লক্ষ্মীপুরের সেই ভুতুড়ে বাড়ি এখন পর্যটন কেন্দ্র : উদ্বোধন করলেন ডিসি

নিজস্ব প্রতিবেদক :  

লক্ষ্মীপুরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সঙ্গে মিশে আছে ‘দালাল বাজার জমিদার বাড়ি । সম্প্রতি প্রাচীন এই জমিদার বাড়িটি সংস্কারের করে দালাল বাজার জমিদার বাড়ি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেই আজ বুধবার বিকাল ৪টায় পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে শুভউদ্বোধন করেন লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক (ডিসি) অঞ্জন চন্দ্র পাল।

এসময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সার্বিক শফিউজ্জামান ভুঁইয়া, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজস্ব রাশেদ ইকবাল, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার রেদওয়ান আরমান শাকিল, রায়পুর উপজেলা পরিষদরে চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মামুনুর রশিদ, রায়পুর পৌর মেয়র হাজী ইসমাঈল হোসেন খোকন, দালাল বাজার ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সাবেক জেলা মুক্তিযুদ্ধা ইউনিটের ডেপুটি কমান্ডার বীরমুক্তি নুরুজ্জামান মাস্টার প্রমুখ।

জেলা প্রশাসন জানায়,  বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অর্থায়নে দালাল বাজার জমিদার বাড়িতে আগত পর্যটকদের গাড়ি পার্কিং এর স্থান, বসার জন্য বেঞ্চ, বসার জন্য গোলঘর, প্রবেশ পথের রাস্তার কাজসহ দৃষ্টিনন্দন স্থাপনাসমূহের উদ্বোধন করা হয়েছে।

লক্ষ্মীপুরের ইতিহাস অনেক পুরোনো এ জমিদার বাড়ী। যার প্রমাণ স্বরূপ জেলার বিভিন্ন স্থানে বেশ কিছু ঐতিহাসিক স্থাপনা ও নিদর্শন দেখা যায়। এর মধ্যে সদর উপজেলার দালাল বাজার ‘জমিদার বাড়ি’। প্রায় ২৫০ বছর আগে নির্মাণ করা জমিদার বাড়িটি এখনও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর পাশেই রয়েছে ইতিহাস বিজড়িত বিশাল এক দিঘি। যার নাম ‘খোয়া সাগর দিঘি’। প্রায় শত বছর ধরে অযতেœ আর অবহেলায় পড়ে থাকা ঐতিহাসিক এই দু’টি নিদর্শন দুটি এখন পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে।

জানা যায়, বহু আগ থেকেই লক্ষ্মীপুর জেলাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা প্রায়ই এখানে ঘুরতে আসেন। চলচ্চিত্রের শূটিংয়ের ক্ষেত্রেও নির্মাতাদের অনেকের নিকট পছন্দের জায়গা এ দুটি স্থান। ইতোমধ্যে এ দু স্থানে বেশ কয়েকটি নাটক ও ছায়াছবির শূটিং হয়েছে।

লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার দালাল বাজার থেকে প্রায় ২৫০ গজ পূর্বে ঢাকা-রায়পুর মহাসড়কের উত্তর পাশে ‘খোয়া সাগর দিঘি’। এ দিঘিতে জমির পরিমাণ প্রায় ২২ একর। দিঘি বরাবার মহাসড়কের দক্ষিণ পাশে জমিদার বাড়ির মঠ, স্থানীয়দের কাছে যা মঠবাড়ি বলে পরিচিত।

দালাল বাজার থেকে দক্ষিণ দিকে যাওয়ার প্রধান সড়কের পাশেই পুরোনো জমিদার বাড়িটি। পাঁচ একর জমির ওপর নির্মিত এ জমিদার বাড়িতে রয়েছে পরিত্যক্ত রাজ গেইট, রাজ প্রাসাদ, অন্দরমহল প্রাসাদ, শান বাঁধানো ঘাট, নাট মন্দির, পূঁজা মন্ডপ, বিরাটাকারের লোহার সিন্দুক, কয়েক টন ওজনের লোহার ভীম, বিশাল বাগান ও জমিদার বাড়ির প্রাচীর প্রভৃতি। এছাড়াও রয়েছে ছোট-বড় তিনটি পুকুর। দীর্ঘদিন অরক্ষিত থাকায় বিচার আসন ও নৃত্য আসনটি চুরি হয়ে যায় বলে জানা গেছে।

স্থানীয়রা জানায়, প্রায় ৪শ’ বছর আগে জনৈক লক্ষ্মী নারায়ণ বৈষ্ণব কলকাতা থেকে লক্ষ্মীপুরে কাপড়ের ব্যবসা করতে আসেন। তার উত্তর পুরুষরা ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর বাণিজ্যিক এজেন্সী এবং পরে জমিদারী লাভ করেন। ১৭৬৫ সালে সর্বপ্রথম লক্ষ্মী নারায়ণ বৈষ্ণবের নাতি (পুত্রের সন্তান) গৌর কিশোর রায় রাজা উপাধী লাভ করেন। সেই সময় ‘খোয়া সাগর’ নামক দিঘিটি খনন ও জমিদার বাড়িটি নির্মাণ করা হয়।