লক্ষ্মীপুর শ্যামলী আইডিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ: শিক্ষক ও অফিস সহকারীর পরকীয়ায় তোলপাড়

নিজস্ব প্রতিবেদক :
শ্যামলী আইডিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ লক্ষ্মীপুর শাখার শিক্ষক কামাল হোসেনের সঙ্গে একই প্রতিষ্ঠানের অফিস সহকারী শাহনাজ আক্তারের পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারের একটি কথোপকথন নিয়ে তোলপাড় চলছে। এদিকে গতকাল রবিবার (১২ মে) কথোপকথনটির প্রায় অর্ধশতাধিক ফটোকপি প্রতিষ্ঠানটির দেওয়াল থেকে শুরু করে সর্বত্র টাঙ্গিয়ে প্রতিবাদ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তারা।

জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকেই কামাল আর শাহনাজের পরকীয়ার সম্পর্ক চলে আসছে। এসব বিষয়ে ক্যাম্পাসটির অধ্যক্ষকে বলেও কোন লাভ হয়নি। কারন শাহনাজ প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ এম এ সাত্তারের আত্মীয়। তোলপাড় হওয়া কথোপকথনটিতে দেখা যায়, ‘কামাল রক্তমাখা একটি টিস্যু সহ একটি ছবি দিয়ে ক্যাপশন লিখেছেন, এইটা কি জানেন, আমার শরিরের ব্লাড (রক্ত), অনেক খুঁজে বের করেছি, আজও সেই ঘটনা ঘটবে, আমাকে এগুলো করতে আপনি বাধ্য করছেন। জবাবে শাহনাজ লিখেছেন, রিপ্তী আব্বা (নিজ স্বামী) আছে, আমার ভাসুরের সাথে বিদেশে কথা বলছে, সে বাইরে জাইলে (যায়) আমি ফোন দিব, সে এখন ভাত খাই, রাগ করিও না’।

স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, কামাল আইন অমান্য করে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়াচ্ছেন। সে শিক্ষার্থীদের বেশি নাম্বার দেওয়ার কথা বলে, হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা। আর অনিয়মগুলো করে যাচ্ছেন চেয়ারম্যান এস এ সাত্তারের মামাতো বোন অফিস সহকারি শাহনাজের সাথে পরকীয়ার সম্পর্ক স্থাপনের মাধ্যমে। ফলে প্রতিষ্ঠান প্রধান তাঁর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করতে পারছেন না। তবে কামাল ও শাহনাজের এসব অনৈতিক কর্মকান্ডের জন্য শাস্তির দাবি করেন স্থানীয়রা। যেন ভবিষ্যতে এরকম কাজ কোন শিক্ষক না করে।

শাহনাজের সাথে সম্পর্কের কথা স্বীকার করে বাকী অভিযোগগুলো অস্বীকার করেন কামাল হোসেন। অভিযুক্ত বিষয়টির জন্য দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চান তিনি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এমন সম্পর্কে স্থাপন না করারও প্রতিশ্রুতি দেন কামাল ।

অভিযোগের বিষয়ে  অফিস সহকারী শাহনাজ আক্তারের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে ক্যাম্পাসটির অধ্যক্ষ বলেন, বিষয়টি জানার পর কামালকে সতর্ক করা হয়েছে। কিন্তু হঠাৎ করে গতকাল ক্যাম্পাসে কামাল আর শাহনাজের একটি কথোপকথনের ফটোকপি দেখতে পায়। যা উদ্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গহনের জন্য।

এ ব্যাপারে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান এম এ সাত্তার বলেন, বিষয়টি মিথ্যা ও বানোয়াট। ক্যাম্পাসটির সুনার নষ্ট করার জন্য কিছু লোকজন এমনটি রটাচ্ছেন। তারপরেও তিনি বলেন, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

শীর্ষ সংবাদ/এফএইচ