লক্ষ্মীপুরে নিয়ন্ত্রণহীন টেন্ডার সন্ত্রাস : নিরব প্রশাসন

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুর জেলা জুড়ে টেন্ডারবাজদের সন্ত্রাসী কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণহীন ভাবে বেড়ে চলছে। সাধারণ ঠিকাদারদের জিম্মি করে সরকারের উন্নয়ন কাজের টেন্ডার একের পর এক হাতিয়ে নিচ্ছে চিহ্নত টেন্ডারবাজ সন্ত্রাসীরা। অভিযোগ রয়েছে সব জেনে শুনে নিরব ভূমিকা পালন করছে এ জেলার স্থানিয় প্রশাসন।

সর্বশেষ গতকাল (২৩ জুন) রবিবার ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রায় ১২ কোটি টাকার ব্রীজ-কালভার্ট ও উন্নয়ন মূলক কাজের আহ্বানকৃত টেন্ডার দলীয় ব্যানারে শেষ পর্যন্ত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যায় টেন্ডারবাজ সন্ত্রাসীরা।

এর আগে লক্ষ্মীপুর জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এলজিইডি, উপজেলা প্রকৌশলী কার্যলয়ের (এডিপি) ও শিক্ষা অধিদপ্তরের কয়েকটি কাজ টেন্ডারবাজ সন্ত্রাসীরা নিয়ন্ত্রণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ইতিপূর্বে টেন্ডারের টাকা ভাগ-বাটওয়ারা নিয়ে জেলা শহরে দু’পক্ষের মধ্যে মারামারি অতঃপর থানায় অভিযোগসহ সংবাদ সম্মেলন করতেও দেখা যায়। অথচ এসমস্ত টেন্ডারবাজদের বিরুদ্ধে কোন দৃশ্যমান ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি স্থানীয় প্রশাসনকে।

জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্প বাস্তাবায়নে দেশের বিভিন্ন জেলার মতো লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলার ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণের জন্য ঠিকাদারদের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করা হয়।

দরপত্র ক্রয়ের শেষ তারিখ ও সময় ছিল গত (২০ জুন) বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে ঠিকাদাররা দরপত্র ক্রয় করতে গেলে স্থানীয় টেন্ডারবাজদের তোপের মুখে পড়ে।একপর্যায়ে কয়েকজন ঠিকাদার সাংবাদিকদের খবর দেয়। এসময় সাংবাদিকরা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: মাহফুজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

বিষয়টি সাংবাদিকরা লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালকে অবহিত করেন। এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, প্রয়োজনে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওই কার্যালয় গুলোতে দরপত্র বিক্রয় করা হবে। কোন অনিয়ম পেলেও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন জেলার এই কর্ণধার। কিন্তু ওইদিন বিকেল পোনে ৫টায় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ে গিয়ে উল্টো টেন্ডারবাজ সন্ত্রাসীদের তোপের মুখে পড়ে বলে একাধিক ঠিকাদার জানান।

টেন্ডার দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ (২৩ জুন) রবিবার দুপুর পর্যন্ত থাকলেও নিদির্ষ্ট সময়ে রায়পুর, সদর ও রামগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় টেন্ডারবাজদের তোপের মুখে কোন ঠিকাদারই টেন্ডার বাক্সের সামনে যেতে পারেনি।

দরপত্র ক্রয়ে ব্যর্থ হওয়া কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, যারাই দরপত্র (সিডিউল) ক্রয় করতে চেয়েছেন। তাদের সবাইকে জোরপূর্বক বের করে দিয়েছেন স্থানীয় টেন্ডার বাজদের লোকজন। ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের যোগসাজসে টেন্ডারের কাজ গুলো ভাগ-বাটওয়ারা করা হয়েছে। তাই আমরা দরপত্র বাতিলে করে নতুন দরপত্র আহ্বানের দাবি জানায়।

জেলা সদরে দরপত্র ক্রয়ে ব্যর্থ হওয়া কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, যারাই দরপত্র (সিডিউল) ক্রয় করতে চেয়েছেন। তাদের সবাইকে জোরপূর্বক বের করে দিয়েছেন স্থানীয় টেন্ডার বাজদের লোকজন। ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের যোগসাজসে টেন্ডারের কাজ গুলো ভাগ-বাটওয়ারা করা হয়েছে। তাই আমরা দরপত্র বাতিলে করে নতুন দরপত্র আহ্বানের দাবি জানায়।

এদিকে রায়পুর উপজেলায় টেন্ডার ফরম ক্রয় করতে যাওয়া একজন ঠিকাদার জানান, রায়পুরের তিন কোটি ষাট লাখ টাকার টেন্ডার দরপত্র ক্রয় করতে গেলে (পিআইও) কার্যালয়ে স্বেচ্ছাসেবকলীগ নেতা তানভীর হায়দার রিঙ্কু, কৌশিক সোহেল, জহির পাটোয়ারী, ছাত্রলীগ সেক্রেটারি তারেক আজিজ জনি, ডালিমসহ আরো অনেকেই সিডিউল ক্রয় করতে আসা ঠিকাদারদের বাধা প্রদান করে, এই সিন্ডিকেটের মুল নিয়ন্ত্রণে পৌর মেয়র ইসমাইল খোকন এবং উপজেলা চেয়ারম্যান মামুনুর রশীদ ছিলো বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এই ঠিকাদার।

এ উপজেলায় আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত একজন ঠিকাদার আক্ষেপ করে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উন্নয়নকে দলের কিছু নেতারা সাধারণ মানুষের কাছে পৌছতে দেয়না।

রায়পুর উজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পী রাণী রায় শীর্ষ সংবাদকে বলেন, দরপত্র বিক্রয়ে কোন বাঁধা নেই। আমি ফিল্ডে আছি (২০ মিঃ) মধ্যে কার্যালয়ে আসবো। কোন ঠিকাদারের অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন এই কর্মকর্তা।

অপরদিকে প্রায় একই কায়দায় রামগঞ্জ উপজেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসন প্রকল্পের ব্রীজ-কালভার্টের কাজ গুলো বাগিয়ে নেয় স্থানিয় টেন্ডারবাজ সন্ত্রাসীরা।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: মাহফুজুর রহমান শীর্ষ সংবাদকে জানান, সময় স্বল্পতার কারণে দরপত্র বিক্রয় করতে দেরি হয়েছে। জরুরী বিত্তিতে জেলা কার্যালয়ে দরপত্র নিয়ে আসতে সংশ্লিষ্ট উজেলার পিআইওদের চিঠি পাঠিয়েছি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল শীর্ষ সংবাদকে বলেন, দরপত্র বিক্রয়ে অনিয়মের প্রমান পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।