বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি জিয়াউর রহমান : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘৮১-র আগস্টে যখন আমি ফিরে আসি জিয়াউর রহমান আমাকে ৩২ নম্বর বাড়িতে ঢুকতে দেয়নি। কারণ ওই বাড়িতে ঢোকা আমাদের জন্য নিষিদ্ধ ছিল। উপায় না দেখে রাস্তায় বসে ১৫ আগস্টে নিহতদের জন্য দোয়া করেছি।’

শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীতে গণভবনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে ছাত্রলীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ওই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে আক্ষেপ করেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, দেশকে উন্নত বিশ্বের কাতারে নিতে বঙ্গবন্ধুর দেখানো পথে কাজ করছেন জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমি জানি বাবা এই দেশটাকে কিভাবে গড়তে চেয়েছিলেন। তাই আমার জিদ ছিল বাংলাদেশকে এমনভাবে গড়তে হবে যাতে বিশ্ববাসী অবাক হয়ে দেখে। স্বাধীনতাবিরোধী পরাজিত শক্তিদের পদলেহন যারা করে তারা দেশকে উন্নত দেশ হিসেবে গড়তে দেবে না। এজন্য মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বে দেয়া দল আওয়ামী লীগের ক্ষমতায় থাকতে হবে তাহলেই দেশ উন্নত হবে।’

নিজের আর পরিবারের কথা চিন্তা না করে বঙ্গবন্ধু দেশের মানুষের জন্য সারা জীবন কাজ করেছেন উল্লেখ করে তার মেয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাবা এদেশের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সব সময় চিন্তা করতেন। নিজের চাওয়া পাওয়া ত্যাগ করে এদেশের মানুষের জন্য সংগ্রাম করেছেন।’

এ সময় বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসার অবদান স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমার মা কখনো প্রকাশ্য রাজনীতিতে আসেননি। কিন্তু বাবার পাশে থেকে নীরবে নিভৃতে কাজ করে গেছেন। কারাগারে দেখা করতে গিয়ে তিনি কখনো হতাশার কথা বলেননি। সাহস যুগিয়েছেন। এই যে পাশে থেকে শক্তি জোগানো এই দৃঢ় মনোবল সব সময় মায়ের ছিল। প্রতিটি সংগ্রামে পাশে থেকে মা বাবাকে সহযোগিতা করেছেন। তিনি নিজে জীবনে কখনো কোনো কিছুই চাননি বাবার কাছে। সংসারের খরচও চালাতেও বাবাকে কখনো বিরক্ত করেননি। নিজেই সামাল দিয়েছেন।’

‘বাবাকে বলতেন সংসারের কথা চিন্তা করো না তুমি দেশের কথা চিন্তা করো। প্রতিটি সংগ্রামে মা দৃঢ় মনোবল দেখিয়েছেন। বাবা যখন কারাগারে থেকেছেন বা পরিস্থিতিতে পড়েছেন বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনাগুলো ছদ্মবেশে গিয়ে নেতা-কর্মীদের কাছে পৌঁছে দিতেন।’

বাংলাদেশের প্রতিটি সংগ্রাম ইতিহাসের ছাত্রলীগের নাম জড়িত রয়েছে উল্লেখ করে সংগঠনটির সাবেক এই নেত্রী বলেন, ‘আদর্শ আর নীতি না থাকলে নেতা হওয়া যায় না। সবকিছু ত্যাগ করে আদর্শ নিয়ে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে পারলেই একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনের সবচেয়ে বড় পাওয়া। যেটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান করেছিলেন।’