যে কারণে উপ‌জেলা নির্বাচ‌নে বি‌দ্রোহী প্রার্থী‌দের প্র‌তি নমনীয় আ.লীগ

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের চতুর্থ ধাপের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ৩১ মার্চ। এ উপলক্ষে চেয়ারম্যান পদে নিজেদের প্রার্থীদের তালিকা চুড়ান্ত করেছে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ। অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ১৬ জেলার ১২২ উপজেলায় একক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হলেও আওয়ামী লীগ থেকে যারা মনোনয়নবঞ্চিত হয়েছেন তারাও নির্বাচন অফিসে মনোনয়নপত্র দাখিল করছেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে বিদ্রোহী প্রার্থী নিয়ে নমনীয় আওয়ামী লীগ। কারণ বিদ্রোহী দমনে কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি।

আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা নির্বাচনে বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল উপজেলা নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় নির্বাচনের আমেজ হারাতে পরে। সেজন্য একাধিক প্রার্থী প্রত্যাশা করছে ক্ষমতাসীনরা। এই সুযোগে প্রতিটা উপজেলায় আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থীরা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেয়ার সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। যদিও যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে মাঠে থাকবেন তাদের নজরে রাখবে আওয়ামী লীগ।

চতুর্থ ধাপের প্রার্থী তালিকা চুড়ান্ত করতে শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবনে আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভা থেকে প্রার্থী তালিকা চড়ান্ত করা হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন আমির হোসেন আমু, তোফায়েল আহমেদ, ওবায়দুল কাদের, শেখ ফজলুল করিম সেলিম, আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক খান, মাহবুব-উল আলম হানিফ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও আবদুস সোবহান গোলাপ।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্রভাবে অংশ নেয়া বিভিন্ন প্রার্থীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, নির্বাচনে যেহেতু বিএনপিসহ কয়েকটি রাজনৈতিক দল অংশ নিচ্ছে না, তাই নির্বাচনকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করার জন্য তারা অংশ নিচ্ছেন। নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ করতে এমন সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন তারা।

এদিকে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন না পেয়ে যারা স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্যের অভিযোগ আনছেন আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীরা। তবে জয়ের বিষয়ে আশাবাদীও রয়েছেন আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়নবঞ্চিত অনেক স্বতন্ত্রপ্রার্থী।

এব্যাপারে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম বলেন, আমরা চাই উপজেলা নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক হোক, এটা হওয়া উচিত। বিভিন্ন জায়গা থেকে আমরা খবর পাচ্ছি একাধিক প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। তাদের বিষয়ে আমরা খোঁজ-খবর নিচ্ছি।

এর আগে প্রথম দফা উপজেলা নির্বাচনের পূর্বে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেছিলেন, উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে দল মনোনীত বা বিদ্রোহী প্রার্থী যেই জিতুক, তিনি আওয়ামী লীগেরই হবেন। বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলে যদি নৌকার প্রার্থী না জেতে, তাহলে বিদ্রোহী প্রার্থী জিতবে। তিনিও তো আওয়ামী লীগেরই। বিএনপি অংশ না নিলে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে এতে যদি দলে অভ্যন্তরীণ বিবাদ বাড়ে, তাতে বিএনপির লাভ কি? রেজাল্ট তো আর তাদের পক্ষে আসবে না।

উপজেলা নির্বাচনে কেউ বিদ্রোহী প্রার্থী হলে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হবে কিনা এমন প্রশ্নের তিনি বলেন, প্রার্থিতা প্রত্যাহারের আগে কাউকে বিদ্রোহী বলতে পারি না। নির্বাচনে প্রার্থিতা ঘোষণার পরও প্রার্থিতা প্রত্যাহার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

নির্বাচন কমিশন ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রথম ধাপে ৮৭ উপজেলায় ১০ মার্চ, দ্বিতীয় ধাপে ১২৯ উপজেলায় ১৮ মার্চ, তৃতীয় ধাপে ২৪ মার্চ ১২৭ উপজেলায় ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া চতুর্থ ধাপ ৩১ মার্চ এবং পঞ্চম ধাপে ১৮ জুলাই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।