অভাবে স্বভাব নষ্ট

স্বচ্ছ কাঁচের গ্লাসে এক মুঠো নিমপাতার গুড়ো দিয়ে শরবত বানানো হলো। বাহিরে থেকে নিমপাতার সেই শরবতের স্বাদ অনুভব করা যাবে না। যখন কেউ একজন সেই শরবত পান করবে ঠিক তখনই বুঝতে পারবে শরবত মিঠা নাকি তিতা।
,
জনবহুল, ইট পাটকেলের দালানে ঘেরা ঢাকা শহর। প্রতি বছর হাজারো মানুষ এই শহরে এসে ভির জমায় একটা কাজের সন্ধানে। স্কুল কলেজ পড়ুয়া অনেক ছেলে মেয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে আসে এই ঢাকা শহরে। একটু স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকতে। কিন্তু শহরের মানুষের মন বড় বড় দালানের মতোই শক্ত। এই শহরে কেউ না খেয়ে মারা গেলেও তার দিকে কেউ মুখ ফিরে তাকায় না।
,
সবাই ব্যস্ত নিজেকে নিয়ে, নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে। এই শহরের অলিতে গলিতে কত গার্মেন্টস শ্রমিক বোন ধর্ষিত হয়। তার হিসেব গুনে শেষ করা যাবে না। কত গার্মেন্টস শ্রমিক ভাই ছিনতাই এর সম্মুখীন হয় তার হিসেব করা বেমানান।
,
গ্রাম থেকে সদ্য পালিয়ে আসা দুটি ছেলে মেয়ে জামাল ও রুমানা। তারা একে অপরকে অনেক ভালোবাসে। দুটি পরিবারেরর কেউ তাদের ভালোবাসা মেনে নিবে না। তাই তারা গ্রাম থেকে পালিয়ে ঢাকা শহরে এসেছে। একটু স্বাধীন ভাবে বেঁচে থাকতে। তাদের পালাতে সাহায্য করছে বন্ধু আর বান্ধবি গুলো।
,
রুমানা বাড়ি থেকে পালানোর সময় মোটা অংকের কিছু টাকা নিয়ে এসেছে। জামাল তেমন কিছু নিয়ে আসতে পারেনি। জামাল মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান। রুমানা একটু প্রভাবশালী পরিবারের মেয়ে। দুজনে একই কলেজে এক সাথে পড়ালেখা করতো। জামাল একটু চাপা স্বভাবের ছেলে ছিলো। মেয়েদের থেকে একটু দূরে দূরে থাকতো। রুমানার এই চাপা স্বভাবের ছেলেটাকে ভালো লেগে যায়।
,
“আজ থেকে ১ বছর আগে”
,
কলেজ ক্যাম্পাসে সবাই আড্ডা দিচ্ছে। জামাল ক্লাসের রুমে চুপটি করে বসে বই পড়ছে। রুমানা এমন সময় ক্লাস রুমে আসলো। দেখতে পেলো জামাল একলা বসে আছে।
,
– এই যে মিস্টার কেমন আছেন?
– ভালো আছি। আপনি কেমন আছেন?
– ভালো আছি। তুমি সব সময় চুপচাপ থাকো কেনো?
– কোলাহল আমার ভালো লাগে না।
– ভালো লাগে না কেনো?
– ভালো না লাগার কোনো কারন নেই।
– আমরা কি বন্ধু হতে পারি?
– না, আমি মেয়েদের সাথে বন্ধুত্ত করি না।
– ওই তুমি এমন কেনো? আমি জোর করেই বন্ধুত্ত করবো।
– ইস বললেই হলো। আপনি এখান থেকে যান বলছি।
– যাবো না। তুমি কি করবে?
– আচ্ছা ঘাড় তেরা মেয়ে তো আপনি।
– হুম আমি ঘাড় তেরা। তোমার সাথে এই বসলাম।
,
রুমানা জামালের সিটে বসে পড়লো। একটু পড়ে স্যার ক্লাসে আসলো। আচ্ছা মেয়ে তো। সত্যি সত্যি আমার পাশে বসলো। তবে মেয়েটার ভয়েসটা অনেক মিষ্টি। সেদিনের পর থেকে রুমানা প্রায়শই জামালের পাশে বসতো। এখন আর জামালের খারাপ লাগে না। বরং ভালোই লাগে। এখন আর রুমানার সাথে তর্ক করে না টুকটাক কথাবার্তা বলে।
,
– রুমানা কেমন আছো?
– আজ সূর্য কোনো দিকে উঠছে।
– ধুর তুমি শুধু ফাইজলামো করো।
– আগ বাড়িয়ে কোনো দিন কথা বলোনি তো তাই আশ্চর্য হলাম।
– তাই বুঝি, বাসায় সবাই কেমন আছে।
– সব ভালো, আর তোমার?
– হুম সব ভালো।
,
রুমানা আজ সত্যি বড্ড অবাক হয়েছে। জামাল কারো সাথে তেমন আগ বাড়িয়ে কথা বলে না। আজ হঠ্যাৎ আগ বাড়িয়ে কথা বলা। তার উপর আবার তুমি করে বলা। সত্যি সব কিছু তার স্বপ্নের মতো মনে হচ্ছে। জামাল পাশে বসে আছে। নিজের শরীরের একটা চিমটি কেটে দেখলো। নাহ সে স্বপ্ন না বাস্তবেই জামালের সাথে বসে আছে। তাহলে কি সব সত্যি। আজ জামাল রুমানার একটু গা ঘেসে বসেছে।
,
অনেক ভালো লাগতেছে আজ রুমানার। সেদিন কলেজ থেকে বাড়ি ফেরার পরে হঠ্যাৎ করে জামাল অসুস্থ হয়ে যায়। শরীরের প্রচন্ড জ্বর আসে। টানা পাঁচ দিন কলেজে যেতে পারে না। অন্য দিকে রুমানার বেহাল অবস্তা। যে ছেলেটা একদিন কলেজ আসা বন্ধ দেয় না। সে ছেলেটা একটা পাঁচ দিন কলেজে আসলো না। তার কোনো বড় ধরনের সম্যসা হয়নি তো। তার জন্য আমার মন আনচান আনচান করে কেনো। তবে কি সে আমার মন চুরি করে নিয়েছে।
,
পাঁচ দিন পরে জামাল কলেজে আসলো। রুমানা দূরে থেকে জামালকে ক্লাসে দেখে দৌড়ে আসলো।
,
– তুমি হঠ্যাৎ কোথায় হারিয়ে গিয়েছিলে।
– শরীর অসুস্থ ছিলো তাই কলেজে আসতে পারি নাই। তারপর কেমন আছো।
– ভালো নাই। কাউকে খুব মিস করছিলাম।
– তাই বুঝি।
– একটা কথা বলবো?
– একটা না, দশটা বলো।
– তুমি কোনো ছেলেকে লাভ করো?
– হ্যা করি, আর কিছু জানতে চাও।
– না, এই কথাটাই জানতে ইচ্ছে হলো তাই জিজ্ঞেস করলাম।
,
একটু পরে স্যার ক্লাসে আসলো। রুমানা লক্ষ্য করলো জামালের মনটা খারাপ। মুখটা গুমরা করে বসে আছে। ক্লাস শেষে যখন সবাই বাড়ি যাবে তখন রুমানা জামালের হাতে একটা চিরকুট ধরিয়ে দিয়ে বাড়ি চলে গেলো। রাতে চিরকুট খুলে দেখে সেখানে লেখা!
,
আমার মেঘলা আকাশের মেঘ তুমি
গভীর রাতে জ্যোৎস্না ভরা আলো,,
জীবনের শুরু থেকে মরনের শেষ দিনে
তোমায় বাসি অনেক অনেক ভালো,,
মুখে কত বলতে চেয়েছি হয়নি বন্ধু বলা
তোমার সাথে শেষ বিকেলে একটু পথ চলা,,
সুখের সাথী নাইবা হলাম রেখো দুঃখে পাশে
তোমার মুখের একটু হাসিতে আমার হৃদয় হাসে,,
চিঠির জবাব চিঠি দিয়ে জানিয়ে দিয়ো তুমি
তোমার চিঠির অপেক্ষায় এপাশে রুমানা আমি,,
,
চিরকুটটা পড়ে জামালের মন খলখল করে হেসে উঠলো। এর পর থেকে তাদের সম্পর্কটা ভালোবাসায় রুপ নেয়। প্রতিদিন আড্ডা মজা হাসি তামাসা সব মিলিয়ে জীবনটা অনেক রঙিন মনে হচ্ছিলো তাদের। কিন্তু জীবনের সমীকরণ কোনো সূত্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। জীবন নামের অংকের সমাধান অনেক জটিল। প্রতিটা সম্পর্কের শুরুটা অনেক সুখের হলেও শেষটা অনেক কষ্টের হয়।
,
দীর্ঘ কয়েক মাস রিলেশন করার পরে হঠ্যাৎ দুই পরিবারে তাদের সম্পর্কের কথা জেনে যায়। জীবন থেকে সিনেমার গল্প তৈরি হয়। কিন্তু সিনেমা থেকে জীবন পরিচালিত হয় না। রুমানার পরিবার তার জন্য অন্য এক ছেলের সাথে বিয়ে ঠিক করে। ছেলে সরকারি জব করে, মোটা অংকের বেতন পায়। কিন্তু পাগল মন সব সময় নিজের বুঝটা ভালো বুঝে।
,
রুমানা সরাসরি জানিয়ে দেয় সে জামাল ছাড়া অন্য কোনো ছেলেকে বিয়ে করবে না। কিন্তু রুমানার পরিবার জোর করে তাদের পছন্দের ছেলের সাথে বিয়ের আয়োজন করে। অন্য দিকে জামালের পরিবার উচ্চ বংশে তাদের ছেলেকে বিয়ে দিবে না। বাধ্য হয়ে বিয়ের দিন গভীর রাতে জামাল ও রুমানা বন্ধুদের সহায়তায় বাড়ি থেকে পালিয়ে ঢাকা চলে আসে। ঢাকা এসে বিয়ে করে।
,
কি কাজ করবে কি খাবে? একটা কিছু তো করতে হবে। জামাল পাঁচ দিন ঘোরাফেরা করেও একটা কাজ জোগার করতে পারলো না। বাধ্য হয়ে রুমানা কাজের সন্ধানে বের হয়। কোথায় যাবে, কার কাছে যাবে জনবহুল এই শহরে সবাই অপরিচিত। একটা গার্মেন্টস কোম্পানিতে লোক নেয়া হচ্ছে। অনেক লোকের ভির। সবাই একটা কাজের জন্য দাড়িয়ে আছে। রুমানাও সেখানে গিয়ে দাড়ায়। দূর্ভাগ্য বসতো রুমানার চাকরি পেয়ে যায়।
,
উপরের মহলের স্যার নিজে রুমানাকে কাজের জন্য সিলেক্ট করেছে। প্রথমে কাজ করতে অনেক কষ্ট হতো। কিন্তু ভালোবাসার মানুষের জন্য নাকি সব কষ্ট মুখ বুঝে সহ্য করা যায়। রুমানাও তাই সব কষ্ট সহ্য করে যাচ্ছিলো। অন্য দিকে শহরের নতুন আবহাওয়া জামালের সাথে ম্যাচ হচ্ছিলো না। তাই প্রায়শই জামাল অসুস্থ থাকতো। একদিন জামাল কাজ করলে দশ দিন অসুস্থ থাকতো।
,
রুমানা সকাল আটায় গার্মেন্টসে যেতে রাত দশটাতে বাসায় ফিরতো। কি করবে কিছুই করার নাই। শুধু ভালোবাসা দিয়ে তো আর পেট ভরে না। কাজ না করলে না খেয়ে মরতে হবে। তবুও রুমানা জামালকে নিজের স্বাধ্য মতো সেবা যত্ন করতো।
,
আপনার পছন্দের খাবার যখন সকাল বিকাল রাতে খাবেন। একটা সময় দেখবেন সেই পছন্দের খাবার আপনার আর ভালো লাগছে না। রুমানা প্রথম দিকে কাজ শেষে করে বাসায় ফিরে জামালের সেবা যত্ন করলেও এখন আর আগের মতো কেয়ার করে না। অন্যদিকে অফিসে স্যারে সাথে বেশ বন্ধুত্তপূর্ণ একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছে রুমানার। সংসারে অসুস্থ স্বামী, এক জনের আয় দিয়ে টানা পরনের সংসার সব মিলিয়ে প্রায়শই ডিপ্রেশনে ভুগতো রুমানা।
,
অফিসের স্যার রুমানার কষ্ট বুঝতে পারতো। একদিন নাইট ডিউটি চলছে রাত বারোটা পর্যন্ত। রাত তখন প্রায় দশটা বাজে এমন সময় স্যার রুমানাকে তার এসি রুমে স্মরণ করলো।
স্যারের রুমে যেতেই,,
,
রুমানা আমার খুব মাথা ব্যথা করছে, একটু মাথাটা টিপে দিবে। অনিচ্ছা সর্তেও স্যারের মাথা টিপে দিচ্ছিলো রুমানা। হঠ্যাৎ খেয়াল করলো স্যারের হাত যুগল তার বুক স্পর্শ করছে। রুমানা বাধা দিলো কিন্তু তাতে কোনো কাজ হলো না। একজন তাগরা পুরুষের শক্তির কাছে নিজেকে হার মানাতে হলো।
,
সেদিন রাতে বাসায় ফিরে রুমানা অনেক কেঁদেছিলো। কিন্তু মাঝে রাতে স্যার ফোন করে বলেছিলো সব ভিডিও করে রেখেছে। বেশি বাড়াবাড়ি করলে নেটে ছেরে দিবে। একদিকে ঘরে অসুস্থ স্বামী অন্য দিকে টাকার অভাব। তার উপর স্যারের গোপন ভিডিও। বাধ্য হয়ে প্রায়শই স্যারের এসি রুমে নিরবে পশুর নির্যাতন সহ্য করেতে হতো। স্যার তাকে ফ্রিতে ইউজ করতো না, মোটা অংকের টাকাও দিতো ।
,
এখন আর সংসারে কোনো অভাব নেই। স্বামীর ঔষধ কেনার জন্য আর কারো কাছে হাত পাততে হয় না। কিন্তু জামাল এখন রুমানাকে সন্দেহ করতে শুরু করলো। একদিন রাতে জামাল ও রুমানার মাঝে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এত টাকার আয়ের উৎস জানতে চাইলে রুমানা বলে, ‘স্যারের বেডরুমে রুম ডেটিং করে’ এত টাকা জোগার করছে। তোমার কোনো সম্যসা। তোমাকে বিয়ে করে আমি কি পেয়েছি। জীবনে কষ্ট ছাড়া কিছুই পাইনি । আজ থেকে তোমার সাথে আমার সব সম্পর্ক শেষ।
,
শেষ এই কথাটা বলে রুমানা বাসা থেকে বের হয়ে চলে যায়। রাস্তায় বেরিয়ে রাশেদকে ফোন দেয়। হ্যা অফিসের সেই স্যার হচ্ছে রাশেদ সাহেব। রাশেদ রুমানাকে একটা ফ্ল্যাট বাসা ভারা করে দেয়। রুমানার যা খরচ পাতি লাগবে সব কিছু রাশেদ সাহেব বহন করবে। রুমানার এখন আর গার্মেন্টসে চাকরি করতে হয় না। বিলাসিতার জন্য যা যা প্রয়োজন সব কিছু রাশেদ সাহেব তাকে দিয়েছে।
,
জামালের অবস্তা দিন দিন অনেক খারাপের দিকে। বাধ্য হয়ে গ্রামের পথে যাত্রা শুরু করে জামাল। মা বাবার একমাত্র ছেলে জামাল। ঢাকা আসার পর থেকে একটা বারো বাবা মায়ের সাথে যোগাযোগ হয়নি। আজ দীর্ঘ চার বছর পড়ে বাড়ি যাচ্ছে। এই তো আর ত্রিশ মিনিট গাড়িতে গেলেই তার বাড়ি। গ্রামের রাস্তা ঘাট সব কিছু বদলে গেছে। জামালের মুখ ভর্তি দাড়ি। ওই তো মা ঘরের বারান্দায় বসে আছে। জামাল সরাসরি গিয়ে মায়ের পা জরিয়ে ধরলো। মা আমাকে মাফ করে দাও। ছেলেকে দীর্ঘ চার বছর পরে বুকে পেয়ে যেনো চৈত্র মাসের খরাতে মাঠে বৃষ্টির পানি পাবার মতো অবস্তা। তোর একি হাল হয়েছে বাবা। তোর জন্য আমরা কত কেঁদেছি একটা বারো কি আমাদের কথা মনে পরেনি। কত কথা মায়ের মুখে, একটু পরে বাবা এসে জামালকে বুকে জরিয়ে নিলো। সব ঘটনা শুনে তার মা বাবা অনেক কান্না করলো। তোকে আর শহরে যেতে দিবো না বাবা। তুই গ্রামেই থাক। তোকে আবার নতুন করে বিয়ে দিবো।
,
অন্য দিকে রুমানা তিন চার আরাম আয়েসে থাকলেও রাশেদ এখন তার সাথে আগের মতো ভালো ব্যবহার করে না। একদিন রাতে রাশেদ ও রুমানা সুয়ে আছে। আদরের এক পর্যায়ে রাশেদ বলছে জান কালকে তোমাকে একটা সারপ্রাইজ দিবো। রুমানা তো ব্যাপক খুশি। সকালে রাসেদ রুমানাকে নিয়ে এসি মাইক্রো নিয়ে বের হলো। রুমানা তো খুশিতে গদোগদো। রুমানাকে নিয়ে মিরপুর-১ এ একটা আবাশিক হোটেলে গেলো। জান তুমি এখানে বসো আমি ভিতর থেকে আসতেছি। এক ঘন্টা হয়ে গেলো কিন্তু রাশেদের কোনো খবর নাই। তিন ঘন্টার পরে অল্প বয়স্ক একটা মেয়ে আসলো। আপনি কি রুমানা আফা। হুম কেনো। স্যার আপনাকে ভিতরে ডাকে। রুমানা হাফ ছেরে বাঁচলো। রুমে গিয়ে দেখে রাশেদ নাই। হোটেল মালিক বসে আছে। রাশেদ কোথায়?রাশেদ আর কোনো দিন আসবে না। তোমাকে আমার কাছে বিক্রি করে দিয়ে গেছে। রুমানার মাথায় যেনো আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। তোমাকে পাঁচ লাখ টাকার বিনিময়ে আজিবন মেয়াদে কিনে নিয়েছি। রুমানার বুঝতে বাকি রইলো না সে বর্তমানে কোথায় অবস্থান করছে। তাকে পতিতা মহলে বিক্রি করে দেয়া হয়েছে। চাইলেও এখান থেকে তার বের হয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। প্রতিদিন তাকে পাঁচ ছয়দা পশুর সম্মুখীন হতে হয়। কিছুই করার নেই মুখ বুঝে সব সহ্য করতে হয়।
,
বাস্তবতা বড়ুই কঠিন। পদে পদে যুদ্ধ করে আমাদের চলতে হয়। ফেসবুক, স্কুল, কলেজ চারিদকে শুধুই প্রেমের আনাগুনা । কখনো কি ভেবে দেখেছেন আপনার প্রেমের বা ভালোবাসার ভবিষ্যৎ কি? ভবিষ্যৎ ইউ ইকুয়েল্ট টু জিরো। বিশ্বাস করতে কষ্ট হয়। জীবনে চলতে গেলে ভালোবাসার যেমন প্রয়োজন আছে। তেমনি টাকার ও প্রয়োজন আছে। নিজের পায়ে না দাড়িয়ে ভালোবাসায় জরানো সম্পর্ক গুলো ভিত্তিহীন সম্পর্ক ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না।
,
কত দিন আর বাবাকে মিথ্যা বলে টাকা নিয়ে প্রেমিকার সাথে কথা বলবেন। জানি এক সাথে চলতে গেলে ভালো লাগাটা আপনাআপনি শুরু হয়। তাই বলে নিজের ভবিষ্যৎ তো আর অন্ধকারে ডুুবিয়ে দিতে পারেন না। আশেপাশে চোখ মেলে দেখবেন প্রেম করে বিয়ে করে কয়টা প্রেমিক প্রেমিকা সুখি হতে পেরেছে। ছোট্ট একটা ভুল সিদ্ধান্ত আপনার পুরো ভবিষ্যৎকে ধ্বংস করে দিতে পারে। অন্য দিকে আপনার ছোট্ট একটা সঠিক সিদ্ধান্ত আপনাকে পৌছে দিতে পারে সাফল্যের উচ্চ শিহরে। আমি মানুষ আপনিও মানুষ। আল্লাহ আমাকে আপনকে সবাইকে ভালো মন্দ বুঝার ক্ষমতা দিয়েছেন। সময় থাকতে নিজের ভালোটা বুঝতে শিখুন, নয়তো সারা জীবন আপনাকে প্রস্তাতে হবে ছোট্ট একটা ভুল সিদ্ধান্তের জন্য ।