আ.লীগের নেত্রীদের স্বামীরা কে কি করেন?

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দলের সভাপতি হলেন শেখ হাসিনা। তার স্বামী প্রয়াত ড. ওয়াজেদ মিয়া। তিনি একজন বিশিষ্ট পরমানু বিজ্ঞানী। আওয়ামী লীগের অন্যতম শীর্ষ নেতা সাহারা খাতুন বিয়ে করেননি। আওয়ামী লীগের আরো অনেক শীর্ষস্থানীয় নেত্রী রয়েছেন যাদের স্বামী সম্বন্ধে আমাদের অনেকেরই জানা নেই। তাদের জন্যই আমাদের আজকের আয়োজন।
অগ্নিকন্যা খ্যাত আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য মতিয়া চৌধুরীর স্বামী প্রয়াত বজলুর রহমান ছিলেন সাংবাদিক। দৈনিক সংবাদের সম্পাদক। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত মতিয়া চৌধুরীকে তিনি সব ধরনের সহযোগিতা দিয়ে গেছেন। বজলুর রহমান ২০০৮ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি মারা যান।
শিক্ষামন্ত্রী ডা: দীপু মনির স্বামী হলেন তৌফিক নেওয়াজ। তিনি সুপ্রীম কোর্টের প্রতিথযশা আইনজীবি এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞও। তিনি বেশ ভালো বাশিও বাজাতে পারেন।
সাজেদা চৌধুরীর স্বামী ভাষাসংগ্রামী গোলাম আকবর চৌধুরী। তিনি একটি বীমা কোম্পানির কর্ণধর ছিলেন। চট্টগ্রামের বিষিষ্ট ব্যবসায়ী তিনি। মৃত্যুর আগ পর্যন্ত লেখালেখির সঙ্গেও নিজেকে জড়িত রেখেছিলেন।
জাতীয় সংসদের স্পিকার ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য শিরিন শারমিন চৌধুরী গান, উপস্থিত বক্তৃতা, বিতর্ক, কবিতা আবৃত্তিসহ নানা বিষয়ে তাঁর অনেক শ্রেষ্ঠত্বের পুরস্কার আছে। এখন সেইসব চর্চা না থাকলেও শিল্প-সংস্কৃতির ব্যাপারে তাঁর আগ্রহ বেশ। তাঁর স্বামী সৈয়দ ইশতিয়াক হুসাইন ফার্মাসিস্ট। একটি ফার্মাসিটিক্যাল কোম্পানিতেও কর্মরত আছেন তিনি। তিনি গ্রুপ থিয়েটারের সঙ্গেও যুক্ত। পদাতিক নাট্য সংসদের পরিচালনা পর্ষদেও আছেন।
বাংলাদেশের রাজনীতিতে আলোচিত মুখ অপু উকিল। সাবেক এই সংসদ সদস্য বর্তমানে যুব মহিলা লীগের সাধারণ সম্পাদক। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের উৎসাহেই সরাসরি রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছেন অপু। স্বামী হিসেবে অসীম কুমার উকিলকেও পছন্দ করে দিয়েছিলেন ওবায়দুল কাদেরই। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সংস্কৃতি বিষয়ক সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অসীম কুমার উকিল।

শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের ১৯৭২ সালের ২৯ ডিসেম্বের অধ্যাপক আবু সুফিয়ান আঁততায়ীর হাতে নিহত হওয়ার পর অল্প বয়সে বিধবা হন বেগম মন্নুজান সুফিয়ান। কিন্তু তিনি হাল ছাড়েননি। প্রয়াত স্বামীর পথ ধরে তিনি এগিয়ে যান শ্রমিক রাজনীতিতে। যার সুফল হিসেবে তিনি আজ মন্ত্রী।

তারানা হালিম প্রথমে বিয়ে করেছিলেন ইরতিজা নাসিম আলী বাবুকে। তিনি একজন ফটোগ্রাফার। প্রোব নামে একটি বিতর্কিত সংবাদ সংস্থার কর্ণধরও ছিলেন। তার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর আহমেদ রুবেলকে বিয়ে করেন তিনি। তার সঙ্গে বিচ্ছেদের পর এখন একাই জীবন যাপন করছেন।
সুবর্ণা মুস্তাফা ১৯৮৪ সালে অভিনেতা হুমায়ুন ফরিদীকে বিয়ে করেন। এই দম্পতি দীর্ঘ ২৪ বছর একসঙ্গে সংসার করেন। ২০০৮ সালে সুবর্ণা ডিভোর্স দেন হুমায়ুন ফরিদীকে এবং এর পরপরই বিয়ে করেন নাট্য পরিচালক বদরুল আনাম সৌদকে।

ফোক সম্রাজ্ঞী ও আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী মমতাজ এ পর্যন্ত তিনটি বিয়ে করেছেন। তার প্রথম স্বামী ছিলেন বাউলশিল্পী রশিদ বয়াতি। তার সঙ্গে ছাড়াছাড়ির পর মানিকগঞ্জ পৌরসভা চেয়ারম্যান রমজান আলীর সঙ্গে বিয়ে হয় মমতাজের।
কিন্তু সেই বিয়েও টেকেনি। ২০০৮ সালে রমজান আলীর সঙ্গে মমতাজের ছাড়াছাড়ি হয়। এরপর থেকেই নিজের প্রতিষ্ঠিত মমতাজ চক্ষু হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মঈন হাসান চঞ্চলের সঙ্গে গড়ে উঠে মমতাজের প্রেমের সম্পর্ক, যা বিয়েতে গড়ায়।

মেহের আফরোজ চুমকি ১৯৮১ সালে ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। তিনি সিপিএল ও পিপিসির ইনচার্জ।