অগ্নিদগ্ধ নুসরাতের মৃত্যুতে বিমর্ষ তারকারাও

বিনোদন প্রতিবেদক : যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদের কারণে গায়ে কেরোসিন ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়া ফেনীর সোনাগাজী ফাজিল মাদরাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফি মারা গেছেন। পাঁচ দিন ধরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে চিকিৎসাধীন ছিলেন রাফি। বুধবার (১০ এপ্রিল) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মারা যান রাফি।

রাফির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে সর্বত্র শোকের ছায়া নেমে আসে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে শোকাহত পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও দোষীদের ফাঁসির দাবি। পাশাপাশি রাফির মৃত্যুতে শোকাহত শোবিজ দুনিয়ার মানুষজনও।

অভিনেত্রী ও কথাসাহিত্যিক হুমায়ুন আহমেদ পত্নী মেহের আফরোজ শাওন তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘একটা কন্যা সন্তানের খুব শখ ছিল। গোলগাল মায়া মায়া মুখ। ডাগর ডাগর চোখ। মাথা ভর্তি কোঁকড়ানো চুল। চেহারায় নকল এক গাম্ভীর্য! আমার লীলাবতী মা’টা। পৃথিবীতে আসার আগেই চলে গেছে ভালোই হয়েছে। এ দেশটা মানুষরূপী হায়েনায় ভরা।
নুসরাত মরেই গেল হার মানেনি নুসরাত।’

জনপ্রিয় তারিন জাহান তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘ফেনীতে আগুনে জ্বলসে দেয়া মাদ্রাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি মারা গেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। এই ঘটনার সাথে প্রত্যক্ষপরোক্ষভাবে জড়িত মানুষরূপী সকল পিশাচকে দ্রুত গ্রেফতার করে ট্রাইবুনালের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি কার্যকর করার দাবী জানাচ্ছি।’

অভিনেত্রী জাকিয়া বারী মম তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘নুসরাত আশ্চর্য আমরা। যেদিন আমার ছেলে-মেয়ে নুসরাত হবো সেদিন বুঝবে…. কত ধানে কত চাল…।’

জনপ্রিয় নারীনাট্যনির্মাতা চয়নিকা চৌধুরী তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমার মেয়েকে ওই এলাকায় গোসল দিবা না!

মৃত্যুর পরপর নুসরাতের মা মেয়েকে চুমু দিয়ে এই কথাই বলেন।
হে দয়াময়, মায়ের এই শোক বহনের ক্ষমতা দাও।…
আজ ভাষাহারা। স্তম্ভিত। বাকরুদ্ধ আমরা।
স্যলুট টু ইউ নুসরাত!’

ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী টয়া তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘হায়রে নুসরাত…
বোরখা, হিজাব পরেও লাভ হলো নারে।
দোষটা এবার কার?।’

অভিনেত্রী শার্লিন ফারজানা তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘বেশির ভাগ সময় ভুলে থাকি, কিন্তু পৃথিবী আসলেই কঠিন! কি ভয়াবহ অসহায়ত্বের ভেতর দিয়ে একটি পরিবার যেতে পারে!’

অভিনেত্রী আশনা হাবিব ভাবনা তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘শুধুমাত্র আজকে সব স্ট্যাটাস নুসরাতকে নিয়ে, তারপর আবার আমরা ভুলে যাব সব। আবারও কোন মেয়েকে কেউ জ্বালিয়ে দিবে, কেউ রাস্তায় বুকে চাপ দিবে, রেপ করবে, মেরে ফেলবে। এসব শয়তানের বাচ্চাদের রাস্তায় সবার সামনে ফাঁসিতে ঝুলানো উচিত।’

নারী নাট্যনির্মাতা মারিয়া তুষার তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আহারে কিছু বলার ভাষা খুঁজে পাচ্ছি না। আল্লাহ তাকে জান্নাত নসিব করুন, আমিন। দোষীদের শাস্তির দাবি রইলো।’

তরুণ নাট্যনির্মাতা মাবরুর রশিদ বান্নাহ তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আল্লাহ তোমাকে জান্নাতে শান্তি দিক বোন।’

কণ্ঠশিল্পী সিঁথি সাহা তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আরেকটি নুসরাত বিচার চাই।’

লেখিকা ও সাংবাদিক মারিয়া সালাম তার ফেসবুকে লিখেছেন, ‘কিছুটা কাজের চাপ আর কিছুটা শারীরিকভাবে অবসাদ বোধ করায় ভেবেছিলাম, একটু বিরতি নিব ফেসবুক থেকে। আজ নুসরাতের মৃত্যু সংবাদ শুনে মনটা বিষিয়ে উঠল।
আমি প্রায় বলি, বাংলাদেশে মনে মনে সবাই জামাত। মেয়েটা মারা গেল, দেখবেন তার খুনিরা কিছুদিনের মধ্যেই ছাড়া পেয়ে যাবে। দেশে এখন নতুন বোতলে পুরাতন মদ বিক্রির প্রক্রিয়া চলমান।

চিত্রানায়িকা তানিন সুবহা তার ফেসবুকে লিখেছেন, ইচ্ছা করছে অনেক গুলা গালি দিয়া ফেইসবুকে একটা স্ট্যাটাস লিখি সেই সব মানুষ রুপি জানোয়ার দের নিয়ে। আর ভাল লাগেনা, দিনের পর দিন মানুষের এমন অমানুষিক নির্যাতন দেখতে।।কেয়ামত মনে হয় খুব কাছেই চলে এসেছে। আহারে নুসরাত!! কতটা কষ্ট না জানি পেয়েছে বোনটা আমার।কুত্তার বাচ্চারা মেয়েটার গায়ে আগুন লাগানোর সময় একটা বার তোরা তোদের মা,মেয়ে/বোনের কথা চিন্তা করতি! জানোয়ার গুলা তোদের শাস্তি এইপারে হবে না হয়তো, না হলেও মনে রাখিস জাহান্নামের আগুনে জ্বলে পুড়ে শুধু একবার না হাজার বার মারা হবে।।।।
লিখতে অনেক কিছু ইচ্ছা করছে কিন্তু সাহস পাচ্ছিনা। দুনিয়াটা এখন এমন প্রান খুলে স্বাস করার মতো সাহস নাই।।।।
সব কিছুতেই ভয় লাগে।।
বোন জানি দুদিন পর তোরে ও সবাই ভুলে যাবে।।
তারপর ও আল্লাহ যেনো তোর সব গুনাহ মাফ করে দিয়ে তোকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করে।।
মাফ করে দিস!