যেভাবে নারীদের অল্প বয়সী দেখাবে

একের বেশি সন্তান হলে অল্পবয়সী দেখতে লাগবে নারীদের। কথাটা শুনেই আঁতকে উঠবেন যে কেউ। আন্দোলন শুরু করবেন নারীবাদীরা। মনে হবে মধ্যযুগীয় কথাবার্তা। কিন্তু ‘প্লাস-ওয়ান’ পত্রিকায় সম্প্রতি কানাডার সিমোন ফ্রেজার বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা সংক্রান্ত লেখায় উঠে এসেছে এই তথ্য।

যত বেশি সন্তানের জন্ম দেবেন কোনও নারী, তাঁর ক্ষেত্রে তত বেশি দীর্ঘ হবে টেলোমিয়ার। প্রত্যেকটি ডিএনএ স্ট্যান্ডে টেলোমিয়ারই হল রক্ষাকারী অগ্রভাগ। এটি কোষকে বয়সের হাত থেকে রক্ষা করে অর্থাত্‍ ‘সেলুলার এজিং কমিয়ে দেয়। দীর্ঘ টেলোমিয়ার বেশি আয়ুকে নির্দেশ করে। কোষের প্রতিলিপি তৈরির সঙ্গেও এই সম্পর্ক রয়েছে।

গুয়াতেমালার দু’টি প্রত্যন্ত উপজাতির ৭৫ জন নারী, তাঁদের সন্তান এবং নারীদের টেলোমিয়ারের উপর পরীক্ষা করে এই সিদ্ধান্তে এসেছেন।

নারীদের থুতু এবং মুখের লালা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে দু’টি বিন্দুতে পরীক্ষার মধ্যে প্রায় ১৩ বছরের তফাত পাওয়া গিয়েছে।

এই প্রথমবার সন্তানের সংখ্যা এবং সময়ের সঙ্গে মানুষের দেহের কোষে টেলোমিয়ারের ছোট হয়ে যাওয়ার উপর কোনও গবেষণা করা হল। গবেষকদের মতে, এই পরীক্ষা জৈবিক ইতিহাসের সম্পূর্ণ বিপরীত।

এটি নির্দেশ করছে একাধিক সন্তানের উপর নারীদের শারীরিক সুস্থতা ও আয়ুবৃদ্ধি নির্ভরশীল! অধ্যাপক গবেষক পাবলো নেপোমন্যাশ্চির মত, যাঁদের নিয়ে পরীক্ষা করা হয়েছে, তাঁদের বেশিরভাগই একাধিক সন্তান এবং টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ্য বেশ ধীরে ধীরে কমছে। গর্ভাবস্থায় নারীদেহে ইস্ট্রোজেন হরমোনের পরিমাণ প্রবল বৃদ্ধি পাচ্ছে। যেটি মূলত অ্যাণ্টি অক্সিডেণ্ট হিসাবে কাজ করছে। ফলে, ‘সেলুলার এজিং’ ধীর গতিতে হচ্ছে এবং টেলোমিয়ারের দৈর্ঘ্যও ধীর গতিতে হ্রাস পাচ্ছে।

তবে, যেরকম সামাজিক ও প্রাকৃতিক পরিবেশে এই পরীক্ষা করা হয়েছে, তা হয়তো জননের ক্ষমতা এবং সেলুলার এজিং-এর ছন্দতে প্রভাব ফেলছে। প্রাকৃতিকভাবে সন্তান ধারণে সক্ষম, একাধিক সন্তান রয়েছে এমন নারীদের উপর তাঁদের পরিবার এবং বন্ধুবান্ধবদের সমর্থন থাকে এই সমস্ত উপজাতির ক্ষেত্রে।

এই সমর্থন হয়তো কোনও কোনও ক্ষেত্রে ‘পজিটিভ এনার্জি’ সঞ্চার করে তাঁদের মধ্যে। যা মানসিকভাবে ভাল থাকতে সাহায্য করে এবং বয়স বাড়ে দেরিতে।