লক্ষ্মীপুরে লঞ্চ সার্ভিস ভেলকি : এ দায় কার?

নিজস্ব প্রতিবেদক :
লক্ষ্মীপুরে দীর্ঘ প্রতীক্ষার লঞ্চ সার্ভিস কাগজে কলমে চালু হলেও বাস্তবে ভেলকিবাজি..! প্রভাবশালী লঞ্চ মালিক ও লক্ষ্মীপুর (সদর) স্থানিয় সংসদ সদস্যর সমন্বয়হীনতার খেসারত দিতে হচ্ছে লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী এবং ভোলা জেলার কাঙ্খিত যাত্রীদের। নির্দিষ্ট সময় পার হলেও লঞ্চ সার্ভিস চালু না করে একে অপরের দিকে ছুড়ে দিচ্ছেন অভিযোগের তীর।

লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ বলছে লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর হাট ও ঢাকা রুটে চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে বোগদাদীয়া-৮ নামে একটি বিলাসবহুল লঞ্চ। কিন্তু স্থানীয় সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল সময় না দেওয়ায় লঞ্চটি যাত্রা শুরু করতে পারছে না। অন্যদিকে অভিযোগটি অস্বীকার করে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল বলছেন, নিজেদের সমস্যার কারনে যথাসময়ে লঞ্চটির যাত্রা শুরু করতে পারেনি মালিকপক্ষ। আর এখন দোষ চাপাচ্ছে আমার উপরে। লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ যদি কালকে আমাকে প্রয়োজন মনে করে, তাহলে কালকেই সময় দিতে প্রস্তুত রয়েছি।

এ ব্যাপারে ঢাকা টু লক্ষ্মীপুর লঞ্চ চাই পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পলোয়ান বলেন, নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ লক্ষ্মীপুর-ঢাকা রুটে লঞ্চ চালুর অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত লঞ্চটির যাত্রা শুরু হয়নি। এটি নতুন কোন ষড়যন্ত্র হতে পারে..!

বোগদাদীয়া লঞ্চের সুপারভাইজার আবদুর রহিম বলেন, লক্ষ্মীপুরের স্থানীয় সংসদ সদস্য মহোদয় সময় দিতে পারলেই আমরা লঞ্চ সার্ভিসটি চালু করবো। ২/৩ বার সময় চাইতে উনার কাছে গেলেও তিনি সময় দিতে পারেনি।

লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেন, নিজেদের সমস্যার কারনে যথাসময়ে লঞ্চটির চালু করতে পারেনি মালিকপক্ষ। আর এখন দায় চাপাচ্ছে আমার উপরে। লঞ্চ মালিক কর্তৃপক্ষ যখনই আমাকে প্রয়োজন মনে করবেন আমি প্রস্তুত রয়েছি।

উল্লেখ. (গত ৩ মার্চ, রবিবার) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ লক্ষ্মীপুর মজুচৌধুরীর হাট-ঢাকা রুটে লঞ্চ চলাচলের অনুমোদন দেয়। পাশাপাশি (৩১ মার্চ, রবিবার) পর্যন্ত বোগদাদীয়া-৮ নামে একটি লঞ্চ চলাচলের সময়সূচিও নির্ধারন করেন। কিন্তু বাস্তবে এর কিছুই হয়নি।