প্রিয়ার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে আইনি পদক্ষেপ না নেয়ার নির্দেশ

বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ ধর্মীয় সংখ্যালঘু ‘ডিসঅ্যাপিয়ার্ড’ বা অদৃশ্য তথা গুম হয়ে গেছে- যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে গিয়ে এমন কথা বলে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছেন বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের একজন সাংগঠনকি সম্পাদক প্রিয়া সাহা।

প্রিয়া সাহার ওই বক্তব্যে বাংলাদেশে সমালোচনার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। সরকারের মন্ত্রীরাও তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের তাঁকে ‘দেশদ্রোহী’ অভিহিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন। আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও।

তবে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে প্রিয়ার বিরুদ্ধে তড়িঘড়ি করে কোনো আইনি পদক্ষেপ না নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। রবিবার (২১ জুলাই) দুপুরে সেতু ও সড়ক পরিবহন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

এ বিষয়ে ওবায়দুল কাদের জানান, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন প্রিয়া সাহা কেনো এমন কাজ করেছেন এ বিষয়ে তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ থাকা উচিত। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে লন্ডনে অবস্থান করছেন। সেখানে বসেই তিনি এই নির্দেশনা দিয়েছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রিয়া সাহার বক্তব্য বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তিনি দেশের বাইরে গিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে কেন ও কী উদ্দেশ্যে ওই বক্তব্য দিয়েছেন তা তিনি দেশে ফিরলে জানতে চাওয়া হবে। তার আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়া হবে। এর আগ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, তড়িঘড়ি করে কোনো লিগ্যাল অ্যাকশন নয়।

ইতোমধ্যে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে দুটি মামলা করা হয়েছে এমন প্রশ্ন করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলার জন্য রাষ্ট্রপক্ষের সম্মতি নেওয়ার পর গৃহীত হয়। আমাদের মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রীও তার বিরুদ্ধে মামলা করতে চেয়েছিলেন, আমি ব্যক্তিগতভাবে এ বিষয়ে নিষেধ করেছি। কারণ প্রধানমন্ত্রী রাতে আমাকে মেসেজ দিয়ে জানিয়েছেন, তড়িঘড়ি করে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ যেন না করা হয়। এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী ও মুক্তিযু্দ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে আমার কথা হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘একজন ব্যারিস্টার রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করতে গিয়েছিলেন। কিন্তু আইনমন্ত্রী আমাকে জানিয়েছেন, ওই রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা অগ্রাহ্য করা হয়েছে।’ কারণ হিসেবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা রাষ্ট্রের অনুমতি ছাড়া গ্রহণ করা যায় না। যিনি অভিযুক্ত তার বক্তব্য শোনা দরকার, তার ব্যক্তিগত সমর্থনে বক্তব্য শোনার সুযোগ দিতে হবে। জাতির জানা দরকার তার উদ্দেশ্যে আসলে কী ছিল। তার আগে আমরা কোনো ব্যবস্থা নেব না।

ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রিয়া সাহার ব্যক্তিগত বাড়ি-ঘর, সম্পদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। সেটা আমি তাকে জানিয়ে দিয়েছি।

এর আগে রোববার সকালে প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগ এনে মামলার জন্য আবেদন করা হয়। আজ দুপুরে ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমনের মামলাটির আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকা মহানগর হাকিম জিয়াউর রহমান মামলাটি খারিজ করে দেন।

আদেশে আদালত বলেন, ‘দণ্ডবিধিতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার যে সংজ্ঞা দেয়া আছে, তার মধ্যে প্রিয়া সাহার বক্তব্য পড়ে না বিধায় নালিশি মামলাটি খারিজ করা হলো।’

অন্যদিকে একই অভিযোগে ঢাকা বারের কার্যনির্বাহী সদস্য ইব্রাহীম খলিল তার বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা করেন। ঢাকা মহানগর হাকিম আবু সুফিয়ান নোমানের আদালতে দণ্ডবিধি ১২৪ (ক) ধারায় তিনি মামলাটি করেন। ইব্রাহীম খলিল পেনাল কোডের ১২৪ (এ) ধারা অনুযায়ী প্রিয়া সাহার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারির আবেদন করেন।

আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে আদেশ পরে দেবেন বলে জানান। বিকেলের দিকে এ মামলাটিও খারিজ করে দেন আদালত।