ভয়ঙ্কর বন্ধুর গল্প : লক্ষ্মীপুরে খুনির ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
ডাব খাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে বাগানে ডেকে নিয়ে মো: সুমন (২৪) নামের এক বন্ধুকে খুন করলো ঘাতক সোহেল। শুধু তাই নয় সুমনকে খুন করার পর বাগানে একটি গর্তে পুঁতে লাশ মাটি চাপা দেয় খুনি সোহেল।

ঘটনাটি ঘটে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে উপজেলার নাগমুদ মিঝি বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি বাগানে।

জানা যায়, ছেলেকে খোঁজে না পেয়ে নিহত সুমনের বাবা থানায় একটি অপহরণ মামলা করে। মামলার সূত্র ধরে নিখোঁজের ৭দিন পর একটি পরিত্যক্ত বাগান থেকে মাটিচাপা অবস্থায় বস্তাবন্দি মোঃ সুমনের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ ।

এদিকে খুনি সোহেলের ফাঁসির দাবিতে গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ১১টায় রামগঞ্জ সোনাপুর বাজারের ব্যবসায়ীরা শহরের পুলিশ বক্স চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করে। এসময়ে বক্তাগণ খুনী সোহেলের দ্রুত বিচার দাবি করেন। মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নিহত সুমনের বাবা মোঃ ইউনুছ আলীসহ ব্যবসায়ীরা।

নিহত সুমন কুমিল্লা জেলার (২য়) মুরাদপুর সুজানগর গ্রামের মোঃ ইউনুছ আলীর ছেলে ও রামগঞ্জ শহরের সোনাপুর বাজারের একটি মুদি দোকানের কর্মচারী।

ঘাতক সোহেল রামগঞ্জ উপজেলার নাগমুদ চৌকিদার/মিঝি বাড়ীর বাবুল মিয়ার ছেলে।

রামগঞ্জ থানা সূত্রে জানা যায়, রামগঞ্জ পৌর সোনাপুর বাজারের মুদি ব্যবসায়ী মোঃ ইউসুফের দোকানে কুমিল্লার মোঃ সুমন ও রামগঞ্জে সোহেল হোসেন (২৭) নামের ২ যুবক বেশ কয়েক বছর যাবত চাকুরী করতো।

দীর্ঘদিন একই দোকানে কর্মরত থাকায় সোহেলের সাথে বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে উঠে কুমিল্লার সুমনের সাথে। গত মাস খানেক আগে দোকান মালিক সোহেলকে চাকুরী থেকে অব্যাহতি দিলেও সোহেল ও সুমনের বন্ধুত্ব পূর্বের মতোই থাকে। টাকা পয়সার লেনদেনও চলতে থাকে। পাওনা টাকা নিয়ে দুজনের মাঝে কয়েকবার ঝগড়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানায় পুলিশ। ঘটনার দিন (২১ জুলাই) রাত থেকে সুমন নিখোঁজ হলে কোথাও খুঁজে না পেয়ে সুমনের পিতা (২৭ জুলাই) শনিবার রামগঞ্জ থানায় একটি অপহরন মামলা করেন। মামলার সূত্রে রামগঞ্জ থানা পুলিশ মুদি দোকানের সাবেক কর্মচারী সোহেলের বাড়ি থেকে তার বাবা বাবুল মিয়াকে আটক করে। বাবাকে আটকের খবর পেয়ে সোহেল শনিবার রাতে রামগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও রামগঞ্জ থানার এস আই মোঃ কাউসারুজ্জামান জানান, ঘটনার রবিবার (২১ জুলাই) রাতে সুমনকে ডাব খাওয়ার কথা বলে সোহেলকে তাদের বাড়ীর পাশ্ববর্তি বাগানে ডেকে আনা হয়। এসময় সোহেলের চাকরী না থাকায় কষ্টে দিনযাপন করার কথা বলে টাকা ধার চায় সুমনের কাছে। সুমন আগের দেয়া টাকা সোহেলের কাছে ফেরত চাইলে দুজনের মাঝে কথা কাটাকাটি হয়। এসময় উত্তেজিত হয়ে সোহেল ডাব খাওয়ার জন্য নিয়ে আসা বটি দা দিয়ে সুমনকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর সোহেল বাগানের একটি ডোবার পাশে গর্ত খুড়ে সুমনের লাশ প্লাষ্টিকের বস্তায় ভরে মাটিচাপা দিয়ে পালিয়ে যায়।

সোহেলের দেয়া তথ্যমতে রবিবার বিকেলে রামগঞ্জ উপজেলার নাগমুদ মিঝি বাড়ির পশ্চিম পাশের একটি বাগানের মাটির নিচ থেকে সুমনের বস্তাবাঁধা অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ব্যাপারে রামগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘাতক মোঃ সোহেলকে স্বীকারোক্তি মোতাবেক তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সুমনের লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য লক্ষ্মীপুর হাসপাতাল মর্গে প্রেরন করা হয়েছে। সুমনের বাবার অপহরণের মামলাটি হত্যা মামলা হিসাবে রুজু করা হয়েছে।