লক্ষ্মীপুরে ত্রাণ অফিসের দুর্নীতি : তিন উপজেলায় বেকডেট সিডিউল, দু’টিতে নেই!

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুর জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ে ১২ কোটি টাকার টেন্ডারে অনিয়মের প্রমান পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এতে লক্ষ্মীপুর সদর, রামগতি ও কমলনগর উপজেলার দরপত্র (সিডিউল) জেলা কার্যালয়ে পৌছানোর তারিখ বেকডেট দেখানো হয়। এছাড়াও বাকী রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলারে কোন দরপত্র (সিডিউল) না দেখানোর প্রমাণ পেয়েছেন তারা।

আজ বুধবার (১০ জুলাই) সকালে দুদকের নোয়াখালী জুন আঞ্চলিক কার্যালয়ের সহকারি পরিচালক সোবেল আহমেদের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে উপস্থিতি ছিলেন, দুদকের সহকারি-পরিদর্শক আবুল কালাম আজাদ।

অভিযানে অনিয়মের বিষয়ে উল্লেখ করে দুদকের সহকারি পরিচালক সোবেল আহমেদ শীর্ষ সংবাদকে বলেন, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে অধিনে লক্ষ্মীপুরের ৫ উপজেলায় ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণ কাজের জন্য ১২ কোটি টাকার টেন্ডার অনুমোদন করা হয়। এ টেন্ডারের দরপত্র (সিডিউল) ক্রয়ের শেষ দিন ছিলো ২০ জুন বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এর ৫/৬দিন পুর্বে জেলা ত্রান ও পুনর্বাস কার্যালয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলাগুলো দরপত্র (সিডিউল) পৌছানোর কথা থাকলেও নির্দিষ্ট সময় কেউই পৌছায়নি।

শুধু নিয়ম রক্ষার জন্য লক্ষ্মীপুর সদর (স্বারক নং-৫৩০) তারিখ ১৬ জুন, কমলনগর (স্বারক নং ৬৪৯) ১৯ জুন ও রামগতি উপজেলা পরিষদ (স্বারক নং ২৫৪) ১৭ জুন বেকডেট দিয়ে গত (২০ জুন) দরপত্র বিক্রির শেষ দিন বিকেলে জেলা কার্যালয়ে পৌছায়। এছাড়াও রায়পুর ও রামগঞ্জ উপজেলা পরিষদের কোন দরপত্রই (সিডিউল) জেলা কার্যালয়ে পৌছানো হয়নি।

এতে বিক্রির সময় শেষ হওয়ায় ও উপজেলা পরিষদগুলো সিডিউল বিক্রিতে অনিয়ম করায় কোন ঠিকাদারই দরপত্র (সিডিউল) ক্রয় করতে পারেনি। যা সম্পূর্ণ ভাগবাটোয়ারা করা হয়েছে। এতে সরকারও বিপুল অংকের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে।

তবে ১২ কোটি টাকার টেন্ডারে অনিয়মের বিষয় নিজেই স্বীকার করেন জেলা ত্রাণ ও পুর্বাসন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান।

এছাড়া টেন্ডারে অনিয়মের কারণে সরকার রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়ে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানোর কথা জানিয়েছেন।

ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মান কাজে অনিয়মের এ টেন্ডার দ্রুত বাতিলের জন্য দূর্নীতি দমন কমিশনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত ভাবে সুপারিশ করা হবে বলেও জানান দুদকের এ কর্মকর্তা।

উল্লেখ্য, ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ১২ কোটি টাকা ব্যয়ে লক্ষ্মীপুরের উপজেলা পর্যায়ে ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণের প্রকল্পের জন্য ঠিকাদারদের কাছে দরপত্র আহ্বান করা হয়। যার দরপত্র বিক্রির শেষ সময় ছিলো ২০জুন এবং দরপত্র জমা দেওয়ার সময় ২৩জুন। নির্দিষ্ট সময়ে ঠিকাদাররা দরপত্র ক্রয় করতে পারেনি প্রভাবশালী টেন্ডারবাজদের বাঁধায়। সংশ্লিষ্ট জেলা ত্রাণ ও পুর্নবাসন কর্মকর্তার যোগসাজসে এ ১২ কোটি টাকার টেন্ডার ভাগবাটোয়ারা হয় বলে দরপত্র ক্রয়ে বঞ্চিত হওয়া ঠিকাদারদের অভিযোগ।