আয় কম তবুও প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত লক্ষ্মীপুরের কারিগররা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসব। কয়েকদিন পরই কৈলাশ থেকে মর্ত্যে আসবেন দেবী দুর্গা। তাইতো লক্ষ্মীপুরের সবকয়টি মণ্ডপে দেবী দুর্গার বন্দনায় প্রস্তুতি ও প্রতিমা তৈরির কাজ চলছে। দুর্গাপূজার পূর্বে প্রতিবছরই ব্যস্ত সময় কাটাতে হয় প্রতিমা শিল্পীদের। আর এ কাজগুলো বংশ পরম্পরায় করছেন তারা।

এদিকে শারদীয় দুর্গাৎসবকে ঘিরে বাজারের দোকানগুলোতে পড়েছে কেনাকাটার ধুম। বিভিন্ন দোকান ঘুরে নিজেদের পচন্দের পোশাকটি ক্রয় করছেন নারী-পুরুষ, শিশু ও বৃদ্ধসহ হিন্দু ধর্মালম্বীরা। দিপু মজুমদার নামে একজন বলেন, পাঞ্জাবী, শার্ট, প্যান্ট ও জুতা ক্রয় করেছেন তিনি। এসব পরিধান করে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের সাথে বিভিন্ন পূজা মন্ডপে ঘুরে বেড়াবেন। দেখবেন প্রতিমা ও মণ্ডপের সৌন্দর্য আর করবেন পূজার আর্চনা।

জানা গেছে, খড়গুলোকে একত্রিত করে বেঁধে তার মধ্যে এঁটেল মাটির গভীর প্রলেপ টেনে তৈরি করা হয় একেকটি ভাস্কর্য। এছাড়াও কাঠ, বাঁশ ও সুতলি ব্যবহার হয় প্রতিমাকে পূর্ণরুপ দিতে। মৃতশিল্পীদের অভিজ্ঞতা, মেধা আর নৈপুণ্যে প্রকাশ পায় এ শিল্পের নান্দনিকতা।

আরো জানা যায়, শ্যাম সুন্দর জিউর আখড়া, আনন্দময়ী কালী বাড়ি, শাঁখারী পাড়া রক্ষাকালী বাড়ি, চন্দ্রগঞ্জ দেবালয় দুর্গা পূজামণ্ডপ, দালাল বাজার গোবিন্দ মহাপ্রভু জিউ আখড়া দুর্গা পূজামণ্ডপসহ জেলার ৫টি উপজেলায় ছোট-বড় ৭৮টি মণ্ডপে শারদীয় দুর্গাৎসব পালিত হবে।

প্রতিমা শিল্পী অরুন পাল বলেন, যথাসময়ে মণ্ডপে মুর্তি স্থাপনের লক্ষ্যে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত কাজ করছেন তারা। ইতিমধ্যে মাটির কাজ শেষ পর্যায়ে। দুই একদিনের মধ্যে রং তুলির আঁচড় পড়বে মুর্তিতে। তবে প্রয়োজনীয় কাচাঁমালসহ শ্রমিকের মুজুরি বেশি হওয়ায় পূর্বের মতো লাভ হয় না তাদের। তারপরেও প্রতিমা তৈরি করছেন। এ কাজটি তারা বংশ পরম্পরায় করে আসছেন।

মণ্ডপকে দর্শনার্থীদের নিকট আকর্ষণীয় করতে রাত-দিন কাজ করে যাচ্ছেন কারিগররা। তেমনি এক কারিগর বলরাম পোদ্ধার। তিনি বলেন, কাট, কর্কশিট, বাঁশ, কাপড় ও বিভিন্ন রংয়ের সমন্বয়ে দৃষ্টিনন্দিত করার চেষ্টা করছেন পূজামণ্ডপ। সারাক্ষণই হচ্ছে বৃষ্টি, তবুও যথাসময়ে মণ্ডপ প্রস্তুত করতে পারবেন বলে আশা ব্যক্ত করেন তিনি।

পূজা উদযাপন পরিষদ লক্ষ্মীপুর জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক স্বপন দেবনাথ বলেন, প্রতিমা শিল্পী ও কারিগরদের সাথে হিন্দু সম্প্রদায়ের স্বেচ্ছাসেবকরা দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। নির্দিষ্ট সময়ের আগেই মণ্ডপের কাজ সম্পূর্ণ হবে। এ জেলায় পূর্বে কখনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। আশা করছি এবারো ঘটবে না। ইতিমধ্যে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকদের সাথে বৈঠক করেছেন। নির্বিঘ্নে পূজাৎসব পালনের লক্ষ্যে যথেষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন তারা।

জেলা পুলিশ সুপার ড. এ এইচ এম কামরুজ্জামান (পিপিএম-সেবা) বলেন, পূজা মন্ডপগুলো জেলাজুড়ে দুর্গাপূজা উপলক্ষে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহন করা হয়েছে। সেখানে পুলিশ-র‌্যাব সদস্যদের পাশাপাশি থাকবে সাদা পোশাকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। আশা করছি অন্য সময়ের মতো এবারও কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গাৎসব পালিত হবে।

শীর্ষ সংবাদ/এফএইচ