যেভাবে সুন্দরী তরুণীদের বাগে আনতেন হ্যাকার মাসুদ

উচ্চ মাধ্যমিকের পরে আর পড়াশোনা করা হয়নি সামির আল মাসুদের। কিন্তু ফেসবুকে তার পরিচয় তিনি নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী। মিথ্যে পরিচয় দিয়ে মডেল-অভিনেত্রীদের সঙ্গে বন্ধুত্ব গড়ে তুলতো মাসুদ। পরে কৌশলে তাদের ফেসবুক আইডি হ্যাক করে নিত নিজের দখলে। অর্থ না দিলে অশ্লীল ছবি বা লেখা পোস্ট করার ভয় দেখাতো।

তিনটি হ্যাকার গ্রুপের হয়ে কাজ করতো ২৩ বছরের হ্যাকার সামির আল মাসুদ। অনেক সময় টাকা দিয়েও আইডি ফেরত পাওয়া যেত না তার কাছ থেকে।

গত এক বছরে সে অন্তত ৩০ জন মডেল-অভিনেত্রীর ফেসবুক আইডি হ্যাকড করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নিয়েছে। এর মধ্যে মাহিয়া মাহি থেকে শার্লিনা হোসেন সহ একাধিক নায়িকা ও মডেল রয়েছেন। সর্বশেষ মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৮-এর প্রথম রানার্সআপ নিশাত নাওয়ার সালওয়ার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে। দশ হাজার টাকা নিয়েও আইডি ফেরত না দিয়ে শুরু করে টালবাহানা। ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম ডিভিশনের দ্বারস্থ হন নিশাত।

পরে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্র্যান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের সাইবার সিকিউরিটি অ্যান্ড ক্রাইম বিভাগের শরণাপন্ন হন তিনি। এদিকে রমনা থানার ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের একটি মামলায় গতকাল বুধবার ঢাকার খিলক্ষেতের একটি বাসা থেকে সামির আল মাসুদকে গ্রেপ্তার করে সাইবার ক্রাইম বিভাগ।

সিটিটিসির সাইবার ক্রাইম বিভাগের সিনিয়র সহকারী কমিশনার ইশতিয়াক আহমেদ জানান, মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে লেনদেনের সূত্র ধরে সামিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে। জনপ্রিয় ও উঠতি নারী মডেলদের টার্গেট করতেন তিনি। তারকাদের ফেসবুক আইডি নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার বিষয়ে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য দিয়েছেন এ হ্যাকার।

সাইবার ক্রাইম বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ের জনপ্রিয় অন্তত ৩০ অভিনেত্রী ও মডেলের ফেসবুক আইডি নিয়ন্ত্রণে নেন সামির আল মাসুদ।

গ্রেফতারের পরে এই প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশকে জানিয়েছেন টাকা দিয়ে অনেকে নিজেদের আইডি ফেরত পান। জনপ্রিয় চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পূজা চেরী, টিভি অভিনেত্রী শারলিনা হোসেন, শাহতাজ মুনিরা হাশেম, উপস্থাপিকা ও মডেল মারিয়া নূর এবং এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী তমালিকা কর্মকারের ফেসবুক আইডিও নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিলেন তিনি।

পরে টাকা দাবি করে এসব মডেল-অভিনেত্রীদের হুমকি দেওয়া হয়। টাকা পাওয়ার পর এদের অনেকের আইডি ফিরিয়ে দেন হ্যাকার সামির।

হ্যাকার মাসুদ জানান, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ১০ হাজার থেকে শুরু করে ৩০ হাজার টাকার বিনিময়ে আইডি ফেরত দেওয়া হয়। কখনো কখনো এর বেশি টাকায়ও দফারফা হতো।

সাইবার ক্রাইম বিভাগ সূত্রে আরও জানা গেছে, ফেসবুক আইডি হ্যাক করা সামির আল মাসুদ হ্যাকিং গ্রুপ অ্যানোনিমাসের সদস্য। উচ্চ মাধ্যমিক পর্যন্ত পড়লেও নিজেকে পরিচয় দেন একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী হিসেবে।