বিবাহিত পুরুষদের প্রতি নারীরা প্রেমে পরে কেন ? এই ১১ টি কারণ আপনার চোখ খুলে দেবে…

এক সময় জীবনে প্রেম নিয়ে যথেষ্ট গবেষনা করেছি, খুব কাছ থেকে দেখেছি বিবাহিত কিংবা অবিবাহিত মেয়েদের অসাধারণ প্রেম। কেউবা স্বামী সংসার রেখে পাড়ি জমাচ্ছে অজানার দেশে, কিংবা পাল তুলে দিচ্ছে নিষিদ্ধ কোন সুখের সন্ধানে। আবার কেউ কেউ সুন্দরী স্ত্রী রেখেও পাশের বাড়ির বৌদির সাথে নিষিদ্ধ সম্পর্কের পথে পা বাড়াচ্ছে। সব শেষে সত্যি কথা হল এগুলো মানুষকে সুখ দিতে পারেনা, সাময়িক সময়ের জন্য একটা জালে আটকে রাখে, হয়ত সে জাল চোখে দেখ যায়না, মাকরশার জালের চেয়ে সূক্ষ্ম এই জাল, তবু আটকা পড়ে যেতে হয়।

ইদানিং দেখা যাচ্ছে সুন্দরী অবিবাহিত মেয়েরা বিবাহিত, খোচা খোচা দাড়ী, কপালে কালো ফ্রেমের চশমা, চুলগুলো অগোছালো এইধরনের ছেলেদের প্রেমে হাবুডুবু খাচ্ছে। হয়ত তারা জানেও যে এই প্রেমের পরিনতি তেমন শুভ নয়। ছেলেটি তার বউ সংসার রেখে এই অবিবাহিত মেয়েটিকে বিবাহ করে সংসার তৈরি করার সম্ভাবরা খুবই ক্ষিন। তবুও নিম্নলিখিত কারনে এই সকল সুন্দরী মেয়েরা বিবাহিত ছেলেদের প্রেমে পরে। আর তাই কমবয়সী একটি মেয়ে প্রেমে হাবুডুবু খেলে বেশিরভাগ পুরুষের জন্যই নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়ায়। কিন্তু তার বাবার বয়সী একজন পুরুষের সাথে একটি কমবয়সী মেয়ে কেন প্রেমে পড়ে ?

১। অর্থনৈতিক নিরাপত্তাঃ

একজন মধ্যবয়সী পুরুষ মানেই অর্থনৈতিক ভাবে তিনি যথেষ্ট স্থির ও জীবনে প্রতিষ্ঠিত। মেয়েরা সেই আর্থিক নিরাপত্তাটাই খোঁজে, বিনা পরিশ্রমে নিজের জন্য সুখ নিশ্চিত করতে চায়। লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে মেয়েরা শুধু সেইসব মধ্যবয়সী পুরুষদের প্রেমেই পড়ে যারা আর্থিক ভাবে সুপ্রতিষ্ঠিত।

২। যৌনতার আনন্দে-অভিজ্ঞতাঃ

অনেক মেয়ে মনে করে একজন মধ্যবয়সী পুরুষ মানে যৌনতা সম্পর্কে কমবয়সী একজন তরুণের তুলনায় অনেক বেশি অভিজ্ঞ। তাছাড়া এই বয়সী পুরুষের অতি অবশ্যই একাধিক নারীর অভিজ্ঞতা হয়ে যায়। ফলে একজন কমবয়সী তরুণীকে ভালো বোঝে সে। সব মিলিয়ে তরুণীরা নিজের চাইতে অধিক বয়সের পুরুষকে সঙ্গী রূপে বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে যৌনতা বেশ একটা বড় ভূমিকা পালন করে।

৩। দায়িত্বশীলতাঃ

একজন মধ্যবয়স্ক পুরুষ নিজেকে গড়ে তোলার জন্য যথেষ্ট পরিশ্রম করেন। নিজে কি চায় সেটা তারা ভালো করেই জানে, তাই তাদের লক্ষ্য স্থির ও স্বচ্ছ থাকে। মধ্যবয়স্ক পুরুষরাই পারে একজন মানুষকে জীবনের আঁকাবাঁকা পথ চেনাতে, আস্থা তৈরি করতে, ওপরে উঠার প্রবল ইচ্ছাশক্তি তৈরি করতে, এমনকি প্রবল আত্মসম্মানবোধ তৈরি করতে।

৪। সুখের সংসারের লোভঃ

পুরুষটি যদি নিজের স্ত্রী সংসারকে অনেক ভালোবাসে ও তাদের নিয়ে অনেক সুখী থাকে, অনেক মেয়েই তাদের এই সুখ দেখে লোভে পড়ে যায়। বিশেষ করে পারিবারিক অশান্তি দেখে বড় হয়েছে এমন মেয়েরা। তারা ভাবে পুরুষটি নিজের প্রথম স্ত্রীকে যেমন ভালোবাসছে বা যত্ন করছে, তাকেও তেমনটা করবে।

৫। সম্পর্কের অভিজ্ঞতাঃ

একজন মধ্যবয়স্ক পুরুষ জীবনে একাধিক সম্পর্কে জড়িয়েছেন তাই তার অভিজ্ঞতাও অনেক। জীবনের ছোটখাট সবধরনের সম্পর্কের অভিনয় তিনি নিখুঁতভাবে বিবেচনা করতে পারেন। এটা কীভাবে সমাধান করা যায় যায় সেটাও তিনি ভালো জানেন। মধ্যবয়স্ক পুরুষ যথাসময়ে আবেগী হয়ে ওঠেন এবং নারীটির সাথে সত্যিকার গাঢ় সম্পর্ক স্থাপন করার চেষ্টা করেন।

৬। নিজে কিছু করতে না পারাঃ

অনেকে মেয়েই আছে পরাশ্রয়ী উদ্ভিদের মতন। তারা নিজেরা কিছু করতে পারে না, প্রতিটি ব্যাপারেই অন্য মানুষের সহযোগিতা চায়। তারা মনে করে যে একজন “ম্যাচিউর” পুরুষ তাদের দায়িত্ব সঠিক ভাবে পালন করতে পারবে।

৭। তরুণ প্রেমিক থেকে আঘাত পাওয়াঃ

নিজের প্রথম প্রেমিক যদি আঘাত দিয়ে চলে যায়, তবে অনেক মেয়েই অধিক বয়সের পুরুষদের দিকে ঝোঁকে। কারণ তাদের মনে হয় তরুণ প্রেমিকেরা ভালোবাসায় অসৎ ও অস্থির, আর বয়স্ক পুরুষেরা স্থির ও নির্ভরযোগ্য।

৮। বিয়ে বিরক্ততা নেইঃ

বিবাহিত পুরুষদের সাথে প্রেম করলে তারা সারক্ষন বিয়ে করো-বিয়ে করো বলে কানের কাছে ঘ্যান ঘ্যান করেনা। সময় পেলে তারা শুধু বিছানার সম্পর্কটাকে বেশী গুরুত্ব দেয়।

৯। সংসারের প্রতি সম্মান জানানোঃ

একজন বিবাহিত পুরুষ সব সময় চাইবে তার নিজের সংসার যেমন নিরাপধে থাকছে তেমনি এই অবিবাহিত মেয়েটার সংসারও নিরাপধে রাখতে। সে তার অবিবাহিত প্রেমিকার মা-বাবার প্রতি বেশী শ্রদ্ধাশীল হয়। সে অনায়াসেই দুটো পরিবার একসাথে সামলে নিতে পারে।

১০। স্বাধীনতাঃ

সাধারণত অধিকাংশ মধ্যবয়স্ক পুরুষ কোন ভনিতা ছাড়াই পুরোপুরি খুশি থাকে। একজন নারীকে তার আবশ্যিক করে তোলার কোন দরকার পড়ে না। তিনি কখনোই তার ওপর নির্ভর করেন না, এমনকি তার নিজের ডিনার অথবা কফির বিল নিজেই দেয়ার মানসিকতা রাখেন।

১১। বাবার মত স্নেহ করেঃ

অনেক সময় মেয়েরা যদি নিজের বাবার খুব ভক্ত হয়ে থাকে, তবে কোন পুরুষের মধ্যে বাবার ছায়া দেখা মাত্রই প্রেমে পড়ে যায়। যেহেতু বাবা একজন মধ্যবয়সী পুরুষ, তাই স্বভাবতই ওই বয়সী অন্য পুরুষদের মাঝেও বাবার ইমেজ খুঁজে পাওয়া সহজ। বাবার মতন যত্ন নেয় বা স্নেহ করে, এমন মধ্য বয়সী পুরুষদের প্রতি সহজে আকৃষ্ট হয় এক শ্রেণীর মেয়েরা।

আর এসব কারনেই আমাদের মত ত্রিশ পেরোনো কিংবা পয়ত্রিশ এর কাছাকাছি পুরুষদের ইদানিং যথেষ্ট চাহিদা রয়েছে। দুই ধরনের মানুষের কাছে আমাদের চাহিদা প্রবল। এক অবিবাহিত মেয়েরা, দুই বিবাহিত গৃহবধুরা। আর এই কারনেই অনেক সংসার অকালে ভেঙ্গেও যাচ্ছে।