‘খুন হওয়া’ যুবক ৮ মাস পর জীবিত আটক

সংবাদদাতা : 

জমিজমা নিয়ে বিরোধের জেরে ছেলে মিলন হোসেনকে (১৮) অপহরণ করে হত্যা করা হয়েছে বলে নিজের তিন দেবরের বিরুদ্ধে গত বছর পাবনা সদর থানায় মামলা করেন মেরিনা খাতুন। ‘খুন হওয়া’ সেই ছেলেই সোমবার ময়মনসিংহ থেকে আটক হয়েছেন। এরপরই বেরিয়ে পড়েছে থলের বিড়াল।
জানা যায়, সম্পত্তির লোভে দেবরদের ফাঁসাতে এমন নাটক সাজিয়েছিলেন মা-ছেলে। দীর্ঘ পুলিশি তদন্তে প্রযুক্তির জালে ধরা পড়া মিলনকে মঙ্গলবার বিকেলে পাবনায় এনে আদালতে হাজির করা হয়।
পুলিশ জানায়, পাবনা সদর উপজেলার মালিগাছা ইউনিয়নের বাদলপাড়া গ্রামের মৃত. হজরত আলীর ছেলে মিলন হোসেন। হজরত আলীর পৈত্রিক সম্পত্তি নিয়ে স্ত্রী মেরিনা খাতুন ও ছেলে মিলনের বিরোধ চলছিল দেবরদের সাথে।
এই বিরোধের জের ধরে দেবররা মিলনকে হত্যার পর লাশ গুম করেছে বলে দেবর সাইদুল, আসলাম ও ইসলামকে আসামি করে গত বছর ১১ সেপ্টেম্বর আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন মা মেরিনা খাতুন।

মামলায় মেরিনা খাতুন উল্লেখ করেন, গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর বিকেলে তার ছেলে মিলন হোসেন বাড়ি ফেরার পথে তার দেবর আসামি সাইদুল, আসলাম ও ইসলাম মিলনকে অপহরণ করে হত্যার পরে লাশ গুম করে। আদালত পাবনা সদর থানাকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দিলে এসআই মহিউদ্দিনকে মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। নানা তথ্য উপাত্ত বিশ্লেষণে পুলিশ ঘটনা আঁচ করে ফেলে। একপর্যায়ে প্রযুক্তির জালে নিশ্চিত হয় জীবিত মিলনের অবস্থান।

সোমবার রাতে পুলিশ ময়মনসিংহ জেলা শহরের একটি রেস্টুরেন্টে অভিযান চালিয়ে মৃত সেজে আত্মগোপনে থাকা মিলনকে আটক করে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মিলন পাবনার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল আদালতের বিচারক একেএম কামাল উদ্দিনের কাছে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
পাবনা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ওবায়দুল হক জানান, গত আট মাসে মিলন নিজেকে মৃত প্রমাণ করতে ময়মনসিংহ, যশোর, সিলেট, ঈশ্বরদীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আত্মগোপনে ছিল। তারা মিথ্যা নাটক সাজিয়ে মামলা করেছেন, পুলিশকে হয়রানি করেছেন। এসব বিষয় আদালতে তুলে ধরে মা-ছেলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আবেদন করা হবে।