ইরান ইস্যুতে সৌদি বাদশাহ-যুবরাজ-পম্পেও’র বৈঠক

মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রী মাইক পম্পেও সৌদি আরবের দুই সর্বোচ্চ নেতা- বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ এবং যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে পৃথকভাবে বৈঠক করেছেন। মধ্যপ্রাচ্যে ইরান আর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যে যুদ্ধাবস্থা তৈরি হয়েছে তা নিয়ে ওয়াশিংটনের দীর্ঘদিনের মিত্রের সঙ্গে পম্পেও’র এই বৈঠক।

সোমবার সকালে জেদ্দা বিমানবন্দের অবতরণ করে মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রীকে বহনকারী বিমানটি। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষিতে সৌদিতে ঝটিকা সফরে এসেঝেন পম্পেও। এদিকে ইরানের নৌবাহিনীর প্রধান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তাদের আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের আরও বেশ কিছু ড্রোন ভূপাতিত করতে দ্বিধা করবে না তারা।

জেদ্দা বিমানবন্দরে পৌঁছানোর পর পম্পেওকে স্বাগত জানান সৌদিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত জন আবেজেইদ এবং সৌদির ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইব্রাহীম আল আশাফ। সেখান থেকে তিনি বাদশাহ ও যুবরাজের সঙ্গে বৈঠক করতে যান।

সৌদির উদ্দেশে রওয়না দেয়ার আগে পম্পেও বলেন, তিনি পারস্য উপসাগরীয় নেতা ছাড়াও এশিয়া এবং ইউরোপ সফর করবেন। তাদের সঙ্গে আলোচনার উদ্দেশ্য, এসব অঞ্চলের দেশগুলোকে নিয়ে ইরান বিরোধী জোট গঠন করা।

পম্পেও আর জানান, ইরানের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করার জন্য প্রস্তুত আছে যুক্তরাষ্ট্র। ওই একইদিনে তিনি ইরানের বিরুদ্ধে ফের অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পও বলেছেন কোনো পূর্বশর্ত ছাড়াই তেহরানের নেতাদের সঙ্গে আলোচনায় বসতে রাজি আছেন তিনি।

ট্রাম্প তেহরানকে হুঁশিয়ার করে বলেছেন, ‘আমি কোনো যুদ্ধ চাই না তবে যদি সেটা হয় তাহলে এমন কিছু ঘটবে যা আপনি জীবনে কখনো দেখেননি।’ এর আগে গত সপ্তাহে ইরান মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করলে তিনি ইরানে হামলার নির্দেশ নিয়েও পরে তা বাতিল করেন।

গত বৃহস্পতিবার ইরান যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর ড্রোন ভূপাতিত করার পর ওয়াশিংটন-তেহরানের মধ্যে চলা উত্তেজনা যুদ্ধাবস্থার দিকে ধাবিত হচ্ছে। ড্রোন ভূপাতিত করার ইরান জানায় তার ওই সময় মার্কিন নৌবাহিনীর একটি সামরিক বিমান ভূপাতিত করতে পারতো কিন্তু করেনি।

ইরানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত ছয় জাতির পারমাণবিক চুক্তি থেকে গত বছর নিজের দেশকে প্রত্যাহার করে নেন ট্রাম্প। যার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমাগত বাড়ছে। এ ছাড়া গত দুই মাসে দুবার মধ্যপ্রাচ্যে তেলের ট্যাংকারে হামলায় ইরান জড়িত বলে ওয়াশিংটনের দাবি এবং মার্কিন ড্রোন ভূপাতিত করা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনার পারদ এখন চরমে।