মহাসড়কগুলোতেও টোল আদায়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর

দেশে সড়ক ও মহাসড়কের ওপর নির্মিত ব্রিজ, সেতু থেকে টোল আদায়ের রীতি রয়েছে। এবার জাতীয় মহাসড়ক ব্যবহার করলেও টোল দিতে হবে। ব্রিজ, সেতুর পাশাপাশি জাতীয় মহাসড়ক থেকে টোল আদায়ের  নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার (৩ সেপ্টেম্বর) পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর বৈঠকে দেশের ২১টি মহাসড়কে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপন শীর্ষক প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে এ নির্দেশনা দেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে পরে সংবাদ ব্রিফিং এ প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন নির্দেশনার বিষয়ে জানান পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উন্নত দেশের মতো আমাদের দেশেও বড় বড় মহাসড়ক যেমন ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেট, ঢাকা রংপুর ও ঢাকা-ময়মনসিংহ এসব মহাসড়কে টোলের ব্যবস্থা রাখতে হবে। শুধু তাই নয়, টোলের মাধ্যমে আদায় করা টাকা রাখার জন্য একটি আলাদা অ্যাকাউন্ট করতে হবে। সেই টাকা দিয়ে মহাসড়কগুলো সংস্কার করতে হবে।’

২১টি মহাসড়কে এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র স্থাপনের বিষয়ে তিনি বলেন, এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন আছে। কিন্তু খেয়াল রাখতে হবে কেউ যাতে টেম্পারিং করতে না পারে। এটা সময়ের দাবী। কিন্তু এমন সিস্টেম করতে হবে যাতে লোক থাকুক আর নাই থাকুক এর উপর দিয়ে গাড়ী গেলেই যেন গাড়ীর নাম, নাম্বার,ওজন এবং বিস্তারিত উঠে যায়। এসব তথ্য যেন কেন্দ্রীয়ভাবে কোনো একটি জায়গা থেকে মনিটরিং করা হয়। তাছাড়া ট্রাক বা কাভার্ডভ্যানগুলো যেন নির্দিষ্ট মাপের তুলনায় বেশি না হয়।’

প্রকল্প বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শের বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী  জানান, যেকোনো উন্নয়ন প্রকল্পের প্রয়োজনীয় জনবল যেন আগে থেকেই নিয়োগের ব্যবস্থা করা হয়। তাদের প্রশিক্ষণসহ অন্যান্য কার্যক্রমের ব্যবস্থা প্রকল্পের মধ্যেই থাকতে হবে। যাতে প্রকল্প শুরু হলে জনবলের কারণে বাস্তবায়ন বাঁধাগ্রস্ত না হয়।

প্রধানমন্ত্রীর বরাতে যোগ করেন এম এ মান্নান বলেন, ‘দেশের সব জেল খানায় ভার্চুয়াল কারাগার স্থাপন করতে হবে। যাতে দুর্ধর্ষ আসামীদের জেল থেকে আদালতে টানাটানি করতে না হয়। যেসব আসামীর ছিনতাই বা অন্য কোনো সমস্যা থাকতে পারে সেসব আসামীকে ক্যামেরার মাধ্যমে এজলাসে বসেই বিচারক যাতে বিচার করতে পারেন।’ ।

মান্নান আরো জানান, দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কি পরিমাণ শিক্ষার্থী আছে তার একটি পরিসংখ্যান চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। বলেছেন পুরনো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে যাতে নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয় যে তারা কত শিক্ষার্থী ভর্তি করতে পারবে। এজন্য একটি নীতিমালা করতে হবে। প্রয়োজন হলে যেসব জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই সেসব জেলায় নতুন করে করতে হবে।