ঘটনাস্থল লক্ষ্মীপুরের রায়পুর : ৪০ স্থানে মাদক বিক্রি! ১০ দিনে গ্রেফতার ১৮

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর পৌর শহরসহ ৪০ স্থানে মাদক সেবন ও বিক্রি চলছে। গত ১০ দিনে পুলিশের বিশেষ অভিযানে ১৮ ব্যবসায় ও সেবনকারীকে আটক করে আদালতে পাঠিয়েছেন পুলিশ। প্রতিদিন ৪-৫ জন মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারী আটক করলেও সংখ্যা কমছে না। মাদকাসক্ত হয়ে ভয়ংকর অপরাধে জড়িয়ে পড়ার পাশাপাশি বিপদগামী হচ্ছে উঠতি বয়সের কিশোররা। অত্যাধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে অতি সহজেই হাতের নাগালে পেয়ে যাচ্ছে মাদক (ইয়াবা, ফেনসিডিল ও গাজা)। ফলে উপজেলার ১০টি ইউনিয়নের সর্বত্র ইয়াবা, গাঁজা, ফেন্সিডিলের ব্যবসা জমজমাট হয়ে উঠেছে। জুমআর দিনে মসজিদে গিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা, ১৮ ও ২১ বছরের নিচে ছেলে-মেয়েদের বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ, সন্তানদের প্রতি সচেতনতা ও মোবাইল ব্যবহার সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করছেন নবাগত ওসি মোহাম্মদ তোতা মিয়া।

স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিরা জানান, সহজলভ্য হওয়ায় কিশোর ও তরুণরা এ মরণনেশায় ঝুঁকে পড়ছে। প্রশাসনের তেমন কোন তৎপরতা না থাকায় এ মাদক ব্যবসা চলছে। ফলে সেবনকারীর সংখ্যাও আশংকাজনক হারে বাড়ছে।

রায়পুর এলএল পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের এক শিক্ষক জানান, প্রতিদিন বিকাল পাঁচটার পর থেকে রাত বারোটা পর্যন্ত মাদক ব্যবসায়ীরা গ্রামের রাস্তায় হেঁটে হেঁটে ইয়াবা, ফেন্সিডিল ও গাঁজা বিক্রির পাশাপাশি সেবন করছে। প্যান্ট বা শার্টের ভেতর রেখে মুঠোফোনে যোগাযোগ করে তা মটরসাইকেলে করে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে বিক্রি করা হয়।

রায়পুরে মাদক স্পটগুলো হলো- রায়পুর পৌরসভা বাস টার্মিনালের পিছনে সুপারী বাগান, টেলিফোন এক্সচেঞ্জ সড়ক, মৎস্য প্রজনন প্রশিক্ষন কেন্দ্র সংলগ্ন, পীর ফজলুল্লাহ সড়ক, রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজ সড়ক, মধুপুর, শহরের মুড়িহাটা সংলগ্ন মন্দির আখড়া, মুচিহাটা, পোষ্টঅফিস সংলগ্ন ওয়াবদা কলোনি, মহিলা কলেজ সংলগ্ন এলাকা, নতুনবাজার পানহাটা সংলগ্ন সুপারী বাগান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়ার্কশপ এলাকা, গোডাউন সংলগ্ন নদীর পাড়, পীর ফয়জুল্লা সড়ক, পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ড দক্ষিন কেরোয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংলগ্ন সুপারী বাগান, কেরোয়া ইউনিয়নের সুনামগঞ্জ বাজার সংলগ্ন বাগান, নয়ারহাট, বাঁশতলা, মোল্লারহাট, সোনাপুর ইউপির বাসাবাড়ি, চতাইল্লা দিঘীর পাড়ের মিঝি কোনা, চরবগা, রাখালিয়া, চরপাতা ইউপির বোর্ডারবাজার, পশ্চিম চরপাতা সিংহেরপুল এলাকা, বামনী ইউপির বাংলাবাজার, দরগাখোলা সড়ক, কবিরহাট, চরমোহনা, ১০নং রায়পুর ইউনিয়নের জনকল্যান বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয়ের পিছনের সুপারী বাগান, ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন সুপারী বাগান, দক্ষিণ চর আবাবিল, উত্তর চরবংশী, দক্ষিন চরবংশী ইউনিয়ন ও উত্তর চর আবাবিল ইউনিয়নের বেড়িবাঁধ এলাকা, এমপিবাজার সড়ক, হায়দরগঞ্জ ফাঁড়িথানার পেছনের কাইমুদ্দি বাড়ির এলাকা, কাঠেরপুল, ফজুমোল্লা ষ্টেশন, ঝাউডগী ও উত্তর চর আবাবিল গ্রামে সবচেয়ে বেশি মাদক বিক্রি হয় বলে জানা গেছে।

এলাকাবাসী জানান, সন্ধ্যা হলেই মোটরসাইকেলের যুবকদের আনাগোনা বেড়ে যায়। বাড়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদেরও। দেখা যায় ৮-১০টি মোটরসাইকেল এদিক সেদিক ছুটে বেড়াচ্ছে। এভাবেই মাদকের কেনাবেচা হয় বলে জানান এলাকাবাসী।

লক্ষ্মীপুর জেলা জজ আদালতের এডভোকেট মিজানুর রহমান মুন্সি জানান, মাদকের সহজলভ্যতা ও প্রশাসনের তেমন তৎপরতা না থাকায় চলছে মাদকের ব্যবসা। সেবনকারীর সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনি অপরাধ ও নৈতিক অবক্ষয়ও বেড়ে চলছে। পুলিশ সহ সচেতন মহল সবাইকে একতাবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে।

রায়পুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ তোতা মিয়া বলেন, প্রায় ২০ দিন হয়েছে এ থানায় যোগ দান করেছি। জুমআর দিনে মসজিদে গিয়ে মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স ঘোষনা, ১৮ বছরের নিচে বাল্য বিয়ে প্রতিরোধ, সন্তানদের প্রতি সচেতনতা ও মোবাইল ব্যবহার সম্পর্কে অভিভাবকদের সচেতন করছি। সকলের সহযোগীতা না পেলে ২০-২৫ জন পুলিশ অফিসার দিয়ে সমাজের মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন ও অন্যায় কাজগুলো প্রতিরোধ করা সম্ভব না। গত এক সপ্তাহে ১৫ জন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। মাদক ব্যবসায়ী ও সেবনকারীদের ধরতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।