ছাত্রলীগের কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর নিজস্ব ৭০ জন

ছাত্রলীগ নিয়ে কিছুদিন ধরেই একটা বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। এজন্যই ছাত্রলীগের সম্মেলনের দীর্ঘদিন পর সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের নাম ঘোষণা করা হয়। এই নাম ঘোষণার দীর্ঘ এক বছর পর আজ পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হলো। উল্লেখ্য যে, জাহা্ঙ্গীর কবির নানকের নেতৃত্বে চারজন আওয়ামী লীগ নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল ছাত্রলীগের কমিটি গঠনের জন্য। জাহা্ঙ্গীর কবির নানককে দায়িত্ব দেওয়ার আগে ছাত্রলীগের সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদককে কমিটির খসড়া দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী। কিন্তু সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকের বিরোধের কারণে কমিটির খসড়া তালিকা তৈরী করতে তারা ব্যর্থ হয়। এরপরই প্রধানমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দায়িত্ব দেন জাহাঙ্গীর কবির নানককে। জাহাঙ্গীর কবির নানক বর্তমান ও প্রাক্তন নেতৃবৃন্দর সঙ্গে আলাপ আলোচনার বৃত্তিতে ২৭১ জনের একটি তালিকা তৈরী করেছিলেন। পয়লা মে লন্ডনে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার আগে প্রধানমন্ত্রীর হাতে এই তালিকা দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী এই তালিকাকে তাৎক্ষনিকভাবে অনুমোদন না দিয়ে তিনটি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে দেন।
গোয়েন্দা সংস্থাই এটি অনুসন্ধান করে এবং গোয়েন্দা তদন্তে ঐ তালিকা থেকে ৫৭ জনের ব্যাপারে আপত্তি জানায়। এর কারণ হলো তাদের বিয়ে করা, ব্যবসায়ীক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং বিভিন্ন রকম সন্ত্রাস, টেণ্ডারবাজ, চাদাবাজির মতো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকা। জানা গেছে যে, গত শনিবার প্রধানমন্ত্রীর দেশে ফেরার পর তিনি তার নিজস্ব টিমের মাধ্যমে ৭০ জনের ছাত্রলীগের তালিকা তৈরী করেন। যে তালিকার মধ্যে রয়েছে মেধাবী শিক্ষার্থী, যারা ছাত্রলীগ করলেও ছাত্রলীগের নেতৃস্থানীয় নন। কিন্তু তারা ভালো শিক্ষার্থী এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে যাদের জনপ্রিয়তা রয়েছে। এরকম ৭০ জন শিক্ষার্থীকে তিনি বুঝে নেন। এদেরকেও কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। এদের অনেকের সঙ্গেই প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার পর আলাপ করেছেন। যাদেরকে প্রধানমন্ত্রীর পছন্দে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদেরকে বলা হয়েছে, সার্বক্ষনিকভাবে আওয়ামী লীগ সভাপতি বা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে। দলের মধ্যে যখনই কোন বিবেদ বা কোন্দল বা কোন রকম রেষারেষি তখন যেন তা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে অবহিত করা হয়। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে, ছাত্রলীগের যেন কোন বদনাম না হয় সেজন্য এই ৭০ জন সজাগ ও সচেতনভাবে থাকবে। তাদের কাছে ছাত্রলীগের যেকোন নেতার খারাপ কাজের খবর যখন পাবেন, সঙ্গে সঙ্গে যেন তারা তা কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দকে জানায়। প্রয়োজনে তা আওয়ামী লীগ সভাপতিকে জানাবে। মূলত এরা হলো ছাত্রলীগের বিভিন্ন কমিটির ওয়াচআপ। মূলত আওয়ামী লীগ গত ১০ বছর ধরে ক্ষমতায়। এই ক্ষমতায় আওয়ামী লীগের প্রধান মাথা ব্যাথার কারণ হচ্ছে ছাত্রলীগ। কমিটি গঠন করার পরই দেখা যায় যে, বিভিন্ন নেতারা নানা রকম অবৈধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েন এবং সরকারকে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে ফেলেন। তাই এবার ছাত্রলীগের কমিটি করা হয়েছে অনেক যাচাই বাছাই করে। চুড়ান্ত কমিটি গঠনের পর আরো ৭০ জনকে আওয়ামী লীগ সভাপতি এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজে পছন্দ করে কমিটিতে অর্ন্তভূক্ত করেছেন। যারা আসলে ছাত্রলীগের যেন কোন বদনাম না ঘটে এবং ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা যেন অনৈতিক তৎপরতার সঙ্গে জড়িয়ে না পরে তা তদারকি করবে এবং সেখানে তারা একটি ওয়াচটক হিসেবে কাজ করবেন।