লক্ষ্মীপুরে ঢোলের আদলে দুর্গা মঞ্চ

নিজস্ব প্রতিবেদক :

ঢোল বাংলাদেশের অন্যতম লোক বাধ্যযন্ত্র। এটি পহেলা, বৈশাখ, নৌকাবাইচ, জারি, বাউল আর যাত্রাগান ও হিন্দুদের পূজা এবং বিভিন্ন আনন্দ উৎসবে বাজানো হয়। তাছাড়া এই প্রাচীন বাধ্যযন্ত্রটি বাঙালি জাতির ঐতিহ্যও বটে।

এবার এই ঢোলের আদলে  দূর্গা দেবীর মঞ্চ সাজিয়েছেন লক্ষ্মীপুরে জিউর আখড়া মন্দির কর্তৃপক্ষ। হিন্দু ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব দূর্গা পূজাকে দৃষ্টিনন্দন ও আকর্ষনীয় করতে মঞ্চটি সাজিয়েছেন। ইতিমধ্যে মঞ্চটি দেখতে ষষ্টি পূজা থেকে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ভক্ত ও দর্শনার্থীরা ভীড় করছেন মণ্ডপটিতে।

মন্দির কর্তৃপক্ষ জানান, দর্শনার্থী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের নিকট আকর্ষনীয় করতে প্রতিবছর বিভিন্ন আঙ্গিকে মঞ্চ সাজানো হয়। এবার তারই ধারাবাহিকতায় ঢোলের আদলে মঞ্চ সাজানো হয়েছে। তাছাড়া পুরো মণ্ডপকে আকর্ষনীয় করতে দৃষ্টিনন্দিত আলোকসজ্জা করা হয়েছে। মঞ্চটিতে বড় ১টি ঢোল, মাঝারি ২টি ও ছোট ১৩টি ঢোলের আদলে তৈরি করা হয়েছে মঞ্চটি। এছাড়াও মণ্ডপে প্রবেশের মূল গেইটে রয়েছে বিশাল লম্বাকৃতির একটি গিটার ও দু’টি ঢোল।

আরো জানা যায়, পূজা মণ্ডপপি ভক্ত ও দর্শনার্থীদের কাছে আনন্দ দায়ক করতে প্রতিদিনই কনসার্টের আয়োজন করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষ। এছাড়াও আবৃত্তি ও কুইজ প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে বিজয়ীদের তাৎক্ষনিক পুরস্কৃত করা হচ্ছে।

শুভ্রা মজুমদার এক দর্শনার্থী বলেন, প্রতিবছরই এই মণ্ডপটি দৃষ্টিনন্দিতভাবে সাজানো হয়। এবারো ঢোলের আদলে সাজানো হয়েছে। তাই পূজা দিতে ও ম-পটি দেখতে আসছি। অনেক দর্শনার্থী ও হিন্দ ধর্মালম্বীদের দেখে অনেক ভালো লাগছে।

মন্দিরটির সহ-সভাপতি নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, জেলার সেরা পূজা মণ্ডপটি তৈরি করার জন্য প্রতি বছরই চেষ্টা করা হয়। যদিও এই প্রতিযোগিতায় প্রচুর অর্থ ব্যয় হয়। এছাড়া এতে কোন পুরস্কারও নেই। তবুও দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে ভক্ত ও দর্শনার্থীদের আনন্দ দেওয়ার জন্যই এতসব আয়োজন।

তিনি আরো বলেন, এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের পাশাপাশি হিন্দ ধর্মলম্বীদের মধ্য থেকে ৬৫ জন স্বেচ্ছাসেবক মণ্ডপে রয়েছেন। তারা ভক্ত ও দর্শনার্থীদের নিরাপত্তায় কাজ করছেন।

উল্লেখ্য, লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলায় ছোট-বড় ৭৮টি পূজা মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাৎসব পালিত হচ্ছে। এই উৎসবকে ঘিরে মণ্ডপগুলোতে রয়েছে হিন্দ সম্প্রদায়ের স্বেচ্ছাসেবক। তাছাড়া যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।

শীর্ষ সংবাদ/এফএইচ