাই আমি জানি না এখনো।”  নেকড়ে ছাড়ে না, “তুই আমার কুয়ো থেকে জল খাস।”

 “না, না,”  আর্তনাদ করে ওঠে ভেড়াটা, “আমি এখনো এক ফোটা জল ও মুখে দিইনি৷ আমি তো এখনো শুধু  দুধ খাই!”

“হুম! আমার সব অভিযোগ এর ভালোই জবাব তুই দিয়ে দিয়েছিস! কিন্তু, তা বললে তো আর আমার পেট চলবে না।” এই বলতে বলতেই ভেড়াটার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ে শয়তান নেকড়ে তাকে টুকরো টুকরো করে খেয়ে ফেলল।

নীতিশিক্ষাঃ অত্যাচারী সবসময়ই অত্যাচার করার জন্য কিছু না কিছু কারণ খুঁজে বের করে ফেলে।

রাখাল সাজা নেকড়ে

ধরা খাওয়ার ভয়ে এক নেকড়ে কিছুতেই ভেড়ার পালের কাছ ঘেঁষতে পারছে না৷ তখন জামা-কাপড় চাপিয়ে সে এক রাখাল সেজে নিল৷ এইবার সে সোজা চলে এল ভেড়াগুলোর পাশে। আসল রাখাল তখন ঘুম লাগাচ্ছে আর ভেড়াগুলো নিশ্চিন্তে ঘাস খাচ্ছে। মুস্কিলটা হল ভেড়া পাকড়াতে গেলে অন্তত কোন একটাকে দলছুট করা দরকার! নেকড়ে-রাখাল তাই আসল-রাখাল এর মত হুস-হাস আওয়াজ করে ভেড়াগুলোকে এদিক ওদিক ভাগানোর তাল করল! তাতে লাভ হল এই – গলা দিয়ে নেকড়ের হাউ-হাউ বেরিয়ে এল ব্যাস, রাখাল গেল জেগে৷ পিটুনির চোটে নেকড়ে শেষ!

নীতিশিক্ষাঃ ছদ্মবেশ ধরে কাজ করতে গেলে বাড়াবাড়ি হয়ে যাবেই আর সব পণ্ড হবে।