এখনও সালামি চাই : বুবলী

কয়েক দিন পরেই ঈদ। আর এই ঈদকে ঘিরেই তোড়জোড় চলছে সিনেমা মুক্তির। এখন পর্যন্ত নিশ্চিত মুক্তি পেতে যাওয়া তিন ছবির এক নায়িকা শবনম বুবলী। ঢাকাই সিনেমার শীর্ষতারকা শাকিব খান প্রযোজিত ও মালেক আফসারি পরিচালিত ‘পাসওয়ার্ড’ সিনেমায় শাকিবের নায়িকা হয়ে আবারও ঈদে আসছেন ’বসগিরি’ খ্যাত এই নায়িকা।

২০১৬ সালে মুক্তি পাওয়া ‘বসগিরি’ ছবির মাধ্যমেই ঢালিউডে অভিষেক ঘটে বুবলীর। ছবিটি মুক্তি পেয়েছিল ঈদে। তবে মজার বিষয় হলো অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত বুবলী অভিনীত সাতটি ছবিই মুক্তি পেয়েছে ঈদ উৎসবে। আর তার অষ্টম ছবি ‘পাসওয়ার্ড’ও মুক্তি পেতে যাচ্ছে এবার ঈদেই। লাকি সেভেন পার করে আসা এ নায়িকাকে সবাই উৎসবের নায়িকা বলে থাকেন।

ঈদের আনন্দ সবার মাঝেই শুরু হয়ে গিয়েছে। সবার কাজের ব্যস্ততা শেষ করে এখন সবাই ঈদে নিজেদের ও পরিবারকে সময় দেওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এবারের আয়োজনে থাকছে ঢাকাই ছবির চিত্রনায়িকা শবনম বুবলীর ঈদ আনন্দ,পরিকল্পনা,সালামি, পছন্দের খাবারসহ অনেককিছু। পাঠকদের জন্য তা তুলে ধরা হলো…

ঈদ নিয়ে শবনম বুবলী জানান, ঈদ মানেই খুশি, ঈদ মানেই উৎসব। যদি স্পেশালি বলতে চাই তাহলে বলবো, ঈদ সমস্ত মুসলমান জাতির সবচেয়ে বর একটা ধর্মীয় উৎসব। সবার মাঝে একটা খুশির আমেজ বিরাজ করে। এই আনন্দটা আসলে নির্ভর করে। সবরকম কাজ থেকে নিজেকে ছুটি দেওয়া। যখন ঈদ আসবে তার কিছুদিন আগে থেকেই আনন্দটা দ্বিগুণ হয়ে যায়। গত কয়েকবছর ধরে যেহেতু আমার ছবি আসছে ঈদে, সেদিক থেকে একটা বিশেষত্ব কাজ করে। ঈদের আনন্দ তো থাকেই তার সাথে বাড়তি মাত্রা যোগ করে আমার সিনেমা।

এবার ঈদ নিয়ে আমার পরিকল্পনা আমার নতুন ছবি ‘পাসওয়ার্ড’ নিয়ে। ঈদের আগে থেকেই আমেজটা শুরু হয়ে গিয়েছে আমার। এবার ঈদ পুরোটাই পাসওয়ার্ড কেন্দ্রিক। ঈদের সময় আমি বাসা থেকে খুব একটা বের হই না। সারাদিন বাসায় থাকি, পরিবারের সাথে সময় কাটাই। ছবি মুক্তি পেলে সেটা দেখতে হলে যাই। এছাড়া তেমন কোন কিছু থাকে না। ঈদের দিনই এবার ছবি দেখার ইচ্ছে আছে। দর্শক সারিতে বসে পুরো ছবিটা দেখবো। আর আমার ছবির টিম যদি প্রচারণায় কিংবা সবাই যদি ছবি দেখতে যায় তাহলে তাদের সাথে যাবো নয়তো একাই যাবো।

শৈশবের আর এখনের ঈদ প্রায় একইরকম হয় আমার। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে ভিন্ন হয়। ছোটবেলায় অনেকগুলো জামা কাপড় কিনতাম। সকালে একটা দুপুরে একটা বিকালে একটা এরকম করে জামা বদলাতাম। এরপর বাইরে গেলে আবার অন্য একটা জামা পরে বের হতাম। এটা মনে হলে এখন ভীষণ মজা পাই যে আমরা তিন বোন সারাদিন বাসায় থাকতাম কিন্তু একটু পরপর জামা পাল্টাতাম। পরিবারের সবার সাথে মজা করতাম। ওভাবেই সময়টা কেটে যেত। এখন সেগুলো খুব মিস করি , তখন কি আনন্দটাই না করতাম। এখনের ঈদটাও আনন্দের কিন্তু প্যাটার্নটা বদলেছে কিছুটা। এখন জামা কেনা বা শপিং করা সবকিছুই কাজ কেন্দ্রিক হয়ে গিয়েছে। শুটিং এর জন্য অনেক জামা কাপড় কিনতে হয়। যদিও আমি বোনদের মধ্যে সবার ছোট বলে এখনও অনেক গিফট পাই। আব্বু, আম্মু, বোন দুলাভাই সবাই আমাকে গিফট করে। ছোট বেলায় কম করে হলেও আমার চারটা জামা লাগতোই। আমি পোশাকের ব্যাপারে খুব সচেতন তখন থেকেই। সকাল বেলা একটু রোদ থাকতো তাই হালকা রকমের কোন পোশাক পড়তাম। এরপর দুপুরের দিকে একটু লাইট কালারের জামা পড়া আবার বিকেলের দিকে একটু গর্জিয়াস কিছু পড়া। চারটা জামার সাথে ম্যাচিং করে জুতো,পার্স,অলংকার কেনা এগুলো তো থাকতোই।

আর এখন তো প্রতি মূহুর্তেই কেনাকাটা করতে হয়। কাজ যখন থাকে তখন অনেক কেনা কাটা করতে হয়। সেদিক থেকে অনেক জামা জমে থাকে। তার মধ্যে কিছু ঈদে পড়বো বলে রেখে দেই এমন হয় না। ঈদের জন্য কিছু শপিং করতেই হয়। আর সবাই তো উপহার দেয়ই। আমি চেষ্টা করি আমার পরিবারকে গিফট দেওয়ার। এবার ঈদ উপলক্ষ্যে আম্মু আর আপুদের কাছ থেকে ছয়টা সালোয়ার কামিজ উপহার পেয়েছি। আর আব্বু আমাকে একটা শাড়ি উপহার দিয়েছে। আর আমি নিজে একটা লেহেঙ্গা কিনেছি। ঈদের জন্য আমার আটটা পোশাক হয়ে গিয়েছে এবার। এখন আর আগের মত করে জামা পাল্টানোর ব্যাপারটা হয় না। দেখা যায় সকালে আম্মুর সাথে কাজে সাহায্য করি। বাসায় মেহমান আসে তাদেরকে আপ্যায়ন করি। আমি নিজে কিছু আইটেম রান্না করার চেষ্টা করি। এভাবেই চলে যায় সেটা আর হয়ে উঠে না। একদম সিম্পলভাবে সেজে থাকি। খুব গর্জিয়াস কিছু পরা হয়না। তবে বের হলে চেষ্টা করি শাড়ি পড়ার। আমার হালকা যেকোন কালার আমার খুব পছন্দ। তাই সবসময়ই হালকা কোন কালারের জামা বা সালোয়ার কামিজ পড়ি। সেটা হোয়াইট, স্কাই ব্লু বা লেমন যে কালারই হোক। এটাতেই খুব স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি। অনেকসময় কমফোর্টের জন্য পালাজ্জোর সাথে কুর্তা পড়ি বা মেয়েদের কিছু পাঞ্জাবী আছে সেটা পড়ার চেষ্টা করি।

ঈদে সালামির বিষয়টা খুব ইন্টারেস্টিং। এটা এখনও আমি পাই। ছোটবেলা থেকেই সালামির প্রতি একটা আলাদা উত্তেজনা কাজ করতো। আব্বু আম্মু তো আছেই তারপর আপু,দুলাভাই সহ আত্মীয় যারা আছেন বড় তাদেরকে সালাম করা , এটা এখনও কাজ করে আমার মধ্যে। এখনও সবাইকে সালাম করি, সালামি চাই। এখন তো আমি কাজ করি সেই ক্ষেত্রে এখন আমাকেও দিতে হয়। আর আমার পরিবারে আমার নায়িকাসুলভ ব্যাপারটা নেই। তাদের কাছে আমি তাদের মেয়ে,তাদের বোন। আমাকে সবাই স্লাআমি দেয়। আর আমি ছোটদের সালামি দেই। এছাড়াও শুটিং শেষ হলে ঈদের আগে প্রোডাকশনের অনেকেই বলে আপু ঈদের সালামি দেন,তখন তাদেরকে দেই।

ছোটবেলায় নতুন নোটের প্রতি দুর্বলতা ছিল। নতুন নোট পেলে সেটা জমিয়ে রাখতাম। যখন একটু বড় হলাম তখন বলতাম এত টাকা নিব এর কম নিবো না। এখন পর্যন্ত অনেক টাকাই পেয়েছি। সর্বোচ্চ যদি বলি তাহলে ৫০০ ডলার পেয়েছিলাম সালামি। এটা বছর দুয়েক আগের কথা। আমার বড় দুলাভাই কানাডায় থাকেন তিনি ঈদের আগে দেশে এসেছেন। তখন দুলাভাইকে ধরলাম সালামি দেওয়ার জন্য। তিনি মজা করে বলছিলেন ডলারে নিলে কম পাবো আর টাকাই নিলে বেশি পাব। তাই মাই বলেছিলাম সবসময় তো টাকা-ই নেই এবার ডলার দেন।

তখন দুলাভাই আমাকে ৫০০ ডলার দিয়েছিলেন। দুলাভাই ইচ্ছে করে দেয় নি।আমি আমার ছোট ভাই ও মেঝো বোন মিলে মানিব্যাগ থেকে এটা নিয়ে নিয়েছি। ঈদের দুদিন আগে আসার কারণে উনার কাছে বাংলা টাকা ছিল না তেমন। তা নাহলে তো এত টাকা তো কেউ দিবে না, আমরা জোর করে নিয়েছি। এটা ভাবলে খুব মজা লাগে। সেই ডলারগুলো আমি এখনও খরচ করিনি জমিয়ে রেখেছি। এছাড়াও আগের অনেক টাকাই জমিয়ে রেখেছি। নতুন নোটগুলো খরচ করলে আমার খুব কষ্ট লাগে তাই অনেক টাকাই জমিয়ে রেখে দিয়েছি। আম্মু, আব্বু, বড় বোন ও দুলাভাই কাউকেই ছাড় দেই না এখন। সবাইকে সালাম করি এবং সালামি নেই। আর আমি এখন কাঊকে সালামি দিলে সেটা ছোটদেরকে ৫০০ টাকা আর বড়দের ১০০০ বা ২০০০ টাকা দেই।

ঈদে পছন্দের খাবার নিয়ে তিনি বলেন, আমি খুব ভোজনরসিক একজন মানুষ। খাবার খুব পছন্দ করি আমি। ঈদের কয়েকটা দিন প্রচুর খাওয়া দাওয়া হয় তখন ডায়েটের কথা মাথায় রাখি না। ঈদের দিন আমি ঝাল কিছু রান্না করি। সেটা একটা কিংবা দুইটা, প্রচুর তো আর রান্না করা সম্ভব হয়না। এবার ঈদে ডেসার্ট রান্না করার পরিকল্পনা করে ফেলেছি ইতোমধ্যেই। এর সাথে ফিরনি তো থাকছেই। মাংস তো সাধারণত সবাই রান্না করে ঈদের দিন, সেটাও থাকছে। গত ঈদে কালো ভুনা রান্না করেছিলাম এবার আর সেটা করবো না। এবার মাংসের কিছু একটা রান্না করবো।