লক্ষ্মীপুরে স্কুল সভাপতির কাছে প্রধান শিক্ষক লাঞ্চিত

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে একটি বিদ্যালয়ের সংস্কার কাজে বরাদ্ধকৃত ২ লক্ষ টাকা ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন প্রকাশ পিচ্চি কামালের হাতে না দেওয়ার ঘটনায় ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমির হোসেনকে লাঞ্চিত করেছে। বিদ্যালয়টির নাম মধ্য মাছিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। মঙ্গলবার (১৬জুলাই) বিকেলে শিক্ষক লাঞ্চিতের ঘটনার সমাধানের জন্য উভয় পক্ষকে ডেকেছেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ দৌলতর রহমান।

এর আগে সোমবার (১৫জুলাই) বিকেলে উপজেলার চন্ডিপুর ইউনিয়নের মধ্য মাছিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত করার ঘটনা ঘটে। প্রধান শিক্ষক লাঞ্চিতের খবর উপজেলার সকল শিক্ষকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মধ্য মাছিমপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চলতি অর্থ বছরে উপজেলা শিক্ষা অফিস থেকে ক্ষুদ্র সংস্কার কাজের জন্য ২লক্ষ টাকা বরাদ্ধ দেওয়া হয়। এরই সূত্র ধরে প্রধান শিক্ষক কামাল হোসেন ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে সোমবার বিকেলে অফিস কক্ষে একটি মিটিং আহবান করে। এতেই সভাপতি ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। মিটিংরে সময় সভাপতি পরিকল্পিতভাবে নিজের অনুসারিদের নিয়ে স্কুলে প্রবেশ করে। এসময় মিটিং শুরুর পুর্বেই সভাপতি পিচ্চি কামাল বরাদ্ধকৃত ২লক্ষ উত্তোলন করে তার কাছে দিতে প্রধান শিক্ষককে চাপ সৃষ্টি করে। প্রধান শিক্ষক ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত ছাড়া ওই টাকা রাজি না হওয়ায় আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে সে। এক পর্যায়ে উপস্থিত সকল শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটি অন্যান্য সদস্যদের সামনেই প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত করেন বিদ্যালয়ের সভাপতি মোঃ কামাল হোসেন প্রকাশ পিচ্চি কামাল।

জানতে চাইলে অভিযুক্ত ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পিচ্চি কামাল বলেন, প্রধান শিক্ষককে কোন লাঞ্চিত করা হয়ানি। সভাপতি হিসেবে আমার অনেক দায়িত্ব রয়েছে। শুধু দায়িত্ব পালন করেছি। এলাকাবাসীকে না জানিয়ে প্রধান শিক্ষক গোপনে কাজ করলে যা হবার তাই হয়েছে।

লাঞ্চনার শিকার প্রধান শিক্ষক আমিন হোসেন জানান, সভাপতি কামাল হোসেন আমার কক্ষে ঢুকেই সকলে সমানে অশ্লীল ভাষায় গালমন্দ করে হেনস্তা করেছেন। একজন শিক্ষক হিসেবে এঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবী করছি।

এদিকে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি শেখ জাহাঙ্গীর আলম জানান, সভাপতি কর্তৃক প্রধান শিক্ষককে লাঞ্চিত ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে কতৃপক্ষকে সভাপতির বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানাচ্ছি।

উপজেলা শিক্ষা অফিসার দৌলতর রহমান জানান, বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। উভয় পক্ষকে ডাকা হয়েছে। শীগ্রই ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।