ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে এক নারী সাংবাদিকের আত্মহত্যার চেষ্টা

রাজধানীর তুরাগ থানা এলাকায় ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা চালিয়েছে এক নারী সাংবাদিক। বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে সাতটার দিকে তুরাগের বামনারটেক টিএস আর গার্মেন্টসের সামনের ভাড়াটিয়া বাসার নিচ তলায় এ ঘটনাটি ঘটে। আত্মহত্যা চেষ্টা করা ওই নারী সাংবাদিক হলেন নাদিরা দিলরুবা।

নাদিরা দিলরুবা ঢাকা থেকে প্রকাশিত সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রা( ম্যাগাজিন) পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি।

নাদিরা দিলরুবার নিজ ফেসবুক স্ট্যাটাসটি সোনালীনিউজের পাঠকের হুবুহু তুলে ধরা হলো:

‘রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ ও তদন্ত চিত্রের সম্পাদক দাবীকারী জিয়া আমার আত্মহত্যার জন্য দায়ী। আশা করবো আমার মৃত্যু পর তাদের দুজনের দাবি মতে জনগণের কাছে প্রমাণ হাজির করবে আমি পতিতা ও বহু পুরুষে আসক্ত, অশিক্ষিত, চাঁদাবাজ? সাহেদ করিম টকশো মিডিয়া ব্যক্তিত্ব তো আপনি, সেই সঙ্গে উত্তরা রিজেন্ট হাসপাতালের মালিক! অনুরোধ একটা আপনার  কাছে, আমার লাশটা আপনার হাসপাতালের চিকিৎসকদের দিয়ে ডায়াগনোসিস করে দেখবেন আশা করি, যে আমি কতটা পুরুষ আসক্ত পতিতা!

রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ আমাকে চাঁদাবাজ বলেছে তার নির্দেশে তদন্তচিত্রের জিয়া আমাকে পতিতা চাঁদাবাজ অশিক্ষিত বহু পুরুষে আসক্ত মন্তব্য করে রিপোর্ট করে। রিজেন্ট গ্রুপের উত্তরা ১২ নম্বর অফিসে তার পত্রিকার স্টাফ আমার ছবি তোলে। সে ছবি ব্যবহার করে তদন্তচিত্রের জিয়া আমাকে পতিতা চাঁদাবাজ, অশিক্ষিত, সন্ত্রাসী বাহিনীসহ যুবলীগের নেতাকর্মী নিয়ে চাঁদাবাজি করি উল্লেখ করে। বহু পুরুষে আসক্ত মন্তব্য করে রিপোর্ট করে। আমার মৃত্যুর পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ গণমাধ্যম সহ রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ যেন ক্ষতিয়ে দেখে সঠিক তদন্ত করে আমি চাঁদাবাজ না সমাজ সেবক, দেহব্যবসা করি নাকি স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে ১২ বছর ধরে রক্তদান করি, ২০ বছর ধরে মৃতদেহ সুরতহালে সহায়তা সহ মৃতদেহ গোসল করাই? প্রশ্নটা সহপাঠী, সহকর্মী, একসময়ের রাজনৈতিক সহচর, আত্মীয়, প্রতিবেশী রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আইন শৃঙ্খলাবাহিনীর সকলের কাছে রেখে গেলাম।

আমার সাংবাদিকতা পেশায় আমি বিভিন্ন সেক্টরের অপরাধ সম্পর্কিত অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশ করেছি। আমি অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিকতার সুবাদে দেশের প্রায় তিনশর বেশী থানায় ভিজিট করেছি। বিএনপি সরকার, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও যৌথবাহিনীর  সরকার, বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের সুদীর্ঘ সময়ে নানাশ্রেনী পেশার সঙ্গে কাজ করার ও মেশার সুযোগ হয়েছে।

অনলাইন পত্রিকা তদন্তচিত্র তে সম্পাদক পরিচয়ে আমার এক সময়ে আমার পত্রিকায় কাজ করা জিয়াউর রহমান করে আমাকে কোন আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে আমার কোন বক্তব্য না নিয়ে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় আমাকে  চরিত্রহীনা, চাঁদাবাজ, পতিতা, অশিক্ষিত দাবি করে মানহানিকর বানোয়াট ভিত্তিহীন মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করায় আমি সামাজিক মানষিক ভাবে বিপর্যস্ত ও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন। জিয়ার এহেন কুরুচিপূর্ণ সংবাদ প্রকাশ ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের পরিপন্থী। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে ভুয়া সংবাদ প্রকাশের কারণে আমার জীবন মৃত্যু ঝুঁকিতে। ২০০৩ সাল থেকে আমি সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রায় কর্মরত। কতিপয় দুর্নীতিবাজদের ইন্ধনে আমার বিরুদ্ধে তদন্ত চিত্রে বানোয়াট মিথ্যা সংবাদ প্রকাশের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

এ কুরুচিপূর্ণ মিথ্যা মনগড়া সংবাদ প্রকাশ করার উদ্দেশ্য হলো ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে ফেলে মানহানি করে হয়রানি করার মাধ্যমে জীবননাশেরর চেষ্টায় লিপ্ত। তাই চাঁদাবাজ ও চরিত্রহীনের তকমা দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্য বিভিন্নভাবে আমাকে যেকোন সময় বড়ধরনের ক্ষতি করতে পারে বলে আমার আশঙ্কা। এছাড়া সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রায় প্রতারকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি রিপোর্ট প্রকাশ হয়েছে। অনলাইন পত্রিকা তদন্ত চিত্রের সম্পাদক দাবিকারী জিয়া দ্বারা যে অশালীন আক্রমণাত্মক ভাবে হেনস্থা হয়েছি তা পূর্বে কোন গণমাধ্যম কর্মীদ্বারা কোন অশালীন ইভটিজিং এর সম্মুখীন হইনি।

আমি গত ২/৪/২০০৯ থেকে ৭/৫/২০১৯ পর্যন্ত ১১ বছরে ২৩ বার স্বেচ্ছারক্তদান করেছি কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন ল্যাবে। তুরাগ থানার অনুরোধে বিগত কয়েক বছরে একাধিকবার অপমৃত্যুর লাশের সুরতহালে সহযোগীতা সহ মৃতদেহ গোসল করিয়েছি। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মিডিয়া সেলের একজন প্রোমাস্টার ও স্বেচ্ছাসেবী। ৫/১০/২০১২ সালে আমি সন্ধানী চক্ষুদান ব্যাংকে মরণোত্তর চক্ষুদান অঙ্গীকার করি। সারা বাংলাদেশে আমার একটি মাত্র সেভিং একাউন্ট আছে। উত্তরা ব্যাংক লিমিটেড। বাণিজ্য শাখা, উত্তরা।যার হিসাব নং – 0011100113584 যাহাতে চাঁদার কত টাকা আছে জানতে পারবেন???।’

গত ১৭ বছর ধরে সাংবাদিকতাই আমার পেশা। খুব সাধারণ জীবনযাপন করি। আমি কোন কোম্পানি বা কোন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করতে যাইনি। সংবাদে কোন কোম্পানিতে গেলাম, কোন কোন প্রতিষ্ঠানে চাঁদাবাজি করলাম, আমার গ্যাং বাহিনী কাদের নিয়ে গঠিত, আমার আয় বহির্ভূত সম্পদ, সে সব প্রতিষ্ঠান কোন কোন ব্যাক্তি থেকে চাঁদা নিয়েছি তার কোন উল্লেখ নেই যা আমার ফোনকল রেকর্ড পর্যালোচনা করলে সত্য প্রতীয়মান হবে। মেয়ে একাউন্টিং অনার্স ৩য় বর্ষে পড়ে। আমাকে বহু পরপুরুষ আসক্ত ও পতিতা চাঁদাবাজ বলে দাবী করে সাংবাদিক পরিচয়দানকারী জিয়াউর রহমান।

আমি সাপ্তাহিক অপরাধ বিচিত্রায় বহু বছর ধরে সাংবাদিকতা পেশার সাথে যুক্ত থাকায় অপসাংবাদিকতার শিকার হয়েছি। মৃত্যুর আগে মেয়েটাকে আজ দেখে আসলাম, আজ দুপুরে। আমার মৃত্যুর পর লাশ ৫/১০/১২ সালের চুক্তি অনুযায়ী মরণোত্তর চক্ষু ব্যাংকে ঢাকা মেডিকেল মর্গে দান করা হয়। এটাই মৃত্যুর আগে পরের শেষ ইচ্ছা।

সম্মানের সঙ্গে সততার সাথে বাঁচতে চেয়েছি কিন্তু বার বার অপবাদ দেওয়া হয়েছে লাঞ্ছিত হতে হয়েছে আমাকে। বাঁচার ইচ্চে নেই। সাংবাদিক পরিচয়ে আরেক নারী সাংবাদিক কে লাঞ্ছিত করতে বাধঁলোনা তাদের। ভাল থাকুক মিডিয়ার এসব ভয়ঙ্কর মানুষগুলো।

এদিকে, বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয় উত্তরা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার শচীন মল্লিককে। পরে স্থানীয় সাংবাদিক আমিনুল ইসলাম, আশিকুজ্জামান ও তুরাগ থানা পুলিশ ছুটে যান সেখানে। পার্শ্ববর্তী ভাড়াটিয়া ও স্থানীয়দের সহযোগিতায় উদ্ধার করা হয় নাদিরা দিলরুবাকে।

বিষয়টি নিয়ে নাদিরা দিলরুবা জানান, একমাত্র মেয়েকে নিয়ে সততার সাথে বাঁচতে চেয়েছিলাম। কিন্তু সেই আমাকে পতিতা বলে আখ্যায়িত করে অনলাইনে সংবাদ প্রকাশ করলো কথিত এক অনলাইন পত্রিকার সম্পাদক। কি প্রমাণ আছে তার কাছে আমার অপকর্মের? দীর্ঘদিন অপরাধ বিষয়ক সাংবাদিকতা করার কারণে আজ আমি নোংরা অপসাংবাদিকতার শিকার।

বিষয়টি নিয়ে তুরাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে। এছাড়া আইসিটি আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে রিজেন্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ করিম মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।