লক্ষ্মীপুরে চেয়ারম্যান শেখ মজিবুরের দাপট; এবার কাজ বিক্রি না করায় পেটালেন ঠিকাদারকে

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে এক দাপটি ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মজিবুর রহমান। এবার সড়ক উন্নয়ন কাজ বিক্রি না করায় জুয়েল রানা (৩৩) নামে এক ঠিকাদারকে পিটিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, টেবিলের গ্লাস ভেঙে ওই ঠিকাদারের ঘাঁড়ে রক্তাক্ত জখম করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে। তিনি দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের ইউপি চেয়ারম্যান।

বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার দিঘলী ইউনিয়ন বাজার এলাকায় চেয়ারম্যানের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

আহত জুয়েল রানা সদর উপজেলার কুশাখালী ইউনিয়নের কাঠালী গ্রামের নুর আমিনের ছেলে। তিনি মেসার্স রুবিনা ট্রেডার্স’র স্বত্তাধিকারী। তার গলায় জখম ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জুয়েল জানায়, লক্ষ্মীপুর স্থানীয় সরকার প্রকৌশলীর (এলজিইডি) আওতাধীণ দিঘলী ইউনিয়নের রোশামিয়া চেয়ারম্যান বাড়ি থেকে পন্ডিতের হাট পর্যন্ত ৬৪০ মিটার সড়ক উন্নয়ন কাজ লটারির মাধ্যমে টেন্ডারের কাজ পায় মেসার্স রুবিনা ট্রেডার্স।
কাজটি পাওয়ার পর ওই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী জুয়েল রানাকে কাজ তার কাছে বিক্রি করতে চাপ দেয় ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মজিবুর। কাজ বিক্রি না করে নিয়মানুযায়ী ঠিকাদার জুয়েল সড়ক সংস্কার কাজ শুরু করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে ওই ইউপি চেয়ারম্যান। ঘটনার দিন গ্রামপুলিশ দিয়ে কাজ বন্ধ করে দেয় এবং রাতে দিঘলী বাজার এলাকায় নিজ অস্থায়ী কার্যালয়ে ঠিকাদার জুয়েলকে ডেকে নেয় তিনি।

কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে কার্যালয়ের দরজা বন্ধ করে জুয়েলকে বেধম মারধর করে। কাজ বিক্রি করতে রাজি না হওয়ায় টেবিলের গ্লাস ভেঙে হত্যার চেষ্টায় জুয়েলের ঘাঁড়ে পৌচ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে ইউপি চেয়ারম্যান শেখ মুজিবুর। এসময় খবর পেয়ে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন।

এদিকে এ ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন আহত ঠিকাদার জুয়েল রানা। এঘটনায় তিনি চন্দ্রগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ করেবেন বলে জানান।

এ বিষয়ে দিঘলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ মজিবুর রহমান শীর্ষ সংবাদকে জানান, মেসার্স রুবিনা ট্রেডার্স এর মালিক লটারীতে পাওয়া কাজটি দুই পক্ষের কাছে বিক্রয় করে। বিষয়টি আমি জেনে কাজটি বন্ধ করে দিয়ে সমাধানের জন্য তাদের উভয় পক্ষকে আমার কার্যালয়ে আসতে বলি। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা আমার কার্যালয় ভাংচুর করে এবং আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাছে।