লক্ষ্মীপুরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে নিহতের ঘটনায় ১৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তার-৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে যুবতী শাহেনুর বেগম শাহীন অগ্নিদগ্ধ হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর ঘটনায় কমলনগর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে (৪/১/৩০ ধারায়) মামলা দায়ের হয়েছে। মামলায় নিহত ওই যুবতীর স্বামী সালাউদ্দিনকে প্রধান আসামী করে এজাহার নামীয় ৫ জন ও অজ্ঞাতনামা আরো ৮ জনকে আসামী করে এ মামলা দায়ের করেন নিহত শাহেনুরের বাবা জাফর উদ্দিন।

মামলায় এজহারনামীয় আসামীরা হচ্ছে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো: হাফিজ, গ্রাম পুলিশ আবু তাহের ও সালাউদ্দিনের ২ ভাই আবদুর রহমান বিশ্বাস ও আলাউদ্দিন। এ মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটককৃত ওই চার জন এজহার নামীয় আসামী হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে প্রধান আসামী সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের বেশ কয়েকটি টীম মাঠে তৎপর রয়েছে বলে জানান, কমলনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইকবাল হোসেন। অল্প সময়ের মধ্যেই নিহতের স্বামী সালাউদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে বলে আশাবদি তিনি।

এদিকে (আজ) মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেলে নিহত শাহেনুরের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশ।

এর আগে সোমবার রাতে লক্ষ্মীপুরের কমলনগর থানায় এসে পৌঁছেন নিহত শাহেনুরের পিতা জাফর উদ্দিন, মামা কামাল উদ্দিন, ফুফু নুরবানু। পরে থানা পুলিশের সহায়তায় শাহেনুরের অগ্নিদগ্ধ হওয়ার ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন ও স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন। পর রাত সাড়ে ১১টার দিকে নিহতের বাবা জাফর উদ্দিন বাদী হয়ে থানায় এ মামলা দায়ের করেন ।

মামলায় বাদী জানান, তাঁর মেয়ে শাহেনুর চট্টগ্রাম শহরের মুরাদপুরে ফুফু নুর বানুর সাথে বসবাস করত এবং একটি গার্মেন্টস কারখানায় চাকুরী করত। সেখানে পরিচয়ের সূত্র ধরে প্রায় দেড় বছর আগে সালাউদ্দিন তাঁর মেয়ে শাহেনুরকে চট্টগ্রামে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করে আন্ধারবাগ এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে কয়েক মাস সংসার করেন। সালাউদ্দিন তখন চট্টগ্রামে রিক্সা চালাত । গত কয়েকমাস আগে সে তাঁর মেয়ের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। খোঁজখবর নিয়ে প্রায় ১৫/২০ দিন পূর্বে শাহেনুর উক্ত এলাকায় এসে স্বামী সালাউদ্দিনের প্রথম শ্বশুর বাড়ী এসে স্ত্রীর মর্যাদা দাবী করে অপমানিত হয়ে ফেরত যায়।

তিনি আরো অভিযোগ করে জানান, ২১ এপ্রিল বিকেলে তার মেয়ে সালাউদ্দিনের কাছে স্ত্রীর অধিকার দাবী করেন এবং স্ত্রীর মর্যাদা না ফেলে ফেরত যেতে অস্বীকৃতি জানালে সালাউদ্দিন অন্যান্য আসামীদের সহযোগীতায় শাহেনুরের গায়ে কেরোসিন ঢেলে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় রেখে পালিয়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে সেখানে তার অবস্থায় অবনতি হলে তাকে লক্ষ্মীপুর সদর হাসপাতাল ও পরে জেলা পুলিশের সহায়তায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ণ ইউনিটে ভর্তি করা হয় । সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় শাহেনুর মারা যায়।

এদিকে নিহত শাহেনুরের মামা কামাল উদ্দিন জানান, মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতাল থেকে মরদেহ পরিবারের কাচে হস্তান্তর করা হবে। পর চট্রাগ্রামের রাউজান থানার নোয়াজেশপুর গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে শাহেনুর বেগমের মরদেহটি দাফন করা হবে।

শীর্ষ সংবাদ/এফএইচ