লক্ষ্মীপুরে পুলিশের সফলতা : ৩টি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
খুন ও ডাকাতিসহ ৩টি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে লক্ষ্মীপুর মডেল থানার পুলিশ। একই সাথে ডাকাতি কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র, গুলি ও লুন্ঠিত মালামাল সফলতার সাথে উদ্ধার করে পুলিশ।

গুরুত্বপূর্ণ তিনটি ঘটনা হল- লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জ চরভূতা গ্রামে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া গৃহবধু শিল্পী আক্তার খুনের ঘটনায় ৩ আসামীকে গ্রেপ্তার এবং দেবরের স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দীর মাধ্যমে ঘটনার রহস্য উদঘাটন হয়েছে। সদর উপজেলার চন্দ্রগঞ্জে বস্তাবন্দী যুবকের খুনের রহস্য উদঘাটন একই সাথে মোটরসাইকেল উদ্ধারসহ ১ জন আসামীর স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দী নেওয়া হয় এবং লক্ষ্মীপুর সদর থানার ডাকাতি ও খুনসহ ডাকাতি ঘটনার রহস্য উদঘাটন, ডাকাতিতে ব্যবহৃত অস্ত্র ও গুলিসহ লুন্ঠিত মালামাল উদ্ধার করা হয়। দুই ডাকাত গ্রেপ্তার ও আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেয়।

একটি প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে শীর্ষ সংবাদকে বিষয়টি নিশ্চিত করে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ।

পুলিশ জানায়, সম্প্রতি ঘটে যাওয়া পশ্চিম লক্ষ্মীপুর গ্রামের ডাকাতদের হামলায় গৃতকর্তা আতিক উল্ল্যাহ হত্যা ঘটনার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকা থেকে মো. শান্ত (২৪) নামে এক ডাকাতকে গ্রেফতার করে। পরে শান্তর তথ্য মতে ডাকাত দলের অন্য সদস্য তার ভাতিজা মো. হৃদয় হোসেনকে (১৮) গ্রেফতার করে। উদ্ধার করা হয় একটি এলজি, দুই রাউন্ড কার্তুজ ও লুন্ঠিত মালামাল। এছাড়াও আতিক উল্লাহ হত্যা ঘটনার সাথে জড়িতের কথা স্বীকার করে লোমহর্ষক বর্ণনা প্রদান করেন।

এদিকে পুলিশ চন্দ্রগঞ্জ থানার মেহরাজ হত্যা মামলার আসামী আব্দুলাহ আল মামুনকে (১৯) নোয়াখালীর সুধারাম থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করে। জিজ্ঞাসাবাদে মামুন নিজের ও বন্ধু তানভীর এবং রাশেদ নামে দু’জনের হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার ভিষয়টি স্বীকার করেন। এসময় তার স্বীকারোক্তিতে নোয়াখালীর একটি মাদ্রাসা থেকে হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত মোটর সাইকেল উদ্ধার করেন।
স্বীকারোক্তিতে মামুন জানায়, বৃষ্টি নামক একটি মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কের জেরে বন্ধু তানভীরের সাথে ভিকটিম মেহরাজের মধ্যে দ্বন্ধ হয়। সেই দ্বন্ধের জেরে চেতনা নাশক ওষধ কোল্ড ডিংসের সাথে পান করানো হয়। এতে মেহরাজ অজ্ঞান হয়ে পড়লে শ্বাসরোধে করে হত্যা করা হয়। পরে তার লাশটি চন্দ্রগঞ্জের টক্কার পুল নামক স্থানে একটি খালে পেলে দেওয়া হয়

অন্য ঘটনাটি হলো, লক্ষ্মীপুরের ভবনীগঞ্জে চরভূতা গ্রামের গৃহবধু শিল্পী আক্তার হত্যাকান্ড। চার বছরের ভাতিজা শিপনের দুস্টামি নিয়ে ভাবীর সাথে কথা কাটাকাটি হয় দেবর মো. নিরবের। সে কথাকাটাকাটিকে কেন্দ্র করে নিরব কাঠের তৈরি হাতপাখা দিয়ে ভাবীর মাথায় আঘাতসহ তলপেটে লাথি মারে। এতে ঘটনাস্থলে মারা যায় ওই গৃহবধু। এমনি পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে বলেছেন দেবর নিরব। এ ঘটনায় গৃহবধুর বড় ভাই আমির হোসেন থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
এ ঘটনায় পুলিশ মামলার মূল আসামী মো. নিরব (২০), গৃহবধুর শশুর মুসলিম মিয়া (৫৫) ও শাশুড়ি হাজরা বেগমকে (৪৫) নোয়াখালী ও কুমিল্লা থেকে গ্রেফতার করা হয়।