লক্ষ্মীপুরে ঘুষের টাকা ফেরত দিলেন ব্যাংক ম্যানেজার

নিজস্ব প্রতিবেদক :  
লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজার জনতা ব্যাংক শাখার ম্যানেজার দীনেশ চন্দ্র পাল ও একই শাখার ঋণ কর্মকর্তা মোঃ রায়হান আজ রোববার ( ৩১ মার্চ ) বিকেলে গণমাধ্যম কর্মীদের তোপের মুখে ৭০ বছর বয়স্ক বৃদ্ধ কৃষক আব্দুল হাই থেকে নেয়া ঘুষের ৪হাজার টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হয়েছেন।
দুদকের নোয়াখালী উপ-পরিচালক বরাবরে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের সূত্র ধরে গনমাধ্যম কর্মীরা উক্ত ব্যাংকের শাখায় ২৮ মার্চ গিয়ে ম্যানেজারের কাছে এ বিষষে জানতে চাইলে। এসময় তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে অভিযোগকারীকে তার কাছে নিয়ে আসতে বলেন।
আজ রবিবার (৩১ মার্চ) গনমাধ্যম কর্মীদের উপস্থিতিতে বৃদ্ধ কৃষক আবদুল হাইয়ের কাছ গত ২৮মার্চ নেয়া ঘুষের ৪হাজার টাকা ফেরত দাবী করেন ব্যাংক ম্যানেজারের কাছে। পরে ব্যাংক ম্যানেজার দীনেশ চন্দ্র পাল ও ঋন কর্মকর্তা মোঃ রায়হান বৃদ্ধ থেকে নেয়া ৪হাজার টাকা ফেরত দেন।
বৃদ্ধ আবদুল হাইয়ের নিকট থেকে কিসের টাকা নেয়ার জন্য জানতে চাইলে ব্যাংক ম্যানেজার দীনেশ চন্দ্র পাল কোন কথা না বলে নীরব থাকেন। অন্যদিকে ঋন কর্মকর্তা রায়হান বলেন, কৃষক আবদুল হাইয়ের ৭০,০০০ টাকা ঋন পাশ করে দিলে তিনি আমাকে খুশি হয়ে এক হাজার টাকা দিয়েছিলেন।
ভুক্তভোগী আবদুল হাই জানান, তিনি গত ২৯/১১/২০১৬ তারিখে লক্ষ্মীপুরের দালাল বাজার জনতা ব্যাংক শাখা থেকে ৪০,০০০ টাকা টাকা কৃষি ঋণ নং বোর ২৬/২০১৬- ২০১৭ গ্রহণ করেন। পরবর্তিতে মেয়াদ শেষে গত ৩/৩/২০১৯ তারিখে নিকটাত্মীয়দের কাছ থেকে ধার করে সুদ-আসল মিলিয়ে ৪৯,৮৯৯ টাকা পরিশোধ করেন। ব্যাংক ঋন শোধ করার পর নতুন মেয়াদে ৭০,০০০ টাকা ঋন পাওয়ার আবেদন করলে গত ২৭/৩/২০১৯ তারিখে উক্ত ব্যাংকের ম্যানেজার দিনেশ চন্দ্র পাল ৭০০০ টাকা ঘুষ দাবী করে ভুক্তভোগীর ন্যাশনাল আইডি কার্র্ডের মূল কপি নিজের কাছে রেখে দেন।
অপরদিকে তার (আবদুল হাই) ঋনের ৭০হাজার টাকার প্রয়োজনটা বেশি হওয়ায় তিনি পরিচিত একজন লোক থেকে ৪হাজার টাকার ধার করে ব্যাংক ম্যানেজার দীনেশ চন্দ্র পালকে ৩হাজার ও ঋন কর্মকর্তা মোঃ রায়হানকে ১হাজার টাকা প্রদান করলে আইডিকার্ড ফেরত দেয়া হয়। পরে ব্যাংক থেকে কৃষি ঋণ বোর ২৮/২০১৮-২০১৯ তারিখে ৭০হাজার টাকা ঋন মঞ্জুর করেন।
ঘুষ গ্রহণের বিষয়টি কৃষক আবদুল হাই দুদকের নোয়াখালী অঞ্চল উপ-পরিচালক বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন।