লক্ষ্মীপুরে কৃষকের ধান সিন্ডিকেটের হাতে : চক্র’র মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে সরকারি গুদামে

নিজস্ব প্রতিবেদক :  

লক্ষীপুরের রামগঞ্জ উপজেলায় চলতি বছর বোরো মৌসুমে কৃষকদের পরিবর্তে একটি প্রভাবশালীসিন্ডিকেট চক্র সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে বঞ্চিত হচ্ছেন সাধারণ কৃষকরা।

চলতি বছর রামগঞ্জ উপজেলাব্যাপী ১ম ধাপে ৩৮৩ জন কষকের কাছ থেকে ২৬০মেঃ টন ও ২য় ধাপে ৯০১ জন কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ৪৩৪ মেঃ টন ধান ক্রয় করার কথাথাকলেও স্থানীয় কাউন্সিলর প্রভাবশালী সিন্ডিকেট প্রধান দেলোয়ার হোসেন দেলু এসপি কৃষি কর্মকর্তা মোঃ তানভীর হোসেন, খাদ্য কর্মকর্তা ও ওসি এলএসডিকে ম্যানেজ করে উপজেলার কয়েকজন নেতার সঙ্গে ঐক্যবদ্ধ হয়ে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট তৈরি করে তাঁরা কৃষকদের কাছ থেকে কৃষি কার্ড সংগ্রহ করে অসহায় কৃষকদের কাছ থেকে প্রতি মণ ধান ৫০০থেকে ৫৫০ টাকা দরে কিনে সরকারি খাদ্যগুদামে ১ হাজার ৪০ টাকা দরে বিক্রি করে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা।

উপজেলা খাদ্যনিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৩ মে থেকে এই উপজেলায় চলতি বছরের ধান সংগ্রহ কার্যক্রম শুর হয়। এ বছর রামগঞ্জে ২৬ টাকা কেজি দরে ৪৩৪ মেঃটন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ধান সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে। কয়েকজন কৃষক অভিযোগ করেন, বাজারের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ মুনাফা পাওয়ায় স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধান কিনে নিচ্ছেন। তাঁরা কিছু কৃষককে ‘ম্যানেজ’ করে তাঁদের কৃষি কার্ড ব্যবহার করে সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করছেন। কৃষকেরা খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে গেলে ধান কেনা শেষ বলে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। কৃষকরা ধান দিতে না পেরে রামগঞ্জ খাদ্যগুদাম চত্ত¡রে চরম ক্ষোভ করেছেন। স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ ধানের দাম ৫০০ থেকে ৬৫০ টাকা। সরকারিভাবে প্রতি মণ ধান কেনা হচ্ছে ১ হাজার ৪০ টাকায়।

ইছাপুরের কৃষক মো: হানিফ, আনোয়ার, রাঘাবপুরের কৃষক ইকবাল , জসিম বলেন, ‘সরকারি গুদামে ধান বিক্রি করতে যাওয়ার পর কৃষকদের বলা হলো ধান কেনা শেষ। পরে জানতে পারলাম, একটি প্রভাবশালী দেলু এসপিসহ কয়েকজনের কাছ থেকে গুদামের কর্মকর্তারা ধান কিনছেন।’ কৃষকদের কাছ থেকে কার্ড নিয়ে খাদ্য গুদামে ধান দিচ্ছেন ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট। ধান সংগ্রহের চূড়ান্ত কৃষক তালিকায় মৃত ব্যক্তি ও কৃষক নয় এমন ব্যাক্তিদের নামও রয়েছে।

উপজেলার ভাদুর ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদ হোসেন বলেন, ‘প্রকৃত কৃষকেরা গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না। আমার ইউনিয়নের অনেক কৃষক আমার কাছে অভিযোগ করেছেন।

ইউপির চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, কৃষকদের ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা দেওয়ার কথা বলে তাদের কৃষি কার্ড নিচ্ছেন স্থানীয় ধান ব্যবসায়ীরা। কৃষকের পরিবর্তে সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীরা খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করছেন, এমন অভিযোগ এখন সকলের মুখে।

এ ব্যাপারে সিন্ডিকেট প্রধান দেলোয়ার হোসেন এসপি দেলুর সাথে বারবার যোগাযোগ করে তাকে পাওয়া যায়নি।

এ ব্যাপারে রামগঞ্জ খাদ্য গুদামের ওসি এলএসডি মোঃ ইসমাইল হোসেন জানান, ৪৩৪মেঃটনের মধ্যে মাত্র ২মেঃটন ধান সংগ্রহ করেছি। তবে এমপি সাহের নির্দেশের পর বর্তমানে ধান সংগ্রহ বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয় এমপি ড. আনোয়ার হোসেন খান জানান, ধান ক্রয়ের বিষয়ে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের কারনে অভিযোগ পাওয়ার পরে উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ও ওসি এলএসডিকে ধান ক্রয় বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। পরবর্তীতে প্রকৃত কষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হবে।