সৌদিআরবে গ্যাস সিলেন্ডার বিষ্ফোরনে লক্ষ্মীপুরের ইসমাইলের মৃত্যু

নিজস্ব প্রতিবেদক:
সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে নিজ বাসায় রান্না করতে গিয়ে গ্যাস সিলিন্ডার বিষ্ফোরনে অগ্নিদগ্ধ ইসমাইল হোসেন (৪০) নামের এক প্রবাসী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে নিহতের গ্রামের বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলার রায়পুর উপজেলার চরমোহনা ইউনিয়নের পরিবার ও স্বজনরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নিহত প্রবাসী ইসমাইল ওই ইউনিয়নের উত্তর রায়পুর গ্রামের আমান উল্লার ছেলে। নিহতের লাশ বর্তমানে সৌদি আরবের রিয়াদ হাসপাতালের মর্গে রয়েছে। এদিকে প্রবাসীর মৃত্যুর খবরে পিতা-মাতা,স্ত্রী, দুই মেয়ে ও এক ছেলেসহ স্বজনদের মাঝে এখন শোকের মাতম বইছে।
নিহতের স্ত্রী ফেন্সি বেগম ও অষ্টম শ্রেণী পড়–য়া মেয়ে তানজিনা জানান, প্রবাসী ইসমাইল হোসেন গত ১০ বছর ধরে সৌদি আরবের রিয়াদ শহরে মালিকানাধীন একটি আবাসিক ভবনের তত্ত্বাবধায়কের কাজ করেন। ৪ বছর আগে বাড়ীতে এসে ছুটি শেষে আবার ফিরে যান। ১৩ দিন আগে ইসমাইল রিয়াদ শহরে নিজ বাসায় রান্না করতে গিয়ে গ্যাস সিলেন্ডার বিস্ফোরনে মারাত্মক আহত হন ও মুখমন্ডলসহ শরীরের বেশীরভাগ অংশ আগুনে পুরে যায়। এসময় তার সহ-কর্মীরা দগ্ধ-ইসমাইলকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। মঙ্গলবার সকালে তার বন্ধু আলাউদ্দীন নামে নোয়াখালীর সদরের বাসিন্দা ফোনে আমাদেরকে জানান তিনি মারা গেছেন। এ সংবাদে স্ত্রী ও সন্তান কান্না ভেঙ্গে পড়েন। পরিবারের একমাত্র উপার্জক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে এখন পাগল প্রায় পরিবারের লোকজন। আসপাশের স্বজনরা শান্তনা দিতে এসেও তারাও কান্নায় জড়িয়ে পড়েন।
চরমোহনা ইউপি সদস্য আমির হোসেন বলেন, প্রবাসী ইসমাইল হোসেনের নিহতের ঘটনা আমরা নিশ্চিত হতে পারিনি। পরিবার দাবি করছেন তিনি মারা গেছেন। আবার কেও বলছেন তিনি হাসপাতালের আইসিইউতে আছেন। ইসমাইলের মৃত্যুর সংবাদে বাড়ীতে স্ত্রী -সন্তানসহ স্বজনদের কান্নায় বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। ইসমাইলকে দ্রুত দেশে আনার দাবী তার।
রায়পুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিল্পি রানী রায় বলেন, এ ধরনের সংবাদ এখনো আসেনি। খোঁজ খবর নিয়ে নিহতের পরিবারকে সমবেদনা জানানো হবে। তাছাড়া নিহত প্রবাসীর মরদেহ দেশে দ্রুত ফিরিয়ে আনা হবে।