লক্ষ্মীপুরে সড়ক ও বিদ্যালয় কাজের আগে-পরে ভেজাল

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর-হায়দরগঞ্জ ১২ কিলোমিটার ব্যস্ততম কৃষি অঞ্চল সড়ক। প্রায় ৭ বছর এ সড়কটি খানাখন্দ ও বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়ে জনদুর্ভোগ পর ২০১৬ সালের ডিসেম্বর মাসের শেষের দিকে শুরুর পর ২০১৮ সালের জানুয়ারী মাসে সড়কের কাজ সম্পূর্ন করা হয়। কিন্তু সংস্কারের প্রায় ২ বছর পার হলেও বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। প্রায় সময় ছোট যানবাহন গুলো দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছে। ওই কাজের অংশ হিসাবে সড়কের পাশে ৩টি বিদ্যালয়ের সামনের বাউন্ডারী ওয়াল নিন্ম মানের কংকর দিয়ে নির্মান করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কাজের ঠিকাদার ও তদারককারী উপজেলা সহকারী প্রকৌশলিকে একাধিকবার বললেও কোন গুরুত্ব দিচ্ছেনা বলে অভিযোগ করেন গ্রামবাসি।

সরেজমিনে দেখা যায়, রায়পুর থেকে হায়দর গঞ্জ ১২ কিলোমিটার ব্যস্থতম সড়ক। এ সড়ক দিয়ে প্রতিদিন দেশের বৃহত্তম সয়াবিনসহ হায়দরগঞ্জ কৃষি অঞ্চলে যাতায়াতকারী পণ্যবাহী পরিবহন,একটি কামিল মাদ্রাসা, একটি কলেজসহ ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করে। সড়কটি সংস্কারের ২ বছর না যেতেই সড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ন স্থানে গর্ত ও ফাটল দেখা দিয়েছে। গত ৩ দিন ধরে পৌরসভার শেষ অংশে পূর্বলাচ কাজীর চর ও চরপক্ষি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে সড়কের পাশে বাউন্ডারী ওয়ালও নিম্ন মানের কংকর দিয়ে (ইট, বালু, সিমেন্ট) নির্মান করা হচ্ছে। এতে যে কোন সময় দুটি বড় গাড়ি অভারটেক করার সময় শিশু শিক্ষার্থীরা দূর্ঘটনার শিকার হতে পারে বলে গ্রামবাসি আশঙ্কা করছেন।
এলজিইডি রায়পুর অফিস সূত্রে জানা যায়, ২০১৬-১৭ অর্থ বছরের শুরুতে রায়পুর-হায়দরগঞ্জ ১২ কি.মি সড়কটি মেরামতের জন্য আরটিআইপি-২ প্রকল্পের আওতায় এলজিইডি লক্ষ্মীপুর কার্যালয় থেকে দরপত্র আহবান করা হয়। ৪ কোটি ১৭ লাখ ৫৫ হাজার ৫৮৯ টাকায় মোঃ ফরহাদ হোসেনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাছান রূপালী জেবি কাজটি পায়।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হাছান রূপালী জেবি মালিক ফরহাদ হোসেনের ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সাব ঠিকাদার আরমান হোসেন জানান, সড়ক সংস্কার কাজের সাথে ওই ৩টি বিদ্যালয়ের সামনের অংশের বাউন্ডারী ওয়াল নির্মানে কোন অনিয়ম, দুর্ণীতি ও নিন্মমানের কংকর দেওয়া হয়নি।
উপজেলা এলজিইডি সহকারী প্রকৌশলী তাজুল ইসলাম বলেন, এই সড়ক সংস্কার কাজের সাথেই রাস্তা থেকে ৪ ফুট ভিতরে বিদ্যালয়ের সামনে ২০০ মিটার লম্বায় বাউন্ডারী ওয়াল নির্মান করে দেওয়া হচ্ছে। নিম্ন মানের কংকর ইট, বালু ও সিমেন্ট যেন ব্যবহার না হয় ঠিকাদারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই সড়ক সংস্কার কাজের ৩ বছরের মধ্যে কোন সমস্যা হলে ওই অংশ টুকু ঠিকাদারকে করে দেওয়ার নির্দেশনা রয়েছে।