আশ্বিনে লক্ষ্মীপুরে পিঠা বিক্রির ধুম

নিজস্ব প্রতিবেদক :

পৌষ-মাঘ এই দুই মাস শীতকাল। আর শীতকাল মানেই হচ্ছে পিঠা খাওয়ার ধুম। এ সময় যে পিঠাটি খুব সহজে পাওয়া যায় তা হলো ভাপা পিঠা। সুস্বাদু এই পিঠা চালের গুড়ো ও গুড় দিয়ে তৈরি করা হয়। অনেকেই স্বাদ বৃদ্ধির জন্য নারিকেলের শাঁস দিয়ে থাকেন। তাছাড়া গরম গরম ভাপা পিঠা খেতে খুবই মজা।

ভাপা শীতকালিন পিঠাদের মধ্যে অন্যতম। শতিকালিন এই পিঠাটি এবার আশ্বিন মাসেই তৈরি হচ্ছে লক্ষ্মীপুরে। জেলার বিভিন্ন স্থানে কয়েকটি ভ্রাম্যমান এক চাকার ভ্যানে করে পিঠাটি বিক্রি করা হচ্ছে। বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত দোকানে থাকে ক্রেতাদের ভীড়ও।

সরেজমিনে জেলার কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা যায়, আতপ চালের গুড়িতে লবণ ও হালকা পানি ছিটিয়ে মেখে নেওয়া হচ্ছে। পরপর চালনিতে সেগুলোকে চেলে নেওয়া হয়। এতে চালের গুড়া ঝুরঝুরে হয়ে থাকে। পরে চেলে রাখা চালের গুড়ি একটি বাটিতে নিয়ে উপরে গুড় ও নারিকেশের শাঁস দেওয়া হচ্ছে। তার উপর পাতলা সুতির কাপড় দিয়ে বাটিটি ঢেকে দেওয়া হয়। তারপর গরম পানির হাঁড়ির ঢাকনায় থাকা ছিদ্রের মধ্যে উল্টো করে বাটিটি বসানো হয়। ফুটানো পানির বাস্পে ৮-১০ মিনিটের মধ্যে তৈরি হয়ে যায় ভাপা পিঠা। পরবর্তিতে সে পিঠা বিক্রি করছেন ক্রেতাদের নিকট।

জানা গেছে, আতপ চালের কেজি ৩৫, নারিকেল জোড়া ৫০, গুড় ৮০ ও তেল ৬৫ টাকা করে ক্রয় করছেন পিঠা দোকানিরা। তারা এক কেজি চালের গুড়া দিয়ে তৈরি করেন ১২টি ভাপা পিঠা। সাথে গুড়, নারিকেলের শাঁস ও তেলসহ অন্যান্য কাঁচামাল। আর এই ১২টি পিঠা তৈরিতে খরচ হয় ৮০ থেকে ১০০ টাকা। আর বিক্রি করেন ১২০ টাকা।

 

পিঠা বিক্রেতা মো. মাসুদ আলম (২৮) শীর্ষ সংবাদকে বলেন, বছরের অন্য সময় বিভিন্ন কাজ করলেও শীতকালে কয়েকটি জেলায় ঘুরে ভাপা পিঠা বিক্রি করেন। এবার শীতকালের পূর্বে আশ্বিন মাসের শুরু থেকেই পিঠা বিক্রি করছেন লক্ষ্মীপুরে। কারন বর্তমানে নিজ জন্মস্থান কুড়িগ্রামের রৌমারিতে তেমন একটা কাজ নেই। তবে পুরোদমে শীত না পড়ায় বিক্রি কিছুটা কম বলেও জানান মাসুদ। তাছাড়া তাঁর দুই ভাই মো. জুনাইদ ও মো. বাতেন চাঁদপুরে পিঠা বিক্রি করছেন। আর এখানকার আয় দিয়েই চলে তাদের সংসার।

অন্য এক পিঠা বিক্রেতা আরিফ হোসেন শীর্ষ সংবাদকে বলেন, জেলার ৫টি উপজেলায় তিনিসহ ১৭জন বিক্রেতা ভ্রাম্যমান ভ্যানে করে ভাপা পিঠা বিক্রি করছেন। তবে শীত কম পড়ায় এখন ১’শ থেকে ১’শ ৩০টি পিঠা বিক্রি করছেন। যার প্রত্যেকটির পিঠার মূল্য দশ টাকা। চাহিদা অনুযায়ী বিক্রি না হওয়ায় প্রতিদিনই পিঠা তৈরির বেশিরভাগ কাঁচামাল নষ্ট হয়ে যায়। এজন্য দৈনন্দিনের খরচ পোষাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। তবে শীত বাড়লে বিক্রি ও লাভ দুটোই বেশি হবে বলে জানান তিনি।

সহিদ উল্লা নামে এক বৃদ্ধ শীর্ষ সংবাদকে বলেন, আশ্বিনের সন্ধ্যায় ভাপা পিঠা দেখে লোভ সামলাতে পারিনি তাইতো ফুটপাতে দাঁড়িয়ে পিঠা খেয়েছি। বহুদিন পরি রাস্তায় পিঠা খেতে খুব ভালোই লেগেছে। পরিবারের সদস্যদের জন্য কয়েকটি ভাপা পিঠা বাসায় নিয়ে গিয়েছেন তিনি।

পিঠা খেতে আসা রুবেল হোসেন শীর্ষ সংবাদকে বলেন, কোন ঝামেলা ছাড়াই হাতের নাগালে ভাপা পিঠা পাচ্ছি। তাছাড়া সুস্বাদু এই পিঠাটির দামও কম নিচ্ছে দোকানিরা। এজন্য খেয়েছেন কয়েকটি পিঠা। তবে আগের মতো স্বাদ নেই পিঠাতে বলেও জানান তিনি।

শীর্ষ সংবাদ/এফএইচ