প্রিয়া সাহাকে সরকার নিরাপত্তা দিবে, গ্রেফতার নয়

বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খিষ্ট্রান ঐক্য পরিষদের সদ্য বহিস্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয়া সাহাকে গ্রেফতারের কোন পরিকল্পনা নেই সরকারের। তার বিরুদ্ধে সরকার মামলাও করবে না। বরং তার নিরাপত্তা দেওয়া হবে। বুধবার বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের কাছে এমন মন্তব্য করেন পরাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও মাল্টা সফর শেষে বুধবার ঢাকায় ফিরেন মন্ত্রী।

মন্ত্রী আরো বলেন, প্রিয়া সাহা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাতের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশে এলে তাকে গ্রেফতার বা মামলার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছি কি? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস ওয়েলস আমার কাছে জানতে চেয়েছিলেন। আমি তাকে বলেছি, প্রিয়া সাহাকে গ্রেফতারে পরিকল্পনা নেই আমাদের। আমরা তার বিরুদ্ধে মামলাও করতে চায় না। প্রিয়া সাহা যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা মিথ্যা ও বানোয়াট। এ জন্য দেশের অনেকেই ক্ষিপ্ত রয়েছেন। তাই তিনি প্রিয়া সাহা যদি মনে করেন দেশে তার নিরাপত্তা প্রয়োজন তাহলে সরকার তার নিরাপত্তা দিতে প্রস্তুত।

মন্ত্রী আরো বলেন, তাছাড়া আমরা বলেছি মার্কিন সরকার যেহেতু ধর্মীয় সম্প্রীতী চাচ্ছে, সে জন্য তাদের প্রতি আমাদের অনুরোধে তাদের আয়োজনকরা দায়িত্বশীল লোকদের আনলে এ ধরনের অবান্তর বিতর্ক সৃষ্টি হয় না।

প্রিয়া সাহা কিভাবে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়েছেন ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সাথে দেখা করেছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, প্রিয়া সাহা সেখানে সরকারের প্রতিনিধি হিসাবে যোগ দেননি। যুক্তরাষ্ট্র সরকার আয়োজিত মন্ত্রী পর্যায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনে যোগ দিয়েছিলাম আমি। বাংলাদেশ সরকারের থেকে চার সদস্যর প্রতিনিধি যোগ দেন। প্রিয়া সাহা সেখানে সরকারের প্রতিনিধি ছিলেন না।

এ অনুষ্ঠানে বেসরকারিভাবে অনেকেই গেছেন। আমেরিকা তাদের নিয়ে গেছে। কতজন নিয়েছে আমরা জানি না। যুক্তরাষ্ট্রে যেতে সরকারের কোনো পরমিশন লাগে না। বাংলাদেশি নাগরিক যারা আমেরিকা যেতে চান নিশ্চিন্তে যেতে পারেন। শুধু আমেরিকার ভিসা লাগে।

প্রসঙ্গত, প্রিয়া সাহা গত ১৭ জুলাই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু বৌদ্ধ খিষ্ট্রান উধাও হয়ে গেছে। তারা ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, জমি কেড়ে নিয়েছে। আর এসব কিছুই রাজনৈতিক আশ্রয়ে থাকা মুসলিম মৌলবাধী সংগঠনগুলো এসব করছেন বলে অভিযোগ করেন।