লক্ষ্মীপুর ঢাকা মহাসড়কে মেরামতের নামে চলছে তামাশা

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের সংস্কার কাজের ধীরগতির কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়েছে এই রুটে চলাচলকারী কয়েক উপজেলার মানুষ। জেলার অন্যতম ব্যস্ত সড়কটিতে পুরনো কার্পেটিং তুলে দীর্ঘদিন ফেলে রাখায় এটি এখন যানবাহন চলাচলের অনেকটায় অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কটিতে নিয়মিত পানি না ছিটানোর কারণে পরিণত হয়েছে ধুলার রাজ্যে। এতে শ্বাসকষ্ট, শর্দি-কাশিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন পথচারীরা।

আঞ্চলিক এ মহাসড়কটিতে নিম্মমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় বর্ষার শুরুতেই বিভিন্ন স্থানের কার্পেটিং উঠে যাচ্চে। সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত। সামান্য বৃষ্টিতে জমে যায় কাদা, সরে যাচ্ছে দুই পাশের ফুটপাতের মাটি। ফলে নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্য স্থানে পৌঁছাতে পারছেনা যানবাহনগুলো। কথাগুলো শনিবার (১৪ জুলাই) প্রতিবেদককে বলেন কলেজ ছাত্র ইকবাল হোসেন শিহাব।

তিনি আরো বলেন, সড়ক সংস্কার হয় মানুষের দুর্ভোগ লাগবের জন্য। কিন্তু এই মহাসড়কটির বর্তমান অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে, সংস্কারই আমাদের দুর্ভোগ বাড়িয়েছে। এ যেন মেরামতের নামে চলছে তামাশা। কারন পূর্বে রাস্তাটি খারাপ থাকলেও চলাচলে এত কষ্ট হয়নি পথচারীদের।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরীর ফেরীঘাট ও চাঁদপুরের হরিণাঘাট দিয়ে প্রতিদিনই এই রুটে চলাচল করে শরীয়তপুর, খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও দ্বীপজেলা ভোলার বাসিন্দারা। কিন্তু রাস্তাটির বেহাল অবস্থা হওয়ায় ভোগান্তিতে পড়তে হয় যাত্রীদের। স্থানীয় ও পথচারীদের দুর্ভোগ লাগবের জন্য ২০১৮ সালের প্রথম দিকে লক্ষ্মীপুর-রায়পুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ২০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার ও সম্প্রসারণের জন্য ৫৩ কোটি টাকা বরাদ্ধ দেয় সরকার। কিন্তু ধীরগতিতে কাজ করায় নির্দিষ্ট সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও এখনো শেষ করতে পারেনি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রানা বিল্ডার্স। ইতিমধ্যে লেয়ার ডেমেজের অজুহাতে সড়ক বিভাগের মাধ্যমে বরাদ্ধ নিয়েছেন আরো ৫ কোটি টাকা, বাড়িয়েছেন নির্মাণের মেয়াদ চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত।

আরো জানা যায়, শুরু থেকেই সড়কটির নির্মাণ কাজের অনিয়মের প্রতিবাদ করছেন স্থানীয়রা। তারা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন বহুবার। গত বৃহস্পতিবার (১১ জুলাই) কয়েকটি যায়গায় সড়কের দুই পাশে ধানের চারা রোপনের মাধ্যমে অনিয়মের প্রতিবাদ করেন।

কয়েকজন পথচারি ও গাড়ির চালকরা জানান, গর্ত আর কাদায় প্রায় সময় গাড়ি আটকে যায়। একটি গাড়ির চাকার নিচে পড়া কাদা ছিটকে পড়ছেন অন্য গাড়ির যাত্রী ও পথচারীদের শরীরে। প্রায় সময় গর্তে পড়ে যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ভেঙ্গে যায়, আহত হয় যাত্রীরা। এতে করে যথাসময়ে গন্তব্য স্থানে পৌঁছাতে পারেন না যাত্রী ও পথচারীরা। তবে এই জন্য ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাচারিতা ও স্থানীয় প্রশাসনের নজরধারীর অভাকেই দুষছেন তারা। তবুও সমস্যা সমাধানে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এদিকে নিম্ম মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মের্সাস রানা বিল্ডার্স এর ঠিকাদার আজিজুর করিম বাচ্চু জানালেন, বিভিন্ন সমস্যা থাকার কারণে সড়ক সংস্কারে ধীর গতি দেখা দিয়েছে। তাই কিছুটা সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। তবে সহসাই সমস্যার সমাধান হবে জানান তিনি।

এসব অনিয়মের বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কোন কথা বলতে রাজি হননি জেলা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সুব্রত দত্ত। তবে শিগগিরই সড়কটি সংস্কারের কাজ শেষ করা হবে বলে জানান। এছাড়াও ফুটপাত ধস ও কার্পেটিং উঠে যাওয়ার বিষয়টি জানেন না তিনি। খোঁজ নিয়ে এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন প্রতিবেদককে।

শীর্ষ সংবাদ/এফএইচ