স্বপ্ন পূরন হলো না লক্ষ্মীপুরের দুই রিকশা চালক পিতার

নিজস্ব প্রতিবেদক :

সুমাইয়া (৯) ও মিম আক্তার (১০)। দু’জনের বাড়ি লক্ষ্মীপুরের দুই উপজেলায়। কিন্তু একই বাড়িতে ভাড়া থাকায় তাদের মধ্যে গড়ে উঠেছে বন্ধুত্ব। একসাথেই দু’জনেই নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসা করতেন। মাদ্রাসা ছুটির পর বাড়িতে খেলতেন একসাতে। দিনের বেশিরভাগ সময়ই তারা দু’জন থাকতেন একইসঙ্গে।

তাদের আবার পরিবারের মধ্যে রয়েছে অনেক মিল। উভয়ের বাবা সকালে রিকশা নিয়ে বের হতেন আর ফিরতেন সন্ধ্যা হলে। মা ভোর হলেই চলে যেতেন অপরের বাড়িতে রান্নার কাজ করতে।  কান্না জড়িত কণ্ঠে  শীর্ষ সংবাদকে এসব কথা বলেন প্রতিবেশী হারুনুর রশিদ।

তিনি আরো বলেন, বাবা-মা সন্তানদের রেখে দু-মুঠো আহার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে যান। সুমাইয়া আর মিম দু’জনই নিজের মতো করে মাদ্রাসায় যান, খাওয়া-দাওয়া করে, খেলাধুলা করতো। কিন্তু আজ বাসার পাশে খেলতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়। অথচ এই সন্তানদের নিয়ে কতই না স্বপ্ন ছিলো তাদের রিকশা চালক পিতা-মাতার। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বলেও জানান তিনি।

নিহত সুমাইয়া আক্তার রায়পর উপজেলার চরবংশী এলাকার নজরুল ইসলামের মেয়ে ও মিম আক্তার সদর উপজেলার চর রমনি মোহন গ্রামের মিজানুর রহমানের মেয়ে। তারা দু’জন হালিমা (রা:) মহিলা দাখিল মাদ্রাসায় চতুর্থ শ্রেণীর শিক্ষার্থী ও রায়পুর পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ডের দেনায়েতপুর গ্রামের মঞ্জু মিয়াজির বাড়িতে ভাড়া থাকতেন।

এরআগে একই উপজেলায় গতকাল সন্ধ্যায় চরপাতা এলাকার প্রবাসী সোহেলের ছেলে আরাফাত হোসেন (৪) পুকুরের পানিতে ডুবে মারা যায়।

রায়পুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ তোতা মিঞা বলেন, খেলতে গিয়ে পুকুরের পানিতে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তারা উভয়ে পৌর শহরের একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন।

শীর্ষ সংবাদ/এফএইচ