লক্ষ্মীপুরে সিন্ডিকেটের ধানে গুদাম ভরপুর : অসহায় কৃষক (পর্ব ১)

নিজস্ব প্রতিবেদক :  

সারাদেশে কৃষকদের ক্ষতি লাঘবে সরকার ভর্তুকি দিয়ে ধান কেনার কর্মসূচি গ্রহণ করলেও লক্ষ্মীপুরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৌরাত্মে তা ভেস্তে যেতে বসেছে। সিন্ডিকেটের ধান দিয়েই খাদ্য গুদাম ভরপুর করা হচ্ছে। এতে কৃষি কার্ড থাকার সত্ত্বেও ধান বিক্রি করতে না পারায় অসহায় হয়ে পড়েছে কৃষক। অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য, কৃষি ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ধান সিন্ডিকেটের দাপট চলছে গুদামে।

তবে জেলা খাদ্য কর্মকর্তা সাহেদ উদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, সদর উপজেলা সরকারের বরাদ্দ অনুযায়ী ৯৫৭ মেট্রিক টন কেনা শেষ হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ফের বরাদ্দের জন্য আবেদন করা হবে।

অভিযোগ রয়েছে, খাদ্য, কৃষি ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজসে ধান সিন্ডিকেটের লোকজনকে কৃষক সাজিয়ে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়। পরে তাদের থেকেই গুদাম কর্তৃপক্ষ ধান ক্রয় করে। এতে প্রকৃত কৃষকরা বঞ্চিত হয়।

এদিকে প্রকৃত  কৃষকরা গুদামে ধান নিয়ে আসলেও বিভিন্ন অজুহাত দেখিয়ে তাদেরকে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। ধান আনা নেওয়াতে কৃষকের মোটা অংকের ভাড়া গুণতে হচ্ছে। ধান শুকানোর নামে পরদিন আসতে বলে কর্মকর্তারা কৃষকের সাথে প্রতারণা করার অভিযোগও রয়েছে।

কৃষক জয়নাল, আবুল খায়ের, সিরাজুল ইসলাম, বজলু মাঝি ও শফিক উল্যা জানায়, শুকনো ধান নিয়ে বিক্রি করতে তারা গুদামে এসেছে। কিন্তু কর্মকর্তারা ধান ভেজা বলে ফের শুকিয়ে আনার জন্য বলেছে। ফের ধান শুকিয়ে আনলের তাদের ধান কেনা হয়নি। তাদের দিয়ে ব্যাংক হিসাবও চালু করা হয়েছে। কৃষি কার্ডও রয়েছে। এতেও ধান বিক্রি করতে পারেনি তারা।

জানা গেছে, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ থেকে ধান কেনার খাদ্য গুদামে ১৩৫৮ জন কৃষকের তালিকা দেওয়া হয়েছে। তাদের থেকে মণ প্রতি ধান ১ হাজার ৫০ টাকা করে ৯৫৭ মেট্রিক টন ধান কেনার বরাদ্দ দেয় সরকার। কিছু সংখ্যক কৃষক থেকে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে।

তবে অধিকাংশ ধান সিন্ডিকেট থেকে কেনার অভিযোগ করেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। গত বছর কৃষকদের থেকে ধান না কেনায় সদর উপজেলা খাদ্য গুদাম কর্মকর্তাদের দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তলব করেছে।

চলবে…