রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত হয়নি

ঢাকা :

মিয়ানমারের রাখাইন থেকে বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের আইন অনুযায়ী অধিকার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মুসলিম বিশ্বের সহায়তা চেয়েছেন।

শনিবার (১ জুন) সৌদি আরবের মক্কায় ১৪তম অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কোঅপারেশান-ওআইসি সম্মেলনে এশীয় গ্রুপের পক্ষে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন।

এবার ওআইসি সম্মেলনের শিরোনাম ‘মক্কা আল মোকাররমা শীর্ষ সম্মেলন: ভবিষ্যতের জন্য একসঙ্গে’।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিতের জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করা হলে সবাই যেন সহযোগিতা করেন। সেসঙ্গে নিরাপত্তা ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে প্রতিকূল অবস্থা মোকাবিলায় ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোকে ব্যাপক পরিকল্পনা নিতে হবে।

শেখ হাসিনা বলেন, বাংলাদেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এরপরও মানবিক চিন্তা থেকে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত ১১ লাখ রোহিঙ্গা মুসলমানকে আমরা আশ্রয় দিয়েছি। তবে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবর্তন নিশ্চিত হয়নি। রোহিঙ্গাদের ফেরানোর জন্য উত্তর রাখাইনে যে অনুকূল পরিবেশ থাকা দরকার, মিয়ানমার প্রতিশ্রুতি দিয়েও সেটি করতে পারেনি। এ ব্যাপারে আইনি অধিকার রক্ষায় আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা হলে মুসলিম বিশ্বের সহযোগিতা কামনা করি।

রোহিঙ্গাদের অধিকার আদায়ে আন্তর্জাতিক আদালতে মামলা করতে আবুধাবিতে অনুষ্ঠিত পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের এক সম্মেলনে নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়। ওই সিদ্ধান্ত উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জবাবদিহিতা ও ন্যায় বিচারের প্রশ্নে রোহিঙ্গাদের অধিকার নিশ্চিত করার জন্য আন্তর্জাতিক আদালতে যাওয়ার পথ খুলেছে। এ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়ার জন্য গাম্বিয়াকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। মামলাটি দায়েরের ব্যাপারে স্বেচ্ছা তহবিল সংগ্রহ ও কারিগরি সহযোগিতা করতে ওআইসি সদস্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে আবেদন জানাই।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিজস্ব সমস্যাগুলো মোকাবিলা করার সক্ষমতা অবশ্যই ওআইসির থাকা উচিত। কারণ বিশ্বের এক-তৃতীয়াংশ কৌশলগত সম্পদ এ দেশগুলোর। সেসঙ্গে বিশ্বের তরুণদের বেশিরভাগ এ দেশগুলোর অধিবাসী। অর্থনীতি ও নিরাপত্তার প্রতিকূল চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি বিশ্বে ওআইসিকে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাপক পরিকল্পনা নেওয়া উচিত।