কিছু ভুলের ক্ষমা নেই, পরিস্থিতি বদলাবে

চোখে চশমা। মুখে যুবতীর সারল্য। আপাতত দৃষ্টিতে সাদামাঠা দেখতে হলেও পুরো বিশ্বে তার পরিচিতি পর্নস্টার হিসাবেই। বলছিলাম মিয়া খলিফার কথা। তিনি এমন একজন পর্নস্টার ছিলেন যাকে ইন্টারনেটে সব থেকে বেশি সার্চ করা হয়েছিল। অথচ অনেকেই জানেন না, এ পেশা তিনি ছেড়েছেন বহু আগেই।মাত্র ৩ মাস পর্ন ছবির জগতে কাজ করেছেন মিয়া খলিফা। অল্প বয়েসে অনেক টাকা রোজগার, অজানা রঙিন জগতে হারিয়ে যাওয়ার হাতছানি থেকেই এই পেশায় আসেন তিনি। অথচ মোহভঙ্গ হয় মাত্র তিন মাসেই। সম্মান ও সময়ের বিনিময়ে সেভাবে টাকাও রোজগার করতে পারেননি মিয়া।

সম্প্রতি সংবাদসংস্থা বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানান সাবেক পর্ন তারকা মিয়া খলিফা।আবেগপ্রবণ মিয়া জানান, ২০১৫ সালে তিন মাস কাজ করার পরেই এই পর্ন ছবির জগৎ থেকে বেরিয়ে এসেছেন। অথচ হারানো সম্মান আর ফিরে পাননি তিনি। পর্ন জগতের নীল আলো থেকে বেরিয়ে আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেননি। তার ব্যক্তিগত জীবন তছনছ হয়ে গিয়েছে।তিনি বলেন, আজও রাস্তাঘাটে লোকজনের মাঝে নিজেকে নিয়ে ভীষণ হীনমন্যতায় ভুগতে থাকি।মিয়ার কথায়, এ জগৎ থেকে বের হওয়াটা সহজ নয়। এই ইন্ডাস্ট্রিতে প্রবেশের পর একের পর এক চক্রে জড়িয়ে পড়েন অল্পবয়সী মেয়েরা। পর্ন ইন্ডাস্ট্রির ব্ল্যাক হোল টেনে নেয় অল্পবয়সী মেয়েদের।নারী পাচারকারীদের মাধ্যমেও কীভাবে ছোট ছোট মেয়েরা পর্ন ইন্ডাস্ট্রিতে আসতে বাধ্য হয়, সেই বিষয়েও জানিয়েছেন তিনি। বলেন, বহু মেয়ে অপরিণত মনে, ভুল সিদ্ধান্ত ও কিছু মানুষের পাল্লায় পড়ে নিজের জীবন নষ্ট করে দিয়েছে। আমায় এ ধরনের অনেক মেয়েই মেইল করে সে কথা জানিয়েছে।মিয়া খলিফা জানান, পর্ন ইন্ডাস্ট্রির আসল রূপ বুঝতে পেরেই কোনোমতে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন। তার পর্ন ছবি করার কথা জানতে পেরেই তাকে ত্যাগ করেছেন মা-বাবা। সেই পর্ন ছেড়ে দেওয়ার পরেও আর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়নি। তবে, সময়ের সঙ্গে ক্ষত কমতে থাকে। তাই আজও আশার আলো মিয়ার চোখে।পর্ন জগৎ থেকে বেরিয়ে মিয়া খলিফা এখন আইনসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কাজ করেন। হিসাবরক্ষকের কাজ করেন তিনি। মিয়া বলেন, কিছু ভুলের ক্ষমা হয় না, কিন্তু সময়ের সঙ্গে পরিস্থিতি বদলাবে, সেই আশা রাখি।