ঘুমের মধ্যেও চিৎকার করে কেঁদে ওঠে মিন্নি

বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আয়শা সিদ্দিকা মিন্নি সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়েছেন। তবে মুক্ত হলেও ভালো নেই মিন্নি, শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছে সে। অসুস্থ হয়ে পড়ায় বাড়িতেই চিকিৎসা চলছে তার।

সোমবার (৯ সেপ্টেম্বর) এসব কথা জানিয়েছেন মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।

মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, মিন্নির দুই হাঁটুতে কালো দাগ রয়েছে। হাঁটুর ব্যথায় হাঁটতে পারে না সে। সদা চঞ্চল ও সদালাপী মিন্নি এখন কারও সঙ্গে কথা বলে না। কিছুই খেতে চায় না। সবসময় নিজের ঘরের মধ্যে চুপচাপ থাকে সে। কখনও কখনও কাঁদে।

তিনি আরো বলেন, মিন্নি এখন যে ঘরে থাকে, সেই ঘরে রিফাতের সঙ্গে তার অনেক স্মৃতি রয়েছে। সেসব স্মৃতি মিন্নিকে আপ্লুত করে। ঘুমের মধ্যেও কেঁদে ওঠে, চিৎকার করে সে।

বিষয়টি নিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. সোহবার উদ্দীন বলেন, মিন্নির মানসিকভাবে ভেঙে পড়াটা স্বাভাবিক। তার স্বল্প বয়সের জীবনে যা ঘটেছে, গণমাধ্যমে তা দেখে আমরাই ঘাবড়ে গেছি। তার সুন্দর জীবন লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে একটা ঘটনা। যা থেকে ঘটে গেছে আরও অনেক ঘটনা। এসব ঘটনা যখন তার মনে পড়ে, সেসব দৃশ্য যখন তার চোখের সামনে ভেসে ওঠে তখন তার স্বাভাবিক থাকার কথা নয়। এসব কারণে মূলত মিন্নি উদাসীন, বিষণ্ন ও স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছে।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে জনগণ ও স্ত্রী মিন্নির উপস্থিতিতে কুপিয়ে হত্যা করা হয় রিফাত শরীফকে। ওইদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার একটি ভিডিও ওইদিনই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তা ভাইরাল হয়ে যায়। আলোড়ন সৃষ্টি হয় গোটা দেশজুড়ে।