লক্ষ্মীপুরে শেষ পর্যন্ত টেন্ডারবাজদের দখলে ১২ কোটি টাকার ব্রীজ-কালভার্ট

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর, রামগঞ্জ ও সদর উপজেলার ত্রাণ ও পুনর্বাসনের প্রায় ১২ কোটি টাকার ব্রীজ-কালভার্ট শেষ পর্যন্ত টেন্ডারবাজদের দখলেই গিয়েছে বলে জানা যায়।

টেন্ডার দরপত্র জমা দেওয়ার শেষ তারিখ আজ (২৩ জুন) রবিবার দুপুর পর্যন্ত থাকলেও নিদির্ষ্ট সময়ে রায়পুর, সদর ও রামগঞ্জ উপজেলায় স্থানীয় টেন্ডারবাজদের তোপের মুখে কোন ঠিকাদারই টেন্ডার বাক্সের সামনে যেতে পারেনি।

অভিযোগ রয়েছে জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: মাহফুজুর রহমানের মুখিক নির্দেশে স্ব স্ব উপজেলার ত্রাণ কর্মকর্তারা টেন্ডারবাজদের পরোক্ষভাবে সহযোগীতা করে ১২ কোটি টাকার কাজ ভাগ-বাটওয়ারা করেছে।

জানা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দেশের বিভিন্ন জেলার মতো লক্ষ্মীপুরের ৫টি উপজেলার ব্রীজ ও কালভার্ট নির্মাণ প্রকল্পের জন্য ঠিকাদারদের কাছ থেকে দরপত্র আহ্বান করে। দরপত্র ক্রয়ের শেষ তারিখ ও সময় ছিল গত (২০ জুন) বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা পর্যন্ত। কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ে ঠিকাদাররা দরপত্র ক্রয় করতে গেলে স্থানীয় টেন্ডারবাজদের তোপের মুখে পড়ে। একপর্যায়ে কয়েকজন ঠিকাদার সাংবাদিকদের খবর দেয়। এসময় সাংবাদিকরা জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: মাহফুজুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি উত্তেজিত হয়ে পড়েন।

বিষয়টি সাংবাদিকরা লক্ষ্মীপুরের জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পালকে অবহিত করেন। এসময় জেলা প্রশাসক বলেন, প্রয়োজনে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত ওই কার্যলয় গুলোতে দরপত্র বিক্রয় করা হবে। কোন অনিয়ম পেলেও ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন জেলার এই কর্ণধার। কিন্তু ওইদিন বিকেল পোনে ৫টায় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ে গিয়ে উল্টো টেন্ডারবাজদের তোপের মুখে পড়ে বলে একাধিক ঠিকাদার জানান।

দরপত্র ক্রয়ে ব্যর্থ হওয়া কয়েকজন ঠিকাদার বলেন, যারাই দরপত্র (সিডিউল) ক্রয় করতে চেয়েছেন। তাদের সবাইকে জোরপূর্বক বের করে দিয়েছেন স্থানীয় টেন্ডার বাজদের লোকজন। ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমানের যোগসাজসে টেন্ডারের কাজ গুলো ভাগ-বাটওয়ারা করা হয়েছে। তাই আমরা দরপত্র বাতিলে করে নতুন দরপত্র আহ্বানের দাবি জানায়।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো: মাহফুজুর রহমান জানান, সময় স্বল্পতার কারণে দরপত্র বিক্রয় করতে দেরি হয়েছে। জরুরী বিত্তিতে জেলা কার্যালয়ে দরপত্র নিয়ে আসতে সংশ্লিষ্ট উজেলার পিআইওদের চিঠি পাঠিয়েছি।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক অঞ্জন চন্দ্র পাল বলেন, দরপত্র বিক্রয়ে অনিয়মের প্রমান পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।