লক্ষ্মীপুরে মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে চলছে শিক্ষার্থীদের পাঠদান

রামগঞ্জ (লক্ষ্মীপুর) :
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর মনসা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরাতন ভবনটি ঝরাজীর্ণ অবস্থায় শিক্ষার্থীদের জন্য ভয়ঙ্কর বিপনজনক হিসাবে দেখা দিয়েছে। যে কোন মুহুর্তে দেয়াল ও ছাদ ধ্বসে বড় ধরনের দূর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের হটকারী সিদ্ধান্তের কারনে সরকারী বরাদ্ধে অনুমোদনপ্রাপ্ত ৪তলা ভবনটিও অন্যত্রে স্থানান্তর হওয়ার আশঙ্কাও করছেন স্থানীয় এলাকাবাসী ও বিদ্যালয়ের বর্তমান ব্যাবস্থাপনা কমিটির নেতৃবৃন্দ।

স্থানীয় অভিভাবক মোঃ মাসুম জানান, বিগত ৪ বছর পূর্বে বিদ্যালয়ের উত্তর পাশের পুরাতন এ ভবনটি পরিত্যক্ত হলেও তা অপসারন না করে অদৃশ্য শক্তির ইশারায় ঝরাজীর্ণ এ ভবনটিতে পাঠদান অব্যাহত রেখেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ স্থানীয় এলাকাবাসী, শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যাবস্থাপনা কমিটির লোকদের সাথে সমন্বয় না করে একতরফাভাবে নিজের মনগড়া কর্মকান্ড চালানোর পায়তারা করছেন।

বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মোঃ ফয়েজ আহম্মেদ বলেন, ১৯২৪ইং সনে প্রতিষ্ঠিত এ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ৭৬৯জন। ১৯৯৫ইং সনে নির্মিত শহীদ মিনার সংলগ্ন একতলা ভবনটির ছাদ ও দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে। কয়েকবার ভিতরে চুনকাম করা হলেও প্রায়ই ইট সুরকি খসে পড়ে। ছাদে পানি জমে ড্যামেজ হয়ে গেছে। বেশ কয়েকবছর আগে বৃষ্টির সময় ছাতা দিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্লাশ করতো। সুপারী গাছ ও বাঁশ দিয়ে ছাদ ধ্বসে পড়া থেকে রক্ষা করলেও বর্তমানে দ্রুত এ একতলা ভবনটি ভাঙ্গা উচিৎ। না হলে পুরো ছাদ ও ওয়াল ধ্বসে মারাত্মক দূর্ঘটনায় প্রানহানির শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি। অভিভাবক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় লোকজনের দাবীর প্রেক্ষিতে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর সম্প্রতি অগ্রাধীকার ভিত্তিতে আধূনিকমানের চারতলা ভবনের জন্য চন্ডিপুর মনসা উচ্চ বিদ্যালয়কে তালিকাভূক্ত করে। কিন্তু অজ্ঞাত কারনে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন অর রশিদ পরিত্যক্ত ও ঝরাজীর্ণ পুরাতন ভবনটি না ভেঙ্গে মাঠের প্রায় মাঝখানে সরকারী বরাদ্ধে নতুন চারতলা ভবন নির্মানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সয়েলটেষ্ট করার জন্য বলেন। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়েন স্থানীয় এলাকাবাসী, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা। অভিভাবক ও এলাকাবাসী মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে ঘটনাটি জানতে চাইলে প্রধান শিক্ষক কোন উত্তর না দিয়ে এলাকাবাসীকে চলে যেতে বললে এলাকাবাসী প্রধান শিক্ষককে প্রায় দুই ঘন্টা তার রুমে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

এ ব্যপারে বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি ও শিক্ষাবিদ ইঞ্জিনিয়ার জাহীদুর রহমান শাহীন বলেন, আমরা স্থানীয় লোকদের সাথে কথা বলেছি। এলাকার মানুষ চায় পুরাতন ঝরাজীর্ণ একতলা ভবনটি ভেঙ্গে সেখানে সরকারী বরাদ্ধে নতুন চারতলা ভবনটি করার জন্য আমরা ইতোমধ্যে সকল কার্যক্রম শেষ করেছি। খুব শীগ্রয় কাজ শুরু হবে ইনশাল্লাহ। এছাড়াও শিক্ষার্থী ও শিক্ষার পরিবেশ উন্নতিকল্পে ব্যাক্তিগত উদ্যেগে প্রায় ১৭ শতক জমি ক্রয়ের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। এছাড়াও নির্মানকাজ চলাকালীন ক্লাশ পরিচালনা যেন কোন প্রকার ব্যাঘাত না ঘটে সে লক্ষেও বিকল্প ব্যাবস্থাও গ্রহণ করা হবে ব্যাক্তিগত উদ্যোগে।
এ ব্যপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মিজানুর রহমান ভূইয়া জানান, আমরা চাই না সরকারী স্বার্থের ব্যাঘাত ঘটুক। স্থানীয় এলাকাবাসী, শিক্ষক ও বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির লোকজনকেই এগিয়ে আসতে হবে সমাধানে।