বিএনপির আন্দোলন করার মত নেতৃত্বের ঐক্য ও কাজের সমন্বয় নেই : ওবায়দুল কাদের

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বেগম খালেদা জিয়াকে আন্দোলন করে মুক্ত করতে কাজের যে সমন্বয় ও নেতৃত্বের যে ঐক্য দরকার বিএনপির তা নেই। তিনি আজ দুপুরে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের সড়ক ভবনে আসন্ন ঈদ-উল-ফিতরে ঘরমুখো মানুষের নিরাপদ ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতে করণীয় শীর্ষক প্রস্তুতিমূলক সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

‘আন্দোলনের মাধ্যমে শিরদারা উচুঁ করে বিএনপি নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে শপথ নিয়েছে বিএনপি’ এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির আন্দোলনের কথা মুখে শুনেছি, বাস্তবে দেখিনি। ভবিষ্যতে আন্দোলন করার শপথ মুখে নিলে হবে না , তা সফল হবে কিনা তা দেখার অপেক্ষায় রইলাম।

কাদের বলেন, বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টি রাজপথে আন্দোলনের চেয়ে আইনি লড়াই উত্তম। তবে তাদের নেত্রীকে মুক্ত করার শপথ তারা নিতেই পারে। এ বিষয়ে আমাদের কোন আপত্তি নেই।

তিনি বলেন, আন্দোলনের হুমকি-ধামকি নেতা-কর্মীদের চাঙ্গা করার জন্য এটা শুধু বিএনপির নয়, যে কোন বিরোধীদলের চিরাচরিত কৌশল। সেটা বাস্তবে রুপ দিতে হলে কাজের যে সমন্নয় ও নেতৃত্বের যে ঐক্য দরকার বিএনপির তার কোনটাই নেই। তিনি বলেন, বিএনপির নেতৃত্ব দ্বিধাবিভক্ত(ডিভাইডেড)। কারণ দলটির মহাসচিব সংসদে যোগ না দেয়ায় আসনটি শূন্য ঘোষিত হয়। তারা আবার ওই আসনেও মনোনয়ন ও দিয়েছে। সংসদে সংরক্ষিত আসনেও তারা মনোনয়ন দিয়েছে। বিএনপি একদিকে ঘৃনাভরে সরকারকে প্রত্যাখান করছে, আবার পার্লামেন্টে যোগদানও করেছে। তারা রাজনীতিতে দ্বিচারিতা করছে।

কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সরে যাওয়া ও আরেক জনকে মনোননয়ন দেয়া কি তাদের মধ্যে অনৈক্য প্রকাশ করছে না? এ পরিস্থিতিতে তারা কিভাবে শিড়দারা উচু করে আন্দোলনন করে তাদের নেত্রীকে মুক্ত করবেন?
বিএনপি নেতারা খালেদা জিয়াকে অসুস্থ্য বললেও চিকিৎসকরা তাকে সুস্থ্য বলছেন সংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাদের বলেন, বেগম জিয়া জেলে আছেন, তিনি একাধিকবার দেশের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিএনপির নেতাদের তার শারিরীক অবস্থা নিয়ে অহেতুক রাজনীতি করা উচিত নয়। তাকে নিয়ে বিএনপির নেতাদের ইতিবাচক রাজনীতি করা উচিত, নেতিবাচক রাজনীতি পরিহার করা দরকার।

কাদের বলেন, বেগম জিয়ার অসুস্থ্যতা নিয়ে চিকিৎসকরা এক রকম কথা বলছেন, আবার বিএনপির নেতারা অন্য রকম কথা বলছেন। তাকে মুক্ত করার জন্য বিএনপির নেতারা একটি আন্দোলনও করতে পারে নি। তাদের মুখে আন্দোলনের কথা মানায় না।

আসন্ন ঈদে ঘরমুখো মানুষের বাড়ী ফিরতে কোন সমস্যা হবে না বলে আশাবাদ ব্যক্ত করে সেতুমন্ত্রী কাদের বলেন, ঈদ-উল-ফিতর উপলক্ষ্যে যে পরিকল্পনা গ্রহন করা হয়েছে, তা যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে ঘরমুখো মানুষের বাড়ী ফিরতে তেমন কোন দুর্ভোগ হবে না। তিনি বলেন, হযরত শাহ জালাল (র.) বিমানবন্দর থেকে গাজীপুর পর্যন্ত মহাসড়ক ছাড়া আর কোনখানে সমস্যা হওয়ার কথা নয়। এ এলাকায় ৩শ’ স্বেচ্ছাসেবক যাত্রীদের সুবিধার্থে কাজ করবে।

সেতুমন্ত্রী কাদের আরো বলেন, পাইলিংসহ যে কাজগুলো ঈদযাত্রায় বিঘ্নতা সৃষ্টি করে সে কাজগুলোকে বন্ধ রাখতে হবে। তবে ঈদে কারো ছুটি বাতিল করা হবে না।

এ সময় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের অতিরিক্ত সচিব নজরুল ইসলাম ও সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী ইবনে আলম হাসান সহ সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সূত্র : বাসস