শনির দশায় পেয়েছে লক্ষ্মীপুর লঞ্চকে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

চট্টগ্রাম বিভাগের অন্তর্ভুক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা লক্ষ্মীপুর। মেঘনা বিধৌত এ জেলায় রয়েছে ভুলুয়া, ডাকাতিয়া, রহমত খালিসহ ছোটবড় অসংখ্য নদী ও খাল। এ জেলার উপর দিয়ে দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের প্রায় ২১টি জেলার মানুষ রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন যায়গায় যাতায়াত করে। আর এ যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম সড়কপথ। যদিও ঢাকার সঙ্গে যোগাযোগের জন্য রয়েছে নৌ-পথ। অথচ সহজ যোগাযোগের জন্য সম্ভাবনাময় এ জেলায় চালু নেই লঞ্চ সার্ভিস।

জানা যায়, ১৯৮৪ সালের (২৮ ফেব্রুয়ারি) লক্ষ্মীপুর স্বতন্ত্র জেলা হিসাবে আত্মপ্রকাশ করে। এই জেলার মোট আয়তন ১৪ হাজার ৫৬ বর্গ কিঃ মিঃ। যার পশ্চিমে ভোলা, পূর্বে নোয়াখালী, উত্তরে চাঁদপুর ও দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর অবস্থিত। এখানে মেঘনা, ভুলুয়া, ডাকাতিয়া, রহমত খালিসহ রয়েছে ছোটবড় অসংখ্য নদী ও খাল। লক্ষ্মীপুর থেকে ঢাকা লঞ্চ চালুর জন্য ১৯৭২ সাল থেকেই দাবি করে আসছেন জেলার বাসিন্দারা। অবশ্যই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময় এ দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস দিলেও তা এখনও বাস্তবায়ন করা হয়নি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার বাসিন্দা ফয়সাল কবির বলেন, জেলাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় প্রশাসন কয়েকবারই ঢাকা-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ সার্ভিস চালুর বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। সর্বশেষ গত রবিবার (৩ মার্চ) বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এই রুটে লঞ্চ চলাচলের অনুমোদন দেয়। পাশাপাশি রবিবার (৩১ মার্চ) পর্যন্ত বোগদাদীয়া-৮ নামে একটি লঞ্চ চলাচলের সময়সূচীও নির্ধারন করেন। কিন্তু বাস্তবে এর কিছুই হয়নি। এ যেন ‘কাজীর গরু কাগজে আছে, গোয়ালে নেই’।

তিনি আরো বলেন, বারবার আশ্বাস আর অনুমোদনের পরও চালু হচ্ছে না লঞ্চ সার্ভিসটি। তাই ফয়সাল মনে করেন, ঢাকা-লক্ষ্মীপুর লঞ্চ সার্ভিসকে শনির দশায় পেয়েছে। এই শনির দশা কাটাতে হলে, সকল শ্রেনীপেশার লোকদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অন্যথায় লঞ্চ সার্ভিসটি স্বপ্নই থেকে যাবে।

এ ব্যাপারে ঢাকা টু লক্ষ্মীপুর লঞ্চ চাই পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আবদুস সাত্তার পলোয়ান বলেন, লঞ্চ সার্ভিস চালুর জন্য বিভিন্ন সময় জেলাবাসীকে নিয়ে মানববন্ধন, পোস্টার, লিফলেট বিতরণ ও স্বারকলিপিসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন। তারই প্রেক্ষিতে নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ এই রুটে লঞ্চ চালুর অনুমোদন দিয়েছেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত লঞ্চটির যাত্রা শুরু হয়নি। তাই তিনি এটিকে নতুন কোন ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন।

বোগদাদীয়া লঞ্চের সুপারভাইজার আবদুর রহিম বলেন, এই রুটে চলাচলের জন্য সম্পূর্ন প্রস্তুত রয়েছে বোগদাদীয়া-৮ নামে একটি বিলাসবহুল লঞ্চ। কিন্তু স্থানীয় সাংসদ এ কে এম শাহজাহান কামাল সময় না দেওয়ায় লঞ্চটি যাত্রা শুরু করতে পারছে না।

এদিকে অভিযোগটি অস্বীকার করে লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য এ কে এম শাহজাহান কামাল বলেন, নিজেদের সমস্যার কারনে যথাসময়ে বোগদাদীয়া-৮ লঞ্চটির যাত্রা শুরু করতে পারেনি মালিকপক্ষ। আর এখন দোষ চাপাচ্ছে সাংসদের উপর। লঞ্চটির যাত্রা শুরুর জন্য যখনই সাংসদকে প্রয়োজন মনে করবেন মালিকপক্ষ, তখনই তিনি সময় দিবেন।

শীর্ষ সংবাদ/এফএইচ