লক্ষ্মীপুরে ইউপি সদস্য হত্যা ঘটনায় মামলা, আটক-১

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরে ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম মিরনকে (৪২) গুলি করে হত্যা ঘটনায় মামলা হয়েছে। গতকাল সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় চন্দ্রগঞ্জ থানায় অজ্ঞাতনামা একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্ত্রী তাহমিনা আক্তার পপি। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সাংসদ। এদিকে বিষয়টি নিয়ে জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও হয়েছে আলোচনা। সেখানেও দোষীদের দ্রুত গ্রেফতারের মাধ্যমে শাস্তি নিশ্চিতের কথা বলা হয়েছে। তবে পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সন্দেহজনকভাবে রিপন নামে এক যুবককে আটক করেছেন।

নিহত মিরন সদর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গ্রামের মৃত মুনছুর আহমদের ছেলে। তিনি ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক ও ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ছিলেন।

পুলিশ জানায, গত শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার আলাদাতপুর গ্রামের আবুল হোসেনের মুদি দোকানে চার মুখোশধারী মিরনকে গুলি করে হত্যা করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করে সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতের অভিযোগে গতকাল সোমবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে রিপন হোসেন নামে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী থানায় একটি অজ্ঞাতনামা হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।

নিহতের স্বজনরা বলেন, স্থানীয় কয়েকজনের সঙ্গে পূর্ব থেকেই বিরোধ রয়েছে মিরনের। সে বিরোধের জেরে এই হত্যাকা- ঘটতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা। তবুও তদন্ত সাপেক্ষে প্রকৃত দোষীদের বিচারের দাবি করেন তারা।

তারা আরোও বলেন, মিরন সৎ হওয়ায় ব্যক্তি জীবনে হতে পারেননি সম্পদশালী। করতে পারেননি কোন ব্যাংক ব্যালেন্সও। তাইতো পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন স্ত্রী ও বৃদ্ধা মা। কি হবে তাদের, কে দেখবেন মিরনের আদরের দুই শিশু সন্তানের।

স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আহছানুল কবির রিপন বলেন, হাজীরপাড়া ইউপির পূর্ব সৈয়দপুর বাজারের একটি চায়ের দোকানে বসে ছিলেন খোরশেদ আলম। এ সময় পাঁচজন দুর্বৃত্ত সিএনজি চালিত অটোরিকশায় করে সেখানে গিয়ে তাঁকে গুলি করে। একটি গুলি গলায় ও অন্যটি পায়ে লাগে। তাদের প্রত্যেকের মুখে মুখোশ লাগানো ছিল। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মিরন মারা যায়। এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য তিনিও প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান (পিপিএম-সেবা) বলেন, বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে। তবে খুব দ্রুত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি জানা যাবে। তখন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেন, প্রকাশ্যে একজন ইউপি সদস্যকে হত্যার ঘটনাটি দুঃখজনক। দ্রুত এই হত্যাকা-ের সাথে জড়িতদে গ্রেফতারের জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন এই সাংসদ।

শীর্ষ সংবাদ/এফএইচ