লক্ষ্মীপুরে কাবিখা প্রকল্পের নামে চলছে হরিলুট

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে কাবিখা-কাবিটা প্রকল্পের নামে চলছে লুটপাট। কাজ না করে টাকা তুলে নেয়ার অভিযোগ রয়েছে জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে। এছাড়া অতিদরিদ্রদের জন্য ইজিপিপি প্রকল্প বাস্তবায়নে রয়েছে নানা অনিয়ম। কোথাও কোথাও কাগজে-কলমে শ্রমিক নিয়োগ দেখানো হলেও এখনও কোনো শ্রমিক নেই মাঠে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ।

জানা যায়, লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার লাহারকান্দির ইদিলপুর আল হেরা মাদ্রাসা-সুলতানিয়া দাখিল মাদ্রাসা ও কুতুবপুর পোষ্ট মাষ্টার বাড়ি পর্যন্ত দুইটি কাঁচা সড়ক। এ দুইটি সড়কে মাটির কাজের জন্য প্রায় ১১ লাখ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়। কিন্তু সড়কে কোন কাজেই হয়নি। কাজ না করে পুরো টাকা আত্মসাৎ করা হয় বলে অভিযোগ উঠে। সদর উপজেলার চররমনী মোহন, চররুহিতা, দিঘলী, শাকচর, কমলনগর উপজেলার চরলরেন্স, সাহেবেরহাট, চরকালকিনি. পাটওয়ারীরহাট ইউনিয়নসহ রামগঞ্জ, রায়পুর, রামগতি উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের চিত্র একই্।

স্থানীয়রা জানায়, প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান-মেম্বাররা ভূয়া কমিটি গঠন করে বিভিন্ন প্রকল্প দেখিয়ে কাজ না করে প্রকল্পের পুরো টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করে। এসব বিষয়ে স্থানীয়রা প্রতিবাদ করলে নানাভাবে হয়রানী করা হয় বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

নাম প্রকাশে অনইচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, রাস্তা মাটির কাজের জন্য বরাদ্ধ আসলেও তা না করে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা ভূয়া প্রকল্প তৈরি করে টাকা তুলে নিয়ে আত্মসাৎ করে। অথচ এসব সড়কে বর্ষার সময় পানির কারনে চলাচল করা যাচ্ছেনা। এছাড়া কোথাও কোথাও কাগজে-কলমে শ্রমিক নিয়োগ দেখানো হয়। বাস্তবে মাঠে কোন শ্রমিক নেই।

এ বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রকল্পের সভাপতি এবং জেলা ত্রান ও পূর্নবাসন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান কোন কথা বলতে রাজি নয়। তবে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোশারেফ হোসেন বলছেন, অনিয়মের কোন সুযোগ নেই। তারপর সঠিকভাবে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হলে বরাদ্ধকৃত টাকা ফেরৎ নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, ২০১৮-২০১৯ইং অর্থবছরে লক্ষ্মীপুরে ৫টি উপজেলায় অতিদরিদ্রদের জন্য ইজিপিপি প্রকল্প খাতে বরাদ্ধ দেয়া হয় প্রায় ২০ কোটি টাকা। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা। গ্রামীন অবকাঠামো রক্ষনা-বেক্ষন(টিআর) প্রথম ও দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্পে ১৩ কোটি ৭৭ লাখ ১০ হাজার ১শ ২৫ টাকা। এছাড়া গ্রামীন অবকাঠামো সংস্কার (কাবিখা/কাবিটা) প্রকল্পে ৭ কোট ৫৪ লাখ ৯২ হাজার ৪শ ৩৯ টাকা বরাদ্ধ দেয়া হয়।