লক্ষ্মীপুরে জোয়ার-ভাটার উপর নির্ভর করে চলছে ফেরী : জনদুর্ভোগ চরমে

নিজস্ব প্রতিবেদক :  

নাব্যতা সংকট আর ডুবো চরের কারণে ব্যাহত হচ্ছে লক্ষ্মীপুর-ভোলা নৌ-রুটের ফেরী চলাচল। নদীর জোয়ার ভাটার উপর নির্ভর করেই এখন এই নৌ-রুটে চলাচল করছে ফেরী। এর পরও পারাপারের সময় আটকা পড়ছে মেঘনা নদীর ডুবোচরে। এতে সময় নষ্ট হচ্ছে ঘন্টার পর ঘন্টা। ফলে চরম দূর্ভোগে পড়েছেন এই নৌ-রুটে চলাচলকারী যাত্রীরা।

এদিকে নাব্যতা সংকটের কারণে ফেরী চলাচলে বিঘ্ন ঘটায় দিনের পর দিন লক্ষ্মীপুরের মজু চৌধুরী হাট ফেরী ঘাটে আটক পড়ে থাকে পণ্যবাহী যানবাহন। এতে বিপাকে পড়েছেন ট্রাক চালক ও মালিকরা।

২০০৮ সালের  ফেব্রুয়ারি  মাসে লক্ষ্মীপুর হয়ে ঢাকা-চট্রগ্রামের সাথে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরী হাট ফেরী ঘাট সার্ভিস চালু করে সরকার। এরপর থেকেই লক্ষ্মীপুর-ভোলা এই নৌ-রুট দিয়ে যাতায়াত করছে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার মানুষ। বর্তমানে এই নৌ-রুটে  কনকচাপা, কুসুমকলি ও কিষানী নামের তিনটি ফেরী চলাচল করছে। এছাড়াও প্রতিদিন হাজারও যাত্রী নিয়ে মজু চৌধুরীর ঘাট হয়ে ভোলা ও বরিশালে উদেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে ৭ থেকে ৮টি লঞ্চ। কিন্তু বর্তমানে মজুচৌধুীর হাট ঘাটের প্রায় এক কিলোমিটার অদুরে মেঘনা নদীর সংযোগস্থল রহমতখালী চ্যানেল, বুড়ির খাল ও মেঘনার নদীর মতিহাট পয়েন্টে নাব্যতা সংকট ও ডুবোচরে কারণে প্রতিনিয়তই এ নৌ-রুটে ফেরী ও লঞ্চ চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। ফলে লক্ষ্মীপুর ভোলা নৌ-রুটে ফেরী চলাচল করছে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে। এতে করে সময় নষ্ট হওয়ায় পাশাপশি প্রতিদিন ফেরী ও লঞ্চ ডুবো চরে আটকা পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হয় এই নৌ-রুটে চলাকারী যাত্রীদের।

এদিকে মজু চৌধুরীহাট ফেরী ঘাটে আটকা পড়ে থাকা ট্রাক চালক কামাল, রফিক ও রহিমসহ অনেকে জানান, গত তিন মাস ধরে এ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। এতে করে সীমাহীন দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে তাদের। এছাড়া সঠিক সময়ে গন্তব্যে ফেরী না পৌছাঁয় দু-পাড়ে দিনের পর দিন আটকা পড়ে থাকতে হয় শতশত পন্যবাহি যানবাহগুলো। এতে নষ্ট হচ্ছে ট্রাকে থাকা কাঁচামাল ও বিভিন্ন ধরনের পন্য সামগ্রী। এছাড়া দিনের পর দিন ফেরী ঘাটে আটকা পড়ে থাকায় টাকার অভাবে না খেয়েই থাকতে হয় অনেক ট্রাক চালক ও হেলপারদের ।

ফেরী কৃষানীর মাষ্টার মো. লেয়াকুজ্জামান ও ফেরী কুসুমকলির মাষ্টার শহিদুল ইসলাম জানান, মেঘনা নদীর লক্ষ্মীপুর অংশের রহমতখালী চ্যানেল, বুড়ির খাল ও মতিরহাট এলাকাসহ তিনটি পয়েন্টে ডুবোচর ও নদীর নব্যাতা সংকটের কারণে জোয়ার-ভাটার ওপর নির্ভর করে ফেরী চলাচল করতে হয়। এতে করে এই নৌ-রুটে সময়মত ফেরী চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। এছাড়াও অনেক সময় ডুবোচরে কারণে ঘন্টার পর ঘন্টা নদীতে আটকা পড়ে থাকতে হয় তাদের।

এদিকে লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর হাট ফেরী ঘাট পল্টুন লস্কর আবুল হাশেম বিষয়টি স্বীকার করে জানালেন, নদীর নব্যাতা সংকট ও ডুবোচরের কারণে ফেরী চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে। বিষয়টি উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। সহসাই ড্রেজিং এর মাধ্যমে ফেরী চলাচল স্বাভাবিক করা হবে বলে জানান তিনি।

নদী ড্রেজিং করে ফেরী ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত প্রদক্ষেপ নিবেন, এমনটাই প্রত্যাশা এ নৌ-রুট ব্যবহারকারীদের।